ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ডিবিতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন পরীমণি
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ৯:৫৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 205

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুই ঘণ্টা ছিলেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমণি। এ সময় তিনি কখনও হেসেছেন আবার কখনও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। আবার নিজেকে সামলিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠেন। তবে পুলিশের তদন্তে তিনি আস্থা প্রকাশ করেছেন। ডিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে ডিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন পরীমণি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নাট্য নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী ও মেকআপম্যান জিমি। তাদের উপস্থিতিতে তাকে মামলার নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের ফাঁকে পরীমণিকে বিস্কুট ও চা দিয়ে আপ্যায়নও করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, পরীর কাছে পুরো ঘটনা জানতে চান ডিবির কর্মকর্তারা। এ সময় তার সঙ্গে আসা দুজন ছাড়াও একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তারা তাকে বিভিন্নভাবে সাহস দেন ঘটনাটি বলার জন্য। তাদের পাশে পেয়ে দৃঢ়তা নিয়েই পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন পরীমণি। তবে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কয়েক দফা অঝোরে কান্নায় ভেঙেও পড়েন হাল সময়ের এই জনপ্রিয় নায়িকা। আবারও কখনও হাস্যোজ্জ্বলভাবেও কথা বলেছেন তিনি। ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে ঢাকা বোট ক্লাব থেকে শুরু করে থানা পুলিশের সহযোগিতা ও হাসপাতালে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন পরীমণি। তাকে যে বোট ক্লাবে জোরপূর্বক মুখে তরল কিছু খাওয়ানো হয় সেই বিষয়টিও ডিবি পুলিশকে জানান তিনি।

ডিবি সূত্র আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পরীমণি ডিবিকে জানান, ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশের আইজিকে সরাসরি না জানিয়ে চলচ্চিত্র সমিতির মাধ্যমে বিষয়টি তাকে অবহিত করতে চেয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি সমিতির সাধারণ সম্পাদককে জানান। এরই মাঝে আইজিপি রাষ্ট্রীয় কাজে ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ায় মানসিক ট্রমা থেকে হতাশ হয়ে পড়েন পরীমণি। এ কারণেই ফেসবুকে লিখে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ও সংবাদ সম্মেলনে বলেও জানায় ডিবিকে। পরীমণি জানান, তিনি দ্বারে দ্বারে বিচার চেয়েছেন এমনটি বলতেও চাননি। এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয় পুলিশের ওপর তার আস্থা আছে কিনা। প্রতি-উত্তরে পরীমণি জানান, পুলিশের প্রতি তার কখনোই অনাস্থা ছিল না, সবসময় আস্থা ছিল এবং আছে।
পুলিশ ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে : পরীমণি ডিবি কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ছিলেন। এরপর বিকাল ৬টা ৫ মিনিটে তিনি বের হয়ে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ, গুলশান বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান ও এডিসি গোলাম সাকলায়েনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিবি কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে এসে পরীমণি বলেন, ‘পুলিশ ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে। ডিবি কার্যালয়ে এসে আমার রিফ্রেশমেন্ট হয়েছে। পুলিশ যে এত ম্যাজিক্যাল হয় তা এখানে এসে বুঝেছি।’ তিনি আরও বলেন, আমি নিজে থেকে ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছি। আমাকে কেউ ডাকেনি। এত দ্রুত কাজগুলো হয়ে যাবে আমি ভাবিনি। আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠু বিচার পাব। সবাই যে আমাকে এত ভালোবাসে বুঝিনি।

তার বক্তব্যের পর ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘পরীমণি বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য নায়িকা। তিনি আরেক দিক থেকে আমাদের ছোট বোন। মূলত পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতেই তিনি ডিবি কার্যালয়ে এসেছিলেন। আমরা মামলাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছি। যারা এই কাজটি করেছেন তারা যত বড় শক্তিশালীই হোক না কেন, আমরা তাকে ছাড় দেব না।’ তিনি আরও বলেন, আমরা এই মামলাটি যাতে শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তা দেখব।


আরও সংবাদ   বিষয়:  পরীমণি  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]