ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ফিলিস্তিনে নৃশংসতার স্থায়ী সমাধান চাই
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ১১:২১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 47

পৃথিবী আজ অসুস্থ। করোনা ব্যতীত অন্য একটি জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে বিশ^জুড়ে। অমানবিকতা তার নাম। এই ব্যাধির সিমটম বিশ^ বিস্তৃত চলমান হত্যাযজ্ঞ, অরাজকতা ও সহিংসতা। যে অমানবিকতা ও সামর্থ্য প্রতিষ্ঠার প্রবণতা জন্ম দিয়েছিল প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের। মানব হত্যায় মেতে উঠেছিল দুনিয়া। সেই ধ্বংসলীলা আজও বিদ্যমান পৃথিবীর বুকে। বিশ^ তৃষ্ণাদগ্ধ। মানুষের রক্তই যেন তার একমাত্র পানীয়। বলছি ফিলিস্তিনের কথা। যারা শোষণ, অমানবিকতা ও সহিংসতার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আসছে সুদূর অতীত থেকে। নিজ দেশেই তারা আজ ভাড়াটিয়া। নিজের মাটিতে পা চালাতে হয় বিদেশি পরাশক্তির নিয়ম মেনে। বোমা ও বন্দুকের নলের সম্মুখে তাদেরকে যুগ যুগ ধরে দমিয়ে রাখা হয়েছে। একটু একটু করে দখল হয়ে যাচ্ছে পুরো দেশ। মুখ খুললেই ইসরাইলি অস্ত্র দেহ করে দেয় ছিন্ন ভিন্ন। ফিলিস্তিনি বিদ্রোহের কড়া জবাব দিতে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র সদা তৎপর। একটি জাতির ওপর শত বছর ধরে নির্যাতন চলছে, পশু হত্যার চেয়ে সহজ রূপে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তবুও কেন বিশ^ নেতারা মৌন দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ইসরাইলকে ফিলিস্তিনের একটি বৃহৎ অংশের অবৈধ দখলদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড বলা হয়। এ রাষ্ট্রের জন্মই অপরাধ থেকে। রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে তাদের অপরাধকর্ম আরও বেড়ে যায়।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার ও দখলের সুষ্ঠু বিচার ব্যতীত কোনো সমাধানের ফলাফল দীর্ঘমেয়াদি হবে না। উল্লেখ্য, এ যুদ্ধ জয় একা ফিলিস্তিনের পক্ষে সম্ভবপর নয়। প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত ছিল ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার। যেটা ইসলামী স্থানসমূহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মুসলিম রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত। তবে তাদের গৃহীত কোনো পদক্ষেপই লক্ষ করা যায় নি। বরং তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদির মতো কিছু রাষ্ট্র পৃথক পৃথকভাবে এগিয়ে এসেছে। আবার, ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দুটি দল হামাস আর আল-ফাতাহর অনৈক্য ও মতবিরোধিতা ক্রমেই ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রামকে দুর্বল করছে। অন্যদিকে ইসরাইলের বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ তাদের শক্তির অন্যতম বৃহৎ উৎস। তারা পিছিয়ে আসলে ইসরাইলের ক্ষমতা ও সহিংসতা ক্রমেই হ্রাস পাবে। দেশটি চলছে সহিংসতা ও অন্যায়ের পথ ধরে। যারা ইসরাইলের সমর্থন করছে তারা সরাসরি সহিংসতাকে সমর্থন করছে। সহিংসতাবিরোধী এই লড়াইয়ে ইসরাইলের নিঃসঙ্গতা অতীব জরুরি। সেই সঙ্গে আল-ফাতাহ ও হামাসের মধ্যকার দলাদলির নিষ্পত্তি ঘটিয়ে এক জোট বেঁধে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করা উচিত। নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ইতি টেনে শান্তির বাতাসে সুরভিত হোক পৃথিবী। অমানবিকতাকে হারিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হোক ফিলিস্তিনে।

ষ  আসিফ হোসেন শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]