ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

দৈনিক করোনা শনাক্ত ৩ হাজার ছাড়াল
টিকাগ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ১১:২১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 62

গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩১৯ জনের। যা গত ৫৩ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। সবচেয়ে বেশি ১৫ জন করে মৃত্যু হয়েছে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে। গত সোমবারও শনাক্ত হয় ৩ হাজার ৫০ জন, মৃত্যু হয় ৫৪ জনের। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এসব জানা গেছে।
মঙ্গলবার পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। সোমবার এই হার ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর থেকে বেশি শনাক্তের হার ছিল গত ২১ এপ্রিল, ১৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশে^ ছড়িয়ে পড়ে। দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষদিকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। এ বছরের মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ আবার বেড়ে যায়। মার্চের প্রথমার্ধেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে চলে যায়। বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৬ মার্চের আগে ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার উপায় হলো রোগী শনাক্তের হারের ওপর। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়।
চলতি বছরের মার্চের শেষ থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনও বহাল রয়েছে। এ বিধিনিষেধের মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণেও আসে। তবে গত মাসের মাঝামাঝিতে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বিধিনিষেধ ঢিলেঢালা হয়ে যায়। ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা ও যাতায়াতে বিপুল লোকসমাগম দেখে জনস্বাস্থ্যবিদরা এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর আশঙ্কা করেছিল, ঈদের পর সংক্রমণ আবার বেড়ে যাবে। এদিকে ভারতে করোনা সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তার ঢেউ আমাদের দেশে এসে আঘাত করে। সারা দেশে করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের সীমান্ত জেলাগুলোতে ইতোমধ্যে লকডাউনসহ নানা সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এসব অঞ্চলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার সংক্রমণ যাতে বাড়তে না পারে এ জন্য কোনোরকম ঝুঁকি না নিয়ে স্থানীয়ভাবে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন কোনো ভয়ভীতি নেই। সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকার ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ ঘোষণা করেছে, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষার প্রচারণাও চালাচ্ছে, সর্বোপরি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও চলছে। কিন্তু এতেও মানুষের বোধোদয় হচ্ছে না। গণপরিবহন, হাট-বাজার, বিপণিবিতান, মার্কেট, লঞ্চ-স্টিমারে অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। করোনা মোকাবিলায় সরকার তৎপর হলেও নাগরিকদের অনেকেই উদাসীন। এ অবস্থার উত্তরণ জরুরি।
দেশে আবার গণটিকা দেওয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। চুক্তি অনুযায়ী টিকা সময়মতো না পাওয়ার ফলে গণটিকা কর্মসূচি সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইতোমধ্যে চীন এবং রাশিয়া থেকে টিকা আনা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীন থেকে ১০ লাখের ওপর টিকা দেশে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দ্রুত সময়ে দেশে ৩ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলবে। টিকা নেওয়ার পর সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এ জন্য চলাফেরায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক পরা জরুরি। নইলে টিকা নিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো যাবে না। আজ দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়া স্বাস্থ্যবিধি না মানার জের মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান এ পরিস্থিতিতে মাস্ক পরুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। তা হলেই কেবল অতিমারি করোনাকে রোধ করা সম্ভব হবে।




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com