ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদন
ব্যয় বাড়াতে কাজ না করে ২ বছর বসে আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ১১:২৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 17

নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ১ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জুনের (চলতি মাস) মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হতে চললেও অগ্রগতি মাত্র ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও ১ বছর সময় চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন করে সময় বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
আইএমইডি বলছে, প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রায় ২ বছর সময়ে মাত্র ১ দশমিক ৫০ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি অর্জন করে ব্যয় বৃদ্ধিসহ প্রকল্প সংশোধনের লক্ষ্যে ১ বছর সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করার বিষয়টি পরিকল্পনা শৃঙ্খলা ও একনেকের সদয় অনুশাসনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া নতুন করে ১ বছর বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন ১ মাসের মধ্যে আইএমইডিতে প্রেরণ করার শর্তে প্রকল্পের মেয়াদ ১ বছর বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।
সভায় ১ বছর বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে কীভাবে সম্পন্ন করা হবে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পটি সংশোধন করার লক্ষ্যে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবে প্রাক্কলিত ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলেও জানানো হয়।
প্রকল্পটির বিষয়ে বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী সময়ের আলোকে বলেন, দুই বছরে প্রকল্পে দেড় শতাংশ অগ্রগতি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হয়নি। তা হলে প্রকল্পে সঠিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। ভেরিভায়েড সার্ভে করা হয়নি। করা হলে তো এই দুই বছরে অগ্রগতি এত কম হতো না। তা হলে প্রকল্প দলিল প্রণয়নকালে অবশ্যই ভুল ছিল।
প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছে ৬৪টি একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ, ১৩টি ৭ তলা ভবন নির্মাণ, ৫১টি ৫ তলা ভবন নির্মাণ, ৯টি প্যাকেজে মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়, ৫টি প্যাকেজে আসবাবপত্র ক্রয় এবং ৩ হাজার ৯০০ জনকে স্থানীয় প্রশিক্ষণ ও ১ হাজার ৬২৪ জনকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ প্রদান। সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের কাজগুলোর মধ্যে ১টি ব্যতীত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ত কাজের দরপত্র আহ্বান করে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্প অফিসের জন্য ১৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকার অফিস সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে। এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল কোর্সের ১৪টি ট্রেডের মধ্যে ২টি ট্রেডের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুমোদন করা হয়েছে। অন্যান্য প্যাকেজের আসবাবপত্রের স্পেসিফিকেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের মধ্যে ৬১টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ২৪টি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ কাজ চলছে। ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ৩১টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলমান আছে। চাঁদপুর, বান্দরবান ও ঝালকাঠি জেলায় দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে। স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের স্কুল ও কলেজের ল্যাবরেটরি, ওয়ার্কশপ, যন্ত্রপাতি ও জনবলের ঘাটতি পূরণ করা হবে। সেসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজকে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]