ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গণপরিবহন ভাড়ায় অরাজকতা
মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 80

‘গণ’ পরিবহন। জনগণের পরিবহন। জনগণের জন্য পরিবহন। জনগণের কল্যাণে পরিবহন। সেই গণপরিবহনের আজ বেহালদশা। করোনাকালীন দীর্ঘ লকডাউন থেকে মুক্ত হয়ে গণপরিবহন যেন বেপরোয়া। আসলে গণপরিবহন নয়, পরিবহন মালিক, পরিচালক, ড্রাইভার হেলপাররা বেপরোয়া। যাত্রীরা তাদের হাতে জিম্মি।
দুই মাস বন্ধ থাকার পর গণপরিবহন চালু হয়েছে পনেরো-ষোলো দিন। পেছনের দিনগুলোর হিসাব সুদে আসলে, ক্ষেত্রবিশেষে চক্রবৃদ্ধি হারে বুঝে নিচ্ছে পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। সরকার নির্ধারিত ষাট শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধিকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে তারা একশ শতাংশের বেশি ভাড়া নিচ্ছে। দুই সিটে একজন যাত্রী বসানোর বিধান থাকলেও দুই সিটে দুজন যাত্রী বসাচ্ছে। ভাড়া নিচ্ছে চারজনের। যাত্রীদের কাছ থেকে দুই সিটের ভাড়া নিয়েই ক্ষান্ত নয়, কোনো কোনো বাস দাঁড়িয়ে লোক নিচ্ছে। ভাড়া নিচ্ছে শতভাগ বেশি।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালানোর জন্য সরকার ষাট শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল। ভাড়া ঠিকই বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই মানছে না কোনো গণপরিবহন। বিষয়টা মনিটরিংও হচ্ছে না ঠিকমতো। দশ টাকার ভাড়া নিচ্ছে বিশ টাকা। তারপরও গাদাগাদি করে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সামান্য প্রতিবাদ করলে তেড়ে আসে
হেলপার-ড্রাইভার-কন্ডাক্টর। যাত্রীরা পকেটের টাকা গচ্ছা দিয়েও চুপ থাকে। মান ইজ্জতের ভয়ে ‘লোহা খেয়ে হজম করে’। বিষয়টি দেখার মতো যেন কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। অথচ প্রতিটা গণপরিবহন নিয়মিত চেক করার কথা। পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কাজটি করার কথা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের। সাধারণ মানুষকে করোনা ঝুঁকি মুক্ত রাখতেই নিয়মিত এ কাজটি করা তাদের দায়িত্বের অংশ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কেউ তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। হয়তো সে কারণেই গণপরিবহনের হ-য-ব-র-ল অবস্থা।
সাধারণ মানুষের জিম্মিদশা কাটছেই না। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও তাদেরকে নিতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি। জীবন ও জীবিকার তাগিদে তারা বাধ্য হয়ে নিচ্ছে এই ঝুঁকি। যারা প্রাইভেটকারে চড়ে তাদের কোনো ঝক্কিঝামেলা নেই। নেই জীবনের ঝুঁকি। তারা শতভাগ নিরাপদ। দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়াও গুনতে হয় না। যত ঝামেলা সাধারণ যাত্রীদের। সরকার নির্ধারিত ষাট শতাংশ বর্ধিত ভাড়া দিয়েও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। কোনো কোনো রুটের গাড়ি সারাক্ষণ গাদাগাদি করে লোক নেয়। কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করলে তার ওপর চড়াও হয়।
ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার থেকে গুলিস্তানের স্বাভাবিক সময়ের ভাড়া ১৫ টাকা। সাধারণ সময়ে সিটে বসিয়ে লোক নেওয়ার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ঠাসাঠাসি করে লোক নেয়। করোনাকালে নিয়মে দুই সিটে একজন নেওয়ার কথা। ভাড়া ২৪ টাকা। দশ টাকা বেশি। যাত্রীরা ১১ টাকা বেশি দিয়ে ২৫ টাকায় ডবল সিটে বসে। কিছুক্ষণ পর ওই সিটে আরেকজন বসানো হয়। এভাবে পুরো গাড়ির সব সিট পূরণ হয়ে যায়। অথচ সরকার নিয়ম বেঁধে দিয়েছে অর্ধেক সিট ফাঁকা রাখতে হবে। ভাড়া নিতে হবে ষাট শতাংশ বেশি। পরিবহনের লোকেরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছে পঁচিশ টাকা। সেবা দিচ্ছে পনেরো টাকার। উপরন্তু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে সবাইকে।
সেদিন ফার্মগেট থেকে শিকড় পরিবহনে উঠি। এক সিটে মানুষ। অন্য সিট ফাঁকা। ফার্মগেট হতে যাত্রাবাড়ী। ভাড়া পঁচিশ টাকা। আগে ছিল পনেরো টাকা। শাহবাগ পর্যন্ত পাশের সিটটা ফাঁকা। শাহবাগ থেকে অনেক যাত্রী ওঠে। সব সিট পূরণ হয়ে যায়। আমার পাশের সিটে বসার চেষ্টা করলে বাধা দিই। শুরু হয় তর্কবিতর্ক। আমি চুপচাপ বসে আছি। কোনো কথা বলছি না। অন্যরা তর্কাতর্কি করছে। কেউ এক সিটে দুজন বসার পক্ষে। কেউ দুই সিটে একজন বসার পক্ষে। কেউ প্রশ্ন তুলছে ডবল ভাড়া দিয়ে কেন সিট শেয়ার করবে? যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন। কে মানে কার কথা? অনেকটা গায়ের জোরেই বসে যায়। বাসের হেলপার ড্রাইভার অনিয়ম করা লোকটাকেই সমর্থন দেয়। এভাবে পুরো গাড়িতে গাদাগাদি করে লোক ওঠে। ভাড়া সরকার নির্ধারিত ষাট শতাংশ বেশিই গুনছে যাত্রীরা। এভাবে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাসে চড়ছে দ্বিগুণ, ক্ষেত্রবিশেষে তিনগুণ ভাড়া দিয়ে। কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পরিবহন সেক্টরকে দেখার মতো যেন কোনো কর্তৃপক্ষ নেই।
পরিবহন শ্রমিকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো যাত্রী তুলছে। ভাড়া নিচ্ছে দ্বিগুণ তিনগুণ। সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? কার কাছে বিচার চাবে? ন্যায়বিচার করার কি কোনো কর্তৃপক্ষ আছে? দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়াইবা নেওয়া হচ্ছে কার, কোন নির্দেশে?
একটা অরাজক অবস্থা। পরিবহন সেক্টরের ওপর সরকারের এতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। শুধু ডেমরা টু গুলিস্তান এবং ফার্মগেট টু যাত্রাবাড়ী রুটের ভাড়া ও অন্যান্য অনিয়মের কথা বললাম। অন্যান্য রুটেও একই অবস্থা। দ্বিগুণ তিনগুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কিন্তু সেবা দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের। স্বাস্থ্যঝুঁকি তো আছেই।
সাধারণ মানুষ আসলে পুরোপুরি জিম্মি। এই জিম্মিদশা থেকে তাদেরকে মুক্তি দেবে কে? কোনো কর্তৃপক্ষ? প্রশ্নটা স্বাভাবিক। করোনার কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস। আয় রোজগার তেমন একটা নেই। টানা প্রায় দেড় বছর মানুষ কোনো না কোনো কারণে ঘরবন্দি। অনেকে চাকরিহারা। এই অবস্থায় সাধারণত পরিবহন ভাড়া দেওয়াই ত্রাহিত্রাহি। তারপরও ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মরণদশা। ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো পরিবহন শ্রমিকরা ষাটের পরিবর্তে একশ ভাগ বেশি ভাড়া নিচ্ছে। হিসাবের ভাড়া আট টাকা। নিচ্ছে দশ টাকা। দুই টাকা কাউকে ফেরত দিচ্ছে না। এ যেন এক আজব ব্যাপার। নিয়ন্ত্রণহীনতার একটা সীমা পরিসীমা থাকে। সীমাহীন নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় চলছে পরিবহন খাত। সরকার ‘বিধিনিষেধ’ আরও এক মাস বাড়িয়েছে। কিন্তু সব প্রতিষ্ঠান খোলা। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পথ চলতে বলা হচ্ছে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা করছে। গণপরিবহন ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্যবিধির বালাই থাকছে না। পরিবহন শ্রমিকরা নিজেরাও মানছে না, অন্যকেও মানাচ্ছে না।
সরকার ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া নির্ধারণ করেই ক্ষান্ত। তা ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না তা মনিটরিং হচ্ছে না। যার কারণে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পথ চলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এমন নাজুক পরিস্থিতিতে মানুষ না পারছে ঘরে বসে থাকতে না বাইরে বের হতে। স্বাভাবিক সময়ে একশ টাকা পকেটে নিয়ে বের হলে সারা দিন বাসে চড়ে ঘুরেফিরে কাজকর্ম করে হালকা চা নাস্তা খেয়ে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা যেত। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দুইশ টাকা নিয়ে বের হলেও সারা দিন কোনোকিছু না খেয়ে শূন্যপেটে ও শূন্যপকেটে বাসায় ফিরতে হয়। আয় রোজগারহীন একজন মানুষের পক্ষে প্রতিদিন দুইশ টাকা গণপরিবহনের ভাড়া দেওয়া শুধু অসম্ভবই নয়, অসহনীয়ও বটে।
কিন্তু জীবন-জীবিকার জন্য মানুষ অসহনীয় কাজটি করছে। কোনোরকম টেনাহেঁচড়ে চালাচ্ছে জীবন। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছিলেন, ‘গণপরিবহনের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা’। সেদিন থেকেই বাংলাদেশের মানুষের কপাল পুড়ছে। ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার নেমেও ৫ টাকা দিতে হয়। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ বলে কথা। ভাড়া কমানোর কথা বললে পরিবহন মালিকরা কমায় না। বাড়ানোর কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকরী করে। ওই ঘটনার পর হতে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে যে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল আজও তা অব্যাহত আছে।
গণপরিবহন ভাড়া বাড়ার প্রচণ্ড চাপ পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনধারণে। পরিবহন ভাড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। কারণ পরিবহন ভাড়া বাড়লে দ্রব্যপরিবহন খরচ বাড়ে। যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ে। এটি একটি চক্র। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রে চক্রায়মান হচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত হয়তো কোনো চিন্তাভাবনা বা গবেষণা ছাড়াই কথাটা বলেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে লুফে নিয়েছিল পরিবহন মালিকরা। ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে সাধারণ মানুষের। এর জের এখনও টানছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। পৃথিবীর সব দেশেই গণপরিবহন ভাড়া হিসাব করা হয় কিলোমিটার প্রতি। সে অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব হিসাব করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। আমাদের পাশের দেশ ভারতে প্রতি কিলোমিটারে পাঁচ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর একটা প্রস্তাব করা হয়েছিল। জনগণের আন্দোলনের মুখে তা নাকচ করতে বাধ্য হয় ভারত সরকার। অথচ সাবেক অর্থমন্ত্রীর এক কথায় বাংলাদেশে কিলোমিটারপ্রতি ৭০ পয়সার পরিবর্তে প্রায় ৩ টাকা হয়ে যায়, কেউ কোনো শব্দ করেনি।
এর ধারাবাহিকতায় করোনা অতিমারিকালে গণপরিবহনে চলছে অসহনীয় অরাজকতা।
আয়-রোজগারহীন মানুষ আর পারছে না। পারছে না অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধের বোঝা বহন করতে। একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি। অন্যদিকে
দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়তি ভাড়া, এ চাপ কীভাবে সামলাবে সাধারণ মানুষ? সরকার ও যথাযথ
কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ভাবলে দেশের জনগণ উপকৃত হবে। করোনার চাপ সহ্য করে জীবনে গতি আনতে সক্ষম হবে। গণপরিবহনের বেহালদশা একটা দেশের বেহালদশার পরিপূরক। একটা দেশকে অচল করতে চাইলে আগে গণপরিবহনকে অচল করতে হয়। বিরোধীদলের আন্দোলনের মূল হাতিয়ার হরতাল। হরতাল মানে গণপরিবহন বন্ধ।
সুতরাং মানুষের জীবনে গণপরিবহনের ভূমিকা অপরিসীম। সেই গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি গণমানুষের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে তা হলে জনজীবন অচল হয়ে যায়। করোনাভাইরাস এতদিন ধরে জনজীবন অনেকটা অচল করে রেখেছে। এখন যদি গণপরিবহন জনগণকে চাপ দেয় তা হলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া পরিশোধ করার পরও যদি যথোপযুক্ত সেবা না পাওয়া যায় তা হলে তা হবে খুবই বেদনাদায়ক। বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়নসহ আরও অনেক সংগঠন আছে যেসব সংগঠন গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করে। সেসব সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরা নিশ্চয়ই ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টা অবগত আছেন। তারপরও তারা নীরব কেন? একটা মহামারির মধ্য দিয়ে অস্থির জীবন কাটাচ্ছে দেশের মানুষ। গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি সাধারণ মানুষের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দেয় তা হলে তা হবে বড় বেদনার। গণপরিবহনের অরাজকতা থেকে মুক্তি সময়ের দাবি।
লেখক : সাবেক খণ্ডকালীন শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]