ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ওরা ১৬ বিজ্ঞানী!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১, ১০:৫৬ পিএম আপডেট: ১৭.০৬.২০২১ ১২:৩৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 41

ওরা ১৬ জন। পড়াশোনা বেশিদূর না হলেও নিজেদের আন্তর্জাতিকমানের বিজ্ঞানী বলে দাবি করত। আসলে তারা ভুয়া বিজ্ঞানী। আর এই ভুয়া বিজ্ঞানী দলের প্রধান হলো সাইফুল ইসলাম (৫৪)। সে নিজেকে ‘সায়েন্টিস্ট সাইফুল’ বলে দাবি করত। শুধু সাইফুল নয়, তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূসহ পুরো পরিবার এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। সাইফুলসহ তার দলের ভুয়া বিজ্ঞানী পরিচয়ধারী সদস্যরা দাবি করত, তারা নিজ উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রতিকার দিতে পারে। জ্বালানিবিহীন জেনারেটর তৈরি ও পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনেও পারদর্শী। এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে করোনাকে পুঁজি করে করোনা প্রতিরোধক কয়েল উদ্ভাবনসহ অন্যান্য অভিনব আবিষ্কারের প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে তারা। এসব মনগড়া কথা বলে বিভিন্নজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। এভাবে চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার ঢাকার উত্তরা ও টাঙ্গাইল ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ভুয়া বিজ্ঞানী চক্রের ১৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।
গ্রেফতার ভুয়া বিজ্ঞানীরা হলোÑ টাঙ্গাইলের মৃত মৌলবি শামছুল হকের ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফ বিজ্ঞানী সাইফুল ওরফে সায়েন্টিস্ট সাইফুল, তার স্ত্রী বকুলি ইয়াসমিন (৪৬), তার ছেলে ইমরান রাজা (২৫), ইমরানের স্ত্রী কাকলী আক্তার (১৯), সাইফুলের আরেক ছেলে রোমান বাদশা (১৮), একই জেলার মৃত এমএ বাকী সিদ্দিকীর ছেলে আনিসুজ্জামান সিদ্দিকী (৫৩), জিন্নত আলীর ছেলে নাজমুল হক (৩০), ইয়াকুব আলীর ছেলে শিমুল মিয়া (২৪), মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে নুরনবী (৪৫), মৃত হানিফের ছেলে আবুল হাশেম (৪২), নুরুল ইসলামের ছেলে আলী হোসেন (৩৮), মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে শওকত আলী (৫০), গোপালগঞ্জের মৃত লোকমান মোল্লার ছেলে তারেক আজিজ (৪০), মৃত মোজাহার হোসেন মুন্সীর বেল্লাল হোসেন (৬১), নওগাঁর মৃত জসমতুল্লা মণ্ডলের ছেলে আব্দুল মান্নান (৫০) ও সিরাজগঞ্জের আব্দুস সালামের ছেলে রোকনুজ্জামান (৫০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গোলাবারুদ, দুই বোতল বিদেশি মদ, ছয়টি সিল, নগদ ৪৫ হাজার ৪৬০ টাকা, ২০টি মোবাইল ফোন, ১৪টি চেক বই, ১২টি ভিজিটিং কার্ড, ছয়টি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চিঠি, বিভিন্ন মূল্যের ১২১টি জাল স্ট্যাম্প, তিনটি চুক্তিনামা দলিল এবং ৯টি স্বাক্ষরিত চেক ও বিদেশি নেতাদের সঙ্গে পত্রালাপের ভুয়া কপি উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব জানিয়েছে, সাইফুল এই চক্রের মূল হোতা। সে ‘রাজা-বাদশা গ্রুপ’ নামে একটি ভুয়া সংগঠন তৈরি করে ২০১১ সাল থেকে প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এই গ্রুপের চেয়ারম্যান বলে পরিচয় দেয় সে। শুধু সাইফুল নয়, তার পরিবারের সদস্যরাও এই প্রতারণার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সাইফুল ১১ বছর ধরে এসব প্রতারণা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। সাইফুল ও তার সঙ্গীরা প্রতারণার মাধ্যমে ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রজেক্টের আওতায় নোয়াখালীতে প্রায় ৪৫০ বিঘা জমি ছাড়াও লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের ভালুকায় আরও হাজার বিঘা জমি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ কার্যক্রম চলমান রেখেছে। এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকায়ও জমি জালিয়াতি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।
র‌্যাব জানায়, সে নিজেকে একজন আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্নজনকে প্রলুব্ধ করত। এমনকি বিদেশে তার বিভিন্ন আবিষ্কার ও গবেষণা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে বলেও প্রচার করে বেড়াত। ইরাকের এক আইনজীবী তার উদ্ভাবিত প্রজেক্টে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে ইচ্ছা পোষণ করেছেন বলে প্রচার করত। এভাবে সে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে প্রতারিত করত।
র‌্যাব আরও জানায়, প্রতারক সাইফুল তার সংগঠনের মূল কার্যালয় উত্তরায় অবস্থিত হলেও টাঙ্গাইলের বেপারিপাড়ায় আরেকটি শাখা খুলে বসে। সেই অফিসে ১৫ জন সহযোগী ছিল। মাঠ পর্যায়ে আরও ৩০ জনের বেশি কাজ করত। মাঠ পর্যায়ের এজেন্টরা প্রাথমিক আলোচনা করে টার্গেট নির্ধারণ করত। পরে সেই ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলত সাইফুল।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]