ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শতকোটি টাকার তালগাছ কোথায়
সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১০:৫৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 65

বজ্রপাতে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধিতে সরকারসহ দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উঁচু বৃক্ষগুলো বজ্রপাতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে কাজ করে। সে ক্ষেত্রে উঁচু বৃক্ষরাজির মধ্যে তালগাছ অন্যতম। অথচ তালগাছের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিরোধ সহায়ক একটি বৃক্ষ দেশ থেকে বিলীন হওয়ার পথে।
তাই প্রাকৃতিক বিপর্যয় বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সারা দেশে তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এরই আলোকে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ১০ লাখ তালগাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩৫ লাখ আঁটি বপনেরও উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু ৫ বছর পর এখন ওইসব চারার যেমন কোনো চিহ্ন নেই, তেমনি নেই আঁটি থেকে জন্মানো চারার হদিসও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেখভালের অভাবে এসব চারা গরু-ছাগল খেয়ে ফেলেছে। এতে পুরো প্রকল্পের প্রায় শতকোটি টাকাই গচ্চা গেছে। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে সারা দেশে রাস্তার দুপাশে তালগাছের আঁটি-চারা রোপণের জন্য ২০১৭ সালে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর কাবিখা-টিআর প্রকল্পের আওতায় তালগাছের চারা-আঁটি লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় রংপুরের ৮ উপজেলার ছয়টিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬৭টি। এর মধ্যে রংপুর সদরে প্রায় ১১ হাজার, মিঠাপুকুর উপজেলায় ৫১ হাজার, পীরগাছা উপজেলায় ২৩ হাজার, তারাগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৬৫০, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৪ হাজার ও পীরগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হাজার ৫০০টি তালগাছের চারা রোপণ করা হয়।
এ ছাড়াও কিশোরগঞ্জ ও বরিশালসহ দেশের অন্যান্য স্থানে তালগাছ রোপণে যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল তা কোথাও সফল হয়নি। বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় একটি মানবিক উদ্যোগ পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।
এখন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অত্যাধুনিক বজ্রনিরোধক ফ্রাংকলিন’স লাইটনিং রড লাগানোর প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। স্থাপন করা হবে বজ্রপাত অ্যালার্মিং যন্ত্র ও শেল্টার সেন্টার। বজ্রনিরোধক ফ্রাংকলিন’স লাইটনিং রডের দাম পড়বে প্রতিটি প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা।
বজ্রপাত নিরোধে তালগাছ পরীক্ষিত। তার জন্য সরকার টাকাও বরাদ্দ দিয়েছিল। বলা  হচ্ছে, সেই শতকোটি টাকার প্রকল্প গরু-ছাগল খেয়ে ফেলেছে। যেখানে শতকোটি টাকা বরাদ্দ থাকে সেখানে দেখভালের জন্য জনবল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি কেন? কাদের অবহেলায় রাষ্ট্রের টাকা নষ্ট হলো, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। আমরা বিশ^াস করি, বজ্রপাত নিরোধে আগামী দিনে আরও নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটবে। কিন্তু তালগাছ প্রকল্পের টাকা যথাযথ ব্যবহার না করায় সংশ্লিষ্টরা পার পেয়ে যাক তা আমরা মেনে নিতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]