ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

পুলিশের ওপর রুষ্ট নুসরাত!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১০:৫২ পিএম আপডেট: ২৭.০৬.২০২১ ১২:১২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 102

গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে মারা যান মুনিয়া। তার মৃত্যুর পরপরই তার বড় বোন নুসরাত তানিয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে মামলাটির তদন্ত করছে এবং এরকম একটি ঘটনার পর যত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার সেটি পুলিশ করেছে এবং পুলিশের এ ভূমিকা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। পুলিশ এই মামলা তদন্তের জন্য যা যা করা দরকার সবকিছু করেছে। কিন্তু এই মামলার অন্যতম বাদী নুসরাত তানিয়া এতে সন্তুষ্ট নন। বরং এখন তিনি পুলিশকেই হুমকি দিচ্ছেন এই মামলার বিষয়ে। তিনি যেভাবে চান সেভাবে যেন মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হয় এটি চাইছেন নুসরাত। কিন্তু পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য যা যা প্রয়োজন সেটিই করছে। এ নিয়েই নুসরাতের সঙ্গে এখন তদন্তকারীদের মতপার্থক্যের খবর পাওয়া গেছে এবং এসব মতপার্থক্যে নুসরাত পুলিশকে হুমকি এবং ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। নুসরাত তানিয়া পুলিশের বিরুদ্ধে এখন প্রকাশ্যে কথা বলছেন। একাধিক টক শোতে তিনি বলেছেন যে, পুলিশ যথাযথভাবে মামলার তদন্ত করছে না। অথচ বাংলাদেশে এ ধরনের আত্মহত্যার পরপরই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার আগে কখনও কোনো মামলা হয়েছে কি না সেই প্রশ্নের উত্তর যদি খোঁজা যায় তাহলে দেখা যাবে যে এটি বাংলাদেশের অপরাধ তদন্তের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। নুসরাত তানিয়া অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ তাকে ডেকে তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। যেকোনো একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার অনেকগুলো দিক থাকে এবং যেহেতু নুসরাত কেবল এই মামলার বাদী নন, তিনি মুনিয়ার অফিসিয়াল গার্ডিয়ান এবং নুসরাতের ভাড়া করা বাড়িতেই মুনিয়া থাকতেন, সেহেতু এই মামলায় অনেক ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ আসে এবং এসব প্রশ্নের উত্তর নুসরাত তানিয়াকেই দিতে হবে।
যেমন মুনিয়া কেমন করে এত দামি একটি বাসায় থাকতেন এই প্রশ্নের উত্তর নুসরাতকেই দিতে হবে। মুনিয়া কীভাবে চলতেন এই প্রশ্নের উত্তরও নুসরাতকে দিতে হবে। নুসরাত সবকিছু জেনে কেন সে সময় ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, একজন অভিভাবক হিসেবে সেই প্রশ্নের উত্তরও নুসরাতকেই দিতে হবে। কিন্তু এই সমস্ত প্রশ্ন যখন সামনে চলে আসছে তখন নুসরাত তা এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং তদন্তকারীদেরকে সহযোগিতা করছেন না। বরং নুসরাত তার নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এই মামলাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। সেটা করতে না পেরে তিনি এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নানারকম চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন মহলকে বলেছেন যে, পুলিশের বিরুদ্ধেও তিনি মুখ খুলবেন। ইতোমধ্যে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু কিছু কথাবার্তা গণমাধ্যমে বলেছেন। সামনে আরও বলবেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। নুসরাত তানিয়াই এ ঘটনার পর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করার জন্য থানায় গিয়েছিলেন। এখন নুসরাত তানিয়া অন্য কথা বলছেন। তিনি বলছেন যে, এটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হবে না হত্যা মামলা হবে এটি পুলিশই তাকে বলে দিয়েছে।
নুসরাত তানিয়া একজন ব্যাংকের কর্মকর্তা, শিক্ষিত নাগরিক। কাজেই পুলিশ তাকে যেভাবে বলবে সেভাবে তিনি মামলা করবেন এটা তো হতে পারে না। আসলে নুসরাতকে ব্যবহার করছে যে মহলটি সেই মহলটি তাদের লক্ষ্য এবং স্বার্থ উদ্ধার না হওয়ার কারণে এখন ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং তারা মনে করছে যেকোনো প্রকারে যেন এই মামলায় কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে ফাঁসিয়ে দেওয়া যায়। সেটি যখন সম্ভব হচ্ছে না তখন তারা পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করছে এবং চাপ সৃষ্টির কৌশলে তারা যুদ্ধাপরাধী এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির দ্বারা পরিচালিত কিছু অনলাইন প্লাটফর্মকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে যে, তারা নির্মোহভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে এবং তদন্তের স্বার্থে যাকে যতটুকু জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার এবং যে তথ্যগুলো উদ্ধার করা দরকার তার সবগুলোই তারা উদ্ধার করবে। এতে কেউ যদি রুষ্ট হয় তাহলে তাদের কিছু করার নেই। আর যদি কেউ ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য কোনো মামলা করে থাকেন তদন্তে সেটা বেরিয়ে আসবে এবং তখন তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর এ কারণেই এখন নুসরাত একটু অস্থিরতায় ভুগছেন। কারণ তিনি এই মামলা করে যেভাবে লাভবান হতে চেয়েছিলেন পুলিশের নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। আর তাই এখন পুলিশের ওপরই রুষ্ট নুসরাত।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]