ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বাইডেন-পুতিন বৈঠক আজ: কী থাকছে আলোচনায়
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ৩:৪৩ পিএম আপডেট: ১৬.০৬.২০২১ ৪:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 73

প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বিশ্বের ক্ষমতাধর দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা। বুধবার জেনেভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতাই বৈঠক নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য ব্যবহার করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে বৈঠকটি বন্ধুত্বপূর্ণ না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সম্প্রতি রাশিয়া তাদের ''অবন্ধু-সুলভ দেশের'' তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাম যোগ করেছে। পুতিন বলেছেন, বাইডেন প্রশাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। আর গত মার্চে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সঙ্গে একমত হন যে, ভ্লাদিমির পুতিন আসলে ''একজন খুনি''।

কোন দেশেরই এখন অন্য দেশে কোন রাষ্ট্রদূত নেই। ঊর্ধ্বতন রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে নানা কারণে। রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া অঞ্চল দখল করে তা নিজদেশের অন্তর্ভুক্ত করেছে সেটি যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষিপ্ত করে। তাছাড়া অন্য দেশের নির্বাচনে রাশিয়া নাক গলায় এমন অভিযোগেও কিছু নিষেধাজ্ঞা দেয়া যুক্তরাষ্ট্র। দুজন সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা এখন রুশ কারাগারে বন্দী। এদের একজন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৬ বছরের সাজা খাটছে। 

মস্কোর এক থিংক ট্যাংক রিয়াকের পরিচালক আন্দ্রে কুর্টানভ বলেন, "প্রতীকী তাৎপর্যের কথা বিবেচনা করলে এই শীর্ষ বৈঠক বেশ গুরুত্বপূর্ণ; এটি রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে এক কাতারে স্থান দিচ্ছে। পুতিনের কাছে এই প্রতীকী ব্যাপারটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

জো বাইডেনের ইউরোপ সফর বেশ ব্যস্ততার মধ্যেই কাটছে, আলোচনার বিষয় অনেক। তিনি সোমবার ব্রাসেলসে নেটোর সদর দফতরে বৈঠক করবেন। কিন্তু তারপরও ইউরোপে তার সফর-সূচির শেষ গন্তব্য নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই- ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার একান্ত বৈঠকটি হবে বুধবার, জেনেভায়।

ইতিহাস কী বলছে 

ভ্লাদিমির পুতিন এবং জো বাইডেনের শীর্ষ বৈঠকটি হবে জেনেভায়। তাদের বৈঠকের জন্য জেনেভাকে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৮৫ সালে আরেকটি শীর্ষ বৈঠকের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেই বৈঠকে প্রথম মুখোমুখি হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগ্যান এবং সোভিয়েত নেতা মিখাইল গরবাচভ।

কিন্তু এমন সম্ভাবনা খুবই কম যে এ সপ্তাহের শীর্ষ বৈঠকটি সেই বৈঠকের মতো কিছু হবে। রেগ্যান এবং গরবাচভ যেভাবে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক স্থাপন এবং রাজনৈতিক বরফ গলাতে সক্ষম হয়েছিলেন, পুতিন-বাইডেন বৈঠক থেকে সেরকম কিছু আশা করা হচ্ছে না।

হোয়াইট হাউস বলছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে একটি স্থিতিশীল এবং অনুমানযোগ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু পুতিনের কাজের ধারা একেবারেই ভিন্ন। তিনি ২০১৪ সালে যখন সৈন্য পাঠিয়ে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রাইমিয়া দখল করে নিলেন, এই অঞ্চলটিকে নিজ দেশের অন্তর্ভুক্ত করলেন, তখন হতে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। তিনি এরপর কী করবেন, সেটা কেউ অনুমান করতে পারছেন না।

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতির শুরু তখন থেকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিলিয়া শেভটসোভা মনে করেন, এই শীর্ষ বৈঠকের একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে, দুপক্ষের ''রেড লাইন'' বা সর্বশেষ সীমারেখা কোথায় সেটা পরীক্ষা করে দেখা। "সেই সঙ্গে এরকম একটা উপলব্ধিতে পৌঁছানো যে, আলোচনার মাধ্যমেই এই অতল গহ্বর হতে উঠে আসতে হবে।"

কী থাকবে আলোচনায়?

ভ্লাদিমির পুতিন এ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "কিছু বিষয় আছে যেখানে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এক সঙ্গে কাজ করতে পারি।" এর মধ্যে আছে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন করে আলোচনা, সিরিয়া এবং লিবিয়ার পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে আলোচনা এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের মতো বিষয়।

রাশিয়ায় কেউ কেউ এমন ইঙ্গিতও দিচ্ছেন, চলমান "কূটনৈতিক যুদ্ধে" একটা সাময়িক বিরতিও আসলে সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক ডজন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে, দুটি রুশ দূতাবাস ভবনও বন্ধ করে দিয়েছে। এর পাল্টা রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে স্থানীয় লোকদের নিয়োগে বিধিনিষেধ দেয়া

শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো রাশিয়া বন্দী মার্কিন নাগরিকদের বিষয়টি তুলতে পারে। এদের মধ্যে আছেন পল হুইলান, যাকে ২০১৮ সালে গ্রেফতার করা হয় এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে যার সাজা হয়। হুইলান অবশ্য অভিযোগটি সবসময় অস্বীকার করেছেন।

রাশিয়া সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের ওপর চাপ দিচ্ছে। কিন্তু যেসব শর্ত তারা দিচ্ছে, সেগুলো মানা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব। পুতিন এককভাবে এক্ষেত্রে কোন ঔদার্যের পরিচয় দেবেন , সেটার সম্ভাবনাও কম। মস্কোর এটি আদালত রুশ বিরোধী দলীয় নেতা নাভালনির রাজনৈতিক দফতর এবং তার দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাকে ''চরমপন্থী'' বলে বর্ণনা করে নিষিদ্ধ করেছে। 

/এমএইচ/


আরও সংবাদ   বিষয়:  যুক্তরাষ্ট্র   রাশিয়া   জো বাইডেন   ভ্লাদিমির পুতিন  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]