ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

প্রকাশ্যে এলো কুবির উপাচার্য-ট্রেজারার দ্বন্দ্ব
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২০ জুন, ২০২১, ১১:৫২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 371

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামানের দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্য এলো।

রোববার (২০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা পরিষদের দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন তারা। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা আলোচনা-সমালোচনা করছেন।

জানা যায়, কর্মকর্তা পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমে যুক্ত হয়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন। পরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাল্টা বক্তব্য দেন ট্রেজারার।
 
উপাচার্য তার বক্তব্যে ট্রেজারারকে ইঙ্গিত করে বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে হায়নার চোখ সব সময়ে ছিল, এখনও আছে। আমার মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেল। আমি হয়ত চলে যাব। কিন্তু আপনাদের এই সম্পদ আপনাদেরই রক্ষা করতে হবে। কারণ লোভী মানুষ কোথাও গেলে সে সবকিছু তছনছ করে ফেলে। আমার কোনো সমস্যা হবে না কারণ আমি দূরে থাকব। স্বার্থপর এবং লোভী মানুষগুলোর স্বার্থে যখনি আঘাত লাগে, তারা হট্টগোল বাধিয়ে দেয়। আপনারা সতর্ক থাকবেন। যখনি দেখবেন অসৎ মানুষগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদের অপচয় করছে, আপনারা তা প্রতিরোধ করবেন। এটাই আমার ঐকান্তিক ইচ্ছা।
 
পরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্যের বক্তব্যের জবাবে ট্রেজারার বলেন, আমি কাউকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প শোনাতে আসি নাই। আমি অতিথি হয়ে আসিনি। কাজ করতে এসেছি, ন্যায়সঙ্গত কাজ করতে এসেছি। চ্যালেঞ্জে যাবেন, তাহলে যান। আপনার জন্য সবজি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ঢাকায় যেতে হয়। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ঢাকায় যেতে হয় আপনাকে সার্ভ করার জন্য। আপনাকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পাসের। প্রতিনিয়ত আপনি আমাকে অপমান করছেন। অপদস্থ করছেন। সহ্য করছি কিছু বলি নাই আপনাকে। আমাকে কর্মচারী ভেবেছেন আপনি? আপনার থেকে কম লেখাপড়া করেছি? আপনার থেকে কম গবেষণা জানি? আপনার সাথে আমি একদিনের জন্য উচ্চবাচ্য করিনি। দিনের পর দিন আমাকে ইনসাল্ট করেছেন। কেন? আপনি আজকেও সেই একই কথা বলার চেষ্টা করেছেন। তিনি এ সময় আরো বলেন, আপনিও সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা। আমিও সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা। আপনি কতদিন এখানে এসে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন?
 
পারস্পরিক আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এমন কিছু বলার প্রশ্নই আসে না। কোথায় বলব আমি এসব। কেন আমি এসব বলব। আমি এমন কিছু বললে তো তোমাদের চোখ এড়াতো না।

এ বিষয়ে ট্রেজারার বলেন, আমাকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার জন্য। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি। আমার গাড়ির জ্বালানি নিয়ে কেন প্রশ্ন করবে? মোবাইল ফোন কিনতে বলা হয়েছে। কিন্তু স্যার আমাকে এসব বিষয়ে কর্মকর্তাদের সামনে তিরস্কার করছে। আমি তো সরকারি কাজ করতে এসেছি। ইউজিসি থেকে আমার জন্য তো বরাদ্দ রয়েছে। তবুও স্যারকে আমি কখনো কোনো প্রশ্ন করেনি গত এক বছরে। আজ বলতে হলো।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ট্রেজারারের গাড়ি ব্যবহার করা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরবর্তীতে ট্রেজারারকে দীর্ঘ দিন একটি পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করতে দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে উপাচার্য-ট্রেজারের মধ্যে মনোমালিন্য ছিলো বলে জানা যায়।

/জেডও/




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]