ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আতঙ্কে বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতা
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১০:৫৮ পিএম আপডেট: ২৭.০৬.২০২১ ১২:১৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 77

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ইউসুফ জেনারেল স্টোর, সময় দুপুর ২টা। বাজারের লম্বা এক ফর্দ নিয়ে হাজির তেজতুরীপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। বাজারের ফর্দটিতে চোখ বুলিয়ে দেখা গেল সেখানে ৪৫ ধরনের পণ্যের নাম লেখা। দোকানদারের হাতে সেটি ধরিয়ে সবগুলো দিতে বললেন তিনি। ফর্দ ধরে ক্রেতার চাহিদামতো সব পণ্য দিলেন দোকানদার। মোট বিল এলো ১০ হাজার ৩৬০ টাকা।
এক সঙ্গে এত পণ্য কিনলেন কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেনÑ ‘কেন ভাই আপনি জানেন না কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। লকডাউনের আগেই মোটামুটি দুসপ্তাহের মতো নিত্যপণ্যগুলো কিনে রাখলাম। পরে বাজারে আসা-যাওয়ার ঝামেলা হতে পারে, পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে, পণ্য না পাওয়া যেতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই এক সঙ্গে এতগুলো পণ্য কিনলাম।’
শনিবার হাবিবুর রহমানের মতো হাজারো ক্রেতা এভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন। কারণ একটাই, সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন। তাই এক সঙ্গে বেশি বেশি পণ্য কেনার হিড়িক পড়ে যায়। এভাবে হঠাৎ করে বাজারে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় একদিকে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, অন্যদিকে বাজারে বেশকিছু পণ্যের সঙ্কটও দেখা দেয়। আর খুচরা মুদি দোকানদারদের তো ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। পণ্য বিক্রির এতটাই চাপ বেড়ে যায় যে, দোকানে পণ্য ফুরিয়ে গেলে দ্রুত আবার পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কিনে এনে ক্রেতার চাহিদা মেটানো হয়। একই রকম চিত্র দেখা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, কল্যাণপুর নতুন বাজার ও হাতিরপুল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে।
গতকাল বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা মূলত চাল, ডাল, তেল, চিনি, মাছ, মাংস, সবজিÑ এ ধরনের নিত্যপণ্য বেশি কিনছেন। পাশাপাশি শিশুখাদ্য ও সাবানসহ বিভিন্ন কসমেটিকস পণ্যও কিনতে দেখা গেছে।  ইউসুফ জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, ‘সকাল থেকে একেবারে দম ফেলার সময় নেই।
ক্রেতারা যেন কেনাকাটার জন্য পাগল হয়ে গেছে। তারা একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। সকাল থেকে বেচতে বেচতে অনেক পণ্য ফুরিয়ে গেছে। একদিকে বিক্রি করছি, আরেক দিকে পণ্য কিনে আনছি। আজকে আমাদের কাছে ঈদের আগের দিনের চাঁদরাতের মতো মনে হচ্ছে। আগামীকাল রোববার (আজ) হয়তো ক্রেতার চাপ আরও বাড়বে। এজন্য আমরা বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছি, আরও দুজন বাড়তি লোক রাখব দোকানে এবং রাতের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখব।
বিক্রেতারা বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এমনিতেই বাজারে ভিড় থাকে। কিন্তু আজ (শনিবার) ক্রেতাদের আনাগোনা বাজারের দোকানে বেশি ছিল। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মুদিদোকানি কবীর হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে ক্রেতার সমাগম বেশি। যারা আমার বান্ধা কাস্টমার, তারা আজকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, মসলা, রসুন, পেঁয়াজ, আদা এগুলো কিছুটা বেশি পরিমাণে কিনছেন।’ তিনি বলেছেন, শুক্রবার বাজার করে গেছেন এমন অনেকে আজও কিনতে এসেছিলেন। এই বিক্রেতা বলেন, জিনিসপত্রের দাম আগের মতোই আছে।
অন্যদিকে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় করোনার সামাজিক দূরত্বের বালাই ছিল না বাজারগুলোতে। অধিকাংশের মুখে মাস্ক থাকলেও কারও কারও মুখে মাস্কের দেখা মেলেনি। বিশেষ করে অধিকাংশ দোকানদারই ছিলেন মাস্কবিহীন। অধিকাংশ ক্রেতাই গায়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেছেন বাজারে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মুদি দোকানদার মো. সুলতান বলেন, দোকানের ভেতরে আছি আমরা, ক্রেতা থেকে বেশ দূরত্ব আছে। তা ছাড়া সারাদিন মাস্ক পরে থাকতেও অস্বস্তি লাগে। এজন্য খুলে রেখেছি। আর বাজারে অস্বাভাবিক ক্রেতার চাপ থাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান একাধিক ক্রেতা।
কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, বাজারের অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে গতকাল। মরিচ শুক্রবার ছিল ৪০, শনিবার হয়েছে ৬০ টাকা কেজি। প্রতিকেজি ঢেঁড়স ৬০, বেগুন (লম্বা) ৬০ থেকে ৮০, পটোল ৫০ ও বরবটি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতিকেজি শসা ৮০, টমেটো ১০০, গাজর ১১০ ও আলু ৩০ এবং লাউ প্রতিপিস ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্রয়লার ১৭০, গরু ৬০০ ও লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৭০ টাকায়। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়।
মাছের বাজারে রুই, কাতল, শিং, মাগুর, পাবদা ও চিংড়িসহ সব ধরনের মাছের দাম শুক্রবারের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। করোনার কারণে মসলার চাহিদা বেড়েছে, এজন্য বাজারে মসলার দামও বেড়েছে। এলাচ ২৮০০ থেকে ৪ হাজার, দারুচিনি ৫০০ থেকে ৭০০, আদা ১৪০, রসুন ৭০ থেকে ১৩০ ও পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]