ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

দুই শিশুসন্তানসহ মাকে গলা কেটে হত্যা: রহস্যের খোঁজে পুলিশ
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১, ৭:০৪ এএম আপডেট: ১৭.০৬.২০২১ ৭:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 92

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুই শিশুসন্তানসহ মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার রাতালগুলের ফতেহপুরস্থ বিন্নাকান্দি এলাকা থেকে তাদের গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও অন্য দুজন ওই নারীর শিশুসন্তান। আহত ব্যক্তি ওই নারীর স্বামী; তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে কী কারণে দুই শিশুসহ মাকে হত্যা করা হয়েছে- এর কোনো ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ। এই হত্যার পেছনে দুটি কারণ দেখছে পুলিশ। এর মধ্যে একটা জমি সংক্রান্ত অন্যটা পারিবারিক।

তাই আহত স্বামী সুস্থ হয়ে মুখ খুললেই তিন খুনের রহস্য বের হবে বলে মনে করছে পুলিশ। সময়ের আলোকে এমনটাই জানালেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. আবদুল আহাদ।

আহত স্বামী হিফজুর রহমান সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। হিফজুর রহমান পেশায় দিনমজুর। নিজের কোনো সম্পদ নেই। একেবারেই হতদরিদ্র। থাকেন মামার বাড়িতে। মায়ের পক্ষ থেকে পাওয়া ভিটেতে মাটির একটা ঘর করেছেন। সেখানেই স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে থাকেন তিনি। এই ঘরেই মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় অথবা বুধবার ভোরে ঢুকে পড়ে দুর্বৃত্তরা। হিফজুরের স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা। কোপানো হয় হিফজুরকেও। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। বুধবার সকালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়, ভর্তি আছেন সেখানে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

অপরদিকে ঘরে ঢুকে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় গোয়াইনঘাট উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার লোকজন ওই বাড়িতে ভিড় করেন। বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মদ ও পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আহত হিফজুর কিছুটা সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

হিফজুরদের প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম বলেন, হিফজুর তার মামার বাড়িতে ঘর বানিয়ে থাকেন। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী গ্রামে। তিনি বলেন, হিফজুরের কোনো শত্রু আছে বলে আমার জানা নেই। কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা বুঝতে পারছি না। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

গোয়ানঘাট থানার ওসি মো. আবদুল আহাদ বলেন, দুর্বৃত্তরা হিফজুরের ঘরে ঢুকে তাদের বঁটি দা দিয়েই সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। রক্তমাখা সেই বঁটি দা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া আহত স্বামী হিফজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলেই হত্যার রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে যোগ করেন ওসি।

অন্যদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, কী কারণে হত্যা করা হয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে জমি-সংক্রান্ত কোনো বিরোধ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্য বিষয়গুলোও আমরা খতিয়ে দেখছি। আহত হিফজুরের সঙ্গে কথা বললেও কিছু তথ্য পাওয়া যাবে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]