ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

তিন উদ্যোক্তাকন্যার গল্প
জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ৪:২১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 98

ময়মনসিংহের এক নারী উদ্যোক্তার নাম ফারজানা তাসনিম দিয়া। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস করে গৃহিণী হিসেবেই চলছিল তার জীবন। সেলাই ও তুলির কাজ ভালো জানেন দুই শিশু মেয়ের এই জননী।

বছরখানেক আগে ‘সভ্যতার ছোঁয়া’ কালেকশন নামে একটি পেজ খুলে শুরু করেন অনলাইন ব্যবসা। ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়তে থাকে তার। সব কিছু সামলিয়ে ব্যবসায় সময় দিয়ে তিনিও করোনাকালীন সময়ে বিক্রি করেছেন দুই লাখ টাকার পণ্য।

তিনি বলেন, আমি আমার ব্যবসার শুরুটা করি জামালপুরের হাতের কাজের মাত্র ১০ পিস জামা নিয়ে।

প্রথম ধাপে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বেশ কঠিনই ছিল। তবে আমার বিজনেস শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই ছিল রোজার ঈদ। তার ওপর দেশে শুরু হয় করোনাভাইরাসের মহামারি। সবাই তখন ঝুঁকে পড়ে অনলাইন কেনাকাটায়। আমিও বেশ সাড়া পেতে শুরু করলাম। কিন্তু আমি ঢাকার বাইরে থাকার কারণে রেডিমেড প্রোডাক্ট কিনে এনে সেল দেওয়াটা বেশি লাভজনক মনে হয়নি আমার কাছে। তাই সিদ্ধান্ত বদলে মাত্র একজন কারিগর নিয়ে বাচ্চাদের সব ধরনের কাস্টমাইজড পোশাক নিয়ে কাজ শুরু করলাম। এখন আমার কারিগর আছে পাঁচজন। আর আমার ব্যবসার গতিও বেড়েছে অনেক।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে এখন নিজস্ব কারিগর দ্বারা তৈরি বাচ্চা ও বড়দের বাটিক, থ্রিপিস, কুশি ড্রেস, পার্টি ড্রেস, ছোট-বড় ছেলেদের পাঞ্জাবি বিক্রি করছি। এবারের ঈদে এত বেশি সাড়া পেয়েছি যে ১০ রোজা থেকেই অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২০১৬ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন সেলিনা আক্তার শেলি। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে দুই ছেলেমেয়ের স্কুল আর নিজের কলেজ বন্ধ থাকায় খুব অবসর সময় কাটছিল তার। ঠিক তখন মাথায় আসে অনলাইন বিজনেসের। উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্সের হাজারো নারীর দিন বদলের গল্প অনুপ্রাণিত করে তাকে। এরপর প্রথম ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করি আর সেই ৪০ হাজার টাকা পুঁজি থেকে আমার বর্তমানে এক বছরেই আয় প্রায় দুই লাখ টাকা।

তিনি বলেন, প্রথমে আমি থ্রিপিস আনি জামালপুর থেকে, ব্লক বাটিক আনি নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী থেকে। নতুন সংযোজন হিসেবে এনেছি রাজশাহী সিল্কের মসলিন শাড়ি, যা নিয়ে আসছি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। ‘সুশ্রী’ নামের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পরিচালিত হয় আমার অনলাইন ব্যবসা।

ময়মনসিংহ নগরীর কাচিঝুলি এলাকার তরুণী জান্নাতুল নাঈম রাত্রি। আনন্দ মোহন কলেজে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন তিনি। পুঁতি দিয়ে তৈরি করতে পারেন সুন্দর সুন্দর মালা-গহনা। শুরুতে মাত্র ১১৭ টাকা বিনিয়োগে একটি পুঁতির মালা দিয়ে অনলাইন ব্যবসায় নাম লেখান রাত্রি। চাকরি পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে তিনি গত দেড় বছরে বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার পণ্য।

বর্তমানে কুশির পণ্য নিয়ে বাড়তি নজর দিয়েছেন বলে জানান তিনি। রাত্রি বলেন, স্বল্প সুদে বা বিনা সুদে ঋণ পাওয়া গেলে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হবে। নিত্যপণ্য অনলাইনে বেচাকেনা হচ্ছে বেশি। তাই চাহিদা রয়েছে, এখন প্রয়োজন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]