ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

পার্টিবয় পার্টিগার্ল
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুন, ২০২১, ১:৩৭ এএম আপডেট: ২১.০৬.২০২১ ৩:২১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 88

মনোরঞ্জন’ ও ‘ডিজেপার্টি’র আখড়া হয়ে উঠেছে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লাব-মদের বার। এসব ক্লাব-বার মনোরঞ্জনে খোরাক জোগাচ্ছে একশ্রেণির উঠতি মডেল-অভিনেত্রীসহ সুন্দরী তরুণ-তরুণীদের। তারা এই মনোরঞ্জনকে নিয়েছে ‘পেশা’ হিসেবেও। এই তরুণ-তরুণীদের বলা হচ্ছে, পার্টিবয়-পার্টিগার্ল। বৈধ ক্লাব-বারের চেয়ে অবৈধগুলোতেই এসব কর্মকাণ্ড চলছে বেশি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা ছাড়াও ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে বৈধ-অবৈধ ক্লাব-বারে চলছে ডিজেপার্টি বা উদ্দাম নাচ-গান। সঙ্গে মাদকসেবনও। অভিজাত এলাকার কিছু বাসা-বাড়ি ও ফ্ল্যাটেও চলছে এসব কর্মকাণ্ড, যা স্বাভাবিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করছে অনলাইনে। ওই পার্টিতে থেকেই শুরু হয় নানা অপরাধের পরিকল্পনা।

সম্প্রতি রাজধানীর অদূরে দিয়াবাড়ী এলাকায় অভিজাত বোট ক্লাবে নায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠা ওই ক্লাবকে ঘিরে অসামাজিকতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ক্লাবের সদস্য নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। গত ২৮ জানুয়ারি উত্তরার ব্যাম্বু স্যুট রেস্টুরেন্টে বেসরকারি একটি বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থীকে মদপান করাতে ‘পার্টি’র আয়োজন করেন ফারজানা জামান নেহা ওরফে ডিজে নেহা ও তার খুব কাছের বন্ধু আরাফাত। মদপানের পর অসুস্থ হয়ে আরাফাত মারা যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর মারা যান ওই বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রী মাধুরী। এ ঘটনায় ডিজে নেহাসহ কয়েকজন গ্রেফতার করলে তাদের নানা অপরাধের ঘটনা সামনে চলে আসে।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ডেকে নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়পড়ুয়া দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে আসামি করে বনানী থানায় ধর্ষণের মামলা করেন এক ভুক্তভোগী ছাত্রী। মামলার চার দিন পর ওই বছরের ১০ মে গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে।

অপরাধ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক সময়ের আলোকে জানান, সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে ক্লাব কালচার গড়ে উঠেছিল; কিন্তু এখন যে ক্লাব কালচার দেখছি, তা দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অনেক ক্ষেত্রেই ক্লাবের আড়ালে মদ, জুয়া, ডিজেপার্টিসহ অশালীন কর্মকাণ্ড চলছে। যা থেকে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ-হত্যার মতো অপকর্মও ঘটছে।

এ সঙ্কট থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে তৌহিদুল হক বলেন, এসব ক্ষেত্রে পরিবার বা অভিভাবকদের ভূমিকা রাখতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে চলাফেরা করে, এসব কিছু পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। অস্বাভাবিক কিছ দেখলেই সন্তানের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নীতি-নৈতিকতার জ্ঞানচর্চার বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবৈধ ক্লাব-বারগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারিসহ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, উচ্ছৃঙ্খলতার কোনো অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধেই পুলিশ তৎপর রয়েছে। তিনি বলেন, বারে অভিযানের ক্ষেত্রে সাধারণত পুলিশের আইনি কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহায়তা নিয়ে অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে বারে শর্তের বাইরে কোনো কিছু হলে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রেস্তোরাঁয় মদ বা ডিজেপার্টির প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ দেখা যাচ্ছে তরুণ-তরুণীরা বাইরে থেকে মদ কিনে এনে একশ্রেণির রেস্তোরাঁয় বসে পান করছে। এসব বিষয়ে ওইসব রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকতে হবে। পুলিশকে সজাগ থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আর সতর্ক থাকতে হবে অভিভাবকদেরও।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]