ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ঢাকাকে আধুনিক বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলুন
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ১১:২১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 45

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) বিশে^র বসবাসযোগ্য শহরের নতুন র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে। এই তালিকার শেষ দিক থেকে চার নম্বর স্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। বিভিন্ন দেশের শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে ১৪০টি শহরের র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সেখানে ১৩৭ নম্বরে রয়েছে ঢাকা। গত ৯ জুন বসবাসযোগ্যতার দিক থেকে বিশে^র ১৪০ শহরের এ তালিকাটি প্রকাশ করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। নতুন এই জরিপ অনুসারে ২০২১ সালে বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড। দ্বিতীয় অবস্থানে জাপানের ওসাকা। তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড।
তালিকায় একেবারে তলানিতে রয়েছে সিরিয়ার দামেস্ক। ১৪০টি শহরের তালিকায় শহরটির অবস্থান ১৪০তম। ১৩৯তম অবস্থানে রয়েছে নাইজেরিয়ার লাগোস। ১৩৮তম অবস্থানে পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোরেসবি। এ ছাড়া ১৩৬তম অবস্থানে আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, ১৩৫তম অবস্থানে লিবিয়ার ত্রিপোলি ও ১৩৪তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি। সার্বিক ব্যবস্থা ও অবস্থা কতটা খারাপ হলে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্কের কাছাকাছি ঢাকার অবস্থান হয়।
উড়োজাহাজ থেকে যদি ঢাকা শহর দেখা হয়, তবে বিল্ডিং ছাড়া কিছু দেখা যাবে না। এটার মূল কারণটা হচ্ছে, অতিরিক্ত মানুষের চাপ। কাজের সন্ধানে মানুষ যেভাবে ঢাকামুখী হয়েছে, যে শহরটাতে ৩০-৪০ লাখ মানুষ থাকার কথা সেটাতে দুই-আড়াই কোটি লোক থাকে। তাহলে শহরটির চেহারাতো এ রকমই হবে।
আন্তর্জাতিক অনেক জরিপে রাজধানী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমরা দেখতে পাই, এখানে বসবাসের মতো অবস্থা নেই। তারপর রয়েছে যানজটের মতো একটা বড় সমস্যা। এই সমস্যাগুলো দূর করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাই। সরকার অনেকগুলো ফ্লাইওভার করেছে, ইউলুপ করা হয়েছে। কিছু কিছু ইউলুপ এখন জ্যামের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বোঝা যাচ্ছে এগুলো নির্মাণে যথাযথ পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।
এখন আবার মেট্রোরেলের কাজ হচ্ছে, হয়তো দ্রুতই কাজ শেষ হবে। ঢাকায় অনেকগুলো ফ্লাইওভার হয়েছে। এগুলো চালু হওয়ার পরও যেন যানজট মুক্ত হচ্ছে না। ঢাকায় এমন সড়ক আছে যেখানে রিকশা নিয়েও প্রবেশ করা যায় না, আবার গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায় না। ঢাকার একদিক থেকে অন্যদিকে কোনো কাজে গেলে একটা পুরো দিন শেষ হয়ে যায়। নতুন ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে অবশ্যই সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার আয়তন বাড়ছে। পরিকল্পনা না থাকলে কিছু করা সম্ভব হবে না।
মুক্ত বাতাস, ভালো রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানি একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু নগরবাসী কি এসব মৌলিক সুবিধাগুলো পাচ্ছে? ঢাকায় ৬০ শতাংশ নাগরিকের বসবাস বস্তিতে। তাদের জন্য আমরা টেকসই কিছু করতে পেরেছি? ভবিষ্যতে তাদের জন্য কী করতে চাই; সেটিরও কোনো ব্যাখ্যা নেই। বস্তিতে আগুন লাগলে দেখা যায়, পুরো বস্তিই পুড়ে যায়। বস্তি রক্ষা করা যায় না। এতে বস্তির সবার আশ্রয় হয় খোলা আকাশের নিচে। ফায়ার সার্ভিস কিছুই করতে পারে না। বস্তিতে মাদকের ব্যবসা হয়, অসামাজিক কার্যকলাপ হয় এসব অভিযোগ তুলে তাদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না। বস্তিবাসীদের জন্য আলাদা চিন্তা করতে হবে। তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হবে। বস্তিবাসীর উন্নয়ন না করলে আমাদের নগরগুলো বাসযোগ্য হবে না। দেশে এরই মধ্যে যেসব বড় বড় শহর হয়ে গেছে, সেসব শহর নিয়ে পরিকল্পনা নেওয়া কঠিন। তবে পূর্বাচলসহ নতুন করে যেসব শহর হতে যাচ্ছে, সেগুলো নিয়ে যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তা বাস্তবমুখী কি না যাচাই করতে হবে, বাস্তবমুখী হলে তার যথাযথ বাস্তবায়ন হতে হবে।
নগরবাসীর দুটি অন্যতম ভোগান্তি রয়েছে। একটা হচ্ছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি। আরেকটা হচ্ছে একটু বৃষ্টিতে ঢাকা শহর ডুবে যাওয়া। আমাদের দেশে বর্ষাকালে রাস্তা খুঁড়ে কাজ করার বিষয়ে সব সময় পত্রপত্রিকা সংবাদ পরিবেশন করে থাকে। কিন্তু ঘুরে-ফিরে সেই বর্ষাতেই খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি করলে রাস্তা পরিষ্কার করা যায় না। এর কারণে রাস্তায় জমে থাকা বালি বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনে পড়ে ড্রেনের পানি যাওয়ার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ওয়াসার অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ কাঠামো আছে তারপরও পানি যাচ্ছে না। কোথায় যাবে পানিটা? যাবে খালে। কিন্তু খালই তো নেই। ঢাকা শহরে কাগজে-কলমে ৪৩টি খাল আছে। যার মধ্যে উত্তরায় আছে ২৫টি। এগুলো থেকে এখন লাইফ সাপোর্টে ১২-১৩টি খাল আছে। বাকিগুলো হারিয়ে গেছে। খালগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত রয়েছে। বর্জ্য ব্যবহার থেকে সার ও বিদ্যুৎ তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বাসযোগ্য নগর গঠনে এটা খুব জরুরি।
রাজধানীতে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। শুধু রমনা পার্কের গাছ দেখে সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। রাস্তার পাশেও বড় বড় গাছ থাকতে হবে। কেউ কেউ রাস্তার পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে পড়ার কথা বলেন। সেটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে। তারপরও গাছ লাগাতে হবে। ঢাকার চারপাশে থাকা চারটি নদীকে বাঁচাতে হবে। হাতিরঝিলকে বাঁচাতে হবে। হাতিরঝিলের পাশ দিয়ে গেলে দুর্গন্ধ বের হয়। এটা দূর করতে হবে। রমনা পার্ক ও হাতিরঝিলের মতো আরও দুয়েকটা প্রকল্প ঢাকা শহরে স্থাপন করতে হবে।
দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ায় দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে। উন্নয়নের এই ছোঁয়া কম-বেশি লেগেছে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে। নগরায়ণের ক্ষেত্রে ঢাকাকে নিয়ে কিছুটা পরিকল্পনা থাকলেও অন্য সব এলাকায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। রাজধানীতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য হিসেবে এখনও গড়ে ওঠেনি ঢাকা। আধুনিক নগরায়ণের জন্য প্রয়োজন আরও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বিদ্যমান আইনের বাস্তবায়ন।

ষ  এটিএম মোসলেহ উদ্দিন জাবেদ ঢাকা





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]