ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সুফল পেতে চাই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 74

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সারা দেশে অন্তত ১৪ দিন ‘শাটডাউন’ ঘোষণার সুপারিশ করেছে। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে কার্যকর করতে না পারলে সব প্রস্তুতি থাকার পরও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা প্রতিরোধে আলাদা কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অন্য দেশ, বিশেষ করে ভারতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া করোনার সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব নয়। ভারতে শাটডাউন করা এলাকাগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাটডাউন প্রয়োজন। এ সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখতে হবে।
জাতীয় কমিটির এ সুপারিশকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘সরকারের এ ধরনের প্রস্তুতি আছে। যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে।’
করোনার সংক্রমণ বাড়ায় এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয়ভাবে কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেশ সুফল পাওয়া গেছে। সেখানে সংক্রমণের হার অনেক কমে এসেছে। সম্প্রতি ঢাকার চারপাশের সাত জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার কিছুদিন ধরেই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সবসময়ই বলা হচ্ছে ‘লকডাউন’ করোনা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কঠোর ধাপ বা অস্ত্র। তীব্র সংক্রমণের সময় রোগ বিস্তারের লাগাম টেনে ধরতে লকডাউন ঘোষণা করতে হয়। করোনা প্রতিরোধে লকডাউনসহ যত রকমের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় তার প্রধান লক্ষ্য হলো সংক্রমণের ধারাবাহিকতা ভেঙে দেওয়া। এই ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লকডাউন দিতে হয় অন্তত দুসপ্তাহের জন্য।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর নিয়ামক হলো দুটি। একটি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং অন্যটি চিকিৎসা দেওয়া। স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে রয়েছে- মাস্ক পরা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও দুজন মানুষের মধ্যে ৩ থেকে ৪ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা।
দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে মানুষ করোনা মোকাবিলা করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনাভীতি অনেকাংশে কেটে গেছে। তাই তারা এখন কঠোর বা কোমল কোনো ধরনের বিধিনিষেধ মানতে চায় না। আর শ্রমজীবী মানুষ খাবার জোগাড় করাকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং সেটাই স্বাভাবিক। ইতঃপূর্বে লকডাউন ঘোষণার আগে শ্রমজীবী মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের বিষয়টি ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে জীবনের প্রয়োজনে শ্রমজীবী মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েছে। কার্যকর করা যায়নি লকডাউন, পাওয়া যায়নি কাক্সিক্ষত সুফল। এ অবস্থায় শাটডাউন ঘোষণার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। আমরা মনে করি, সমন্বিত ব্যবস্থা না নিয়ে লকডাউন ঘোষণা করায় এটা কার্যকর করা যায়নি। একই ব্যবস্থায় এখন যদি শাটডাউন ঘোষণা করা হয় তা হলে এটাও যে কার্যকর করা যাবে না- তা সহজেই অনুমেয়। তাই আমাদের প্রত্যাশা, শাটডাউন ঘোষণার আগে নীতি নির্ধারকরা দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের যাপিত জীবনের বিষয়টি বিবেচনায় নেবে। তাদের যাতে খাদ্য সঙ্কট না হয় সে বন্দোবস্ত করবে। তবেই শাটডাউন কার্যকর করা যাবে, পাওয়া যাবে কাক্সিক্ষত সুফল।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]