ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মহামারিতেও সচল অবকাঠামোগত উন্নয়ন
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ১১:২১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 38

করোনা মহামারি সারা বিশে^র জন্য আতঙ্কের নাম। পৃথিবীর সব দেশে ও অঞ্চলে এ ভাইরাসের বিস্তার। বিশে^র সবার জন্য কিছু না কিছু ক্ষতি বয়ে নিয়ে এসেছে মহামারি করোনা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে অর্থনীতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে। তবে কিছু দেশ মহামারির সমস্যা অনেকাংশে কাটিয়ে উঠে দেশের অগ্রগতি সমান গতিতে ধরে রেখেছে। আমাদের দেশেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন মহামারির আগের মতোই চলছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সফলতা এসেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুসহ, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র এবং ওয়ান সিটি টু টাউন প্রকল্পগুলোতে।
এক. বর্তমানে দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের সর্বাগ্রে আছে ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতু’। দেশের কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু পূর্ণ অবয়ব পায় গত ১০ ডিসেম্বর। সেতুর ৪১তম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো সম্পূর্ণরূপে দৃশ্যমান হয়। মহামারি সত্ত্বেও এভাবে সারাটা বছরজুড়ে কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সেতুর সড়ক পথের কংক্রিটের সø্যাব বসানোর কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া সেতুতে রেল লাইনের কাজও অনেকাংশে এগিয়েছে। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, সেতুর সব কাজ শেষে আগামী বছর জুন মাসে সেতুতে গাড়ি চলাচল করতে পারবে বলে ধারণা সেতু নির্মাণ কর্তৃপক্ষের। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেখা যায় দেশে মহামারির তাণ্ডব থাকলেও পদ্মা সেতুর কাজের ধারাবাহিকতায় কোনো আঘাত আসেনি। এভাবে সেতুর কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিগগিরই সবার জন্য উন্মুক্ত হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
দুই. দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র। ২০১৭ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দেশের ১৩টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর অনেক প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ। মহামারির শুরুর দিকে গত বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে এক লাখ তেরো হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজের মাত্র ২৬ শতাংশের মতো শেষ হয়েছিল। করোনার প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলেও রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। গত বছরের শেষের দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩১ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়। কিন্তু ২০২১ সালের শুরুর দিকে মহামারিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে প্রকল্পের কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে। যার ফলে চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত সার্বিক কাজে অগ্রগতি হয় ৩৫ শতাংশ। এভাবে কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অহঙ্কার হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
তিন. বর্তমান সরকারের এক অবিস্মরণীয় সাফল্য মেট্রোরেল। ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২০ সালের শুরুর দিকে মহামারি প্রাদুর্ভাব শুরু হলে প্রথমদিকে কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়। তবে কর্তৃপক্ষের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মহামারির মধ্যেও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। যদিও এ প্রকল্পে প্রায় ৬৬১ জন শ্রমিক করোনা মহামারিতে আক্রান্ত হয়, তবুও থেমে থাকেনি স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। ফলে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ২৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেই দেশে পৌঁছেছে মেট্রোরেলের প্রথম কোচ। কাজের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দ্রুতই মেট্রোরেল প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। আশা করা হচ্ছে মেট্রোরেলের কাজ সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন সড়কপথে অস্বস্তিকর যানজট কমে আসবে অন্যদিকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ যাতায়াত করতে পারবে ঢাকাবাসী।
চার. দেশের সাফল্যগাথায় অন্যতম এক অর্জন হতে চলছে ওয়ান সিটি টু টাউন প্রকল্প। চীনের সাংহাই শহরের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউন গড়ে তুলতে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। মহামারির শুরুতে গত বছরের মার্চ মাসের দিকে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫১ শতাংশ। মার্চ মাসে দেশে মহামারির ভয়াবহতা শুরু হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত এ প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৬.৫ শতাংশ। কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে কর্ণফুলী টানেলের কাজ শেষ হওয়ার মাধ্যমে চীনের সাংহাই সিটির মতো চট্টগ্রাম শহরকে ওয়ান সিটি টু টাউন মডেল গড়ে তোলা হবে।
এসব মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সারা দেশে বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দেশের উন্নয়নে মহামারি ক্ষতি সৃষ্টি করলেও বর্তমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সব বাধা উপেক্ষা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা, ‘সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ’ তাদের এক রিপোর্টে পূর্বাভাস দিয়েছে, মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের ধারা অব্যাহত রেখেছে তা ঠিক থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি বিশে^র ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। দেশের উন্নয়ন ও সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে এটা সবার প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সবাইকে দুর্নীতি পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করে সামগ্রিক দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সব বাধা উপেক্ষা করে বিশে^র বুকে উন্নয়নের আদর্শ মডেল হবে এটা সবার প্রত্যাশা।

ষ  মু’তাসিম বিল্লাহ মাসুম
    শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
    জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]