ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের দিক আমলে নেন না
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১১:১৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 65

ষ নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে পোশাক খাত সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হওয়া সত্ত্বেও এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষিত। বিশেষত অধিকাংশ শিল্পমালিক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার দিকটি আমলে আনেন না। অথচ স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ও রোগের ঝুঁকি কমাতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অপরিহার্য। এমনকি শ্রমিকদের পুষ্টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
গতকাল রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘সমন্বিত কৌশল এবং কর্মশক্তি পুষ্টির জন্য সহযোগিতামূলক অ্যাকশন পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনলাইন প্লাটফর্মে বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপিত গবেষণা সমীক্ষা থেকে এ তথ্য উঠে আসে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশন (গেইন) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) যৌথ উদ্যোগে গঠিত প্লাটফর্ম স্কেলিং আপ নিউট্রিশন-সান (এসইউএন) বিজনেস নেটওয়ার্ক (বিএন)-বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) কাজী জেবুন্নেছা বেগম। শ্রম বিভাগের মহাপরিচালক গৌতম কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আল আমিন সরকার, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচএন) আওতাধীন ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসের লাইন ডিরেক্টর ড. এসএম মুস্তাফিজুর রহমান, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা-গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার ও অন্য সংশ্লিষ্ট নেতারা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গেইন বাংলাদেশের পোর্টপোলিও লিড মনিরুজ্জামান বিপুল।
‘কর্মক্ষেত্রে পুষ্টি : চলমান অনুশীলন ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা’ শীর্ষক গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাইফুন নাহিন শিমুল।
এই সমীক্ষায় তিনি পর্যবেক্ষণমূলক মতামত তুলে ধরেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের পুষ্টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নিবন্ধ পর্যালোচনা ও মূল স্টেকহোল্ডার যেমন : সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলো, ব্যবসায়ী সমিতি, দাতা সংস্থা, পোশাক ক্রেতা, পোশাক শিল্পের মালিক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, খাদ্য উৎপাদনকারী, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ গবেষণাটি করা হয়।
এ ছাড়া ‘অ্যাসেসমেন্ট অব কি মার্কেট সিস্টেম অ্যাক্টরস ফর নিউট্রিশাস অ্যান্ড সেইফ ফুড প্রভিশান অ্যারাউন্ড দ্য আরএমজি ফ্যাক্টরিজ’ শীর্ষক আরেকটি গবেষণা স্টাডি তুলে ধরেন নর্থসাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ফাইন্যান্সের সহকারী অধ্যাপক ড. ফাহিম ফয়সল। এই গবেষণায় পোশাক শিল্পের ম্যানেজার, শ্রমিক, সরকারের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারসহ ৬২টি সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জÑ এই কয়েকটি শিল্পাঞ্চলকে নির্বাচন করা হয়।
এই সমীক্ষার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পোশাক শ্রমিকরা সাধারণত ব্যস্ত জীবন অতিবাহিত করেন। এ কারণে তারা দ্রুত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়। নারী শ্রমিকরা ডিম, নুডলস, স্ন্যাকড আলুজাতীয় খাবারগুলোই বেশি গ্রহণ করে। তা ছাড়া কারখানার আশপাশে ছোট ছোট দোকানে ভেজাল ও বাসি তেলযুক্ত খাবার বেশি বিক্রি হয়, যা বেশিরভাগ পোশাক শ্রমিক বিভিন্ন সময়ে খেয়ে থাকেন। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।




সমীক্ষায় আরও বলা হয়, পোশাক শিল্পে কর্মরত কর্মীদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের প্রবেশগম্যতা রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জরুরি। তাই ন্যায্যমূল্যের দোকান প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এতে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ বাড়বে। শ্রমিকরা মাসিক আয়ের ১১ থেকে ১৪ শতাংশ সঞ্চয় করতে পারবেন। সঞ্চয়ের পাশাপাশি প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা সময় বাঁচবে।
উভয় গবেষণা সমীক্ষাটি শুরু হয় ২০২০ সালের আগস্ট থেকে, শেষ হয় ২০২১ সালের মার্চ মাসে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইপিএইচএন, বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি কাউন্সিল (বিএনএনসি), সরকারের অংশীদার, ব্র্যাক, কেয়ার, এসএনভি, কনসার্ন এবং সেভ দ্য চিলড্রেন এবং বেসরকারি খাতের সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সমাজের নেতারা এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০৫ সালের তথ্য সূত্র উল্লেখ করে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও বিশে^র বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, শ্রমিকদের যথাযথ পুষ্টিজাতীয় উৎপাদনশীলতা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]