ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সময়ের আলো সাক্ষাৎকার
স্বর্ণ নীতিমালা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১১:১৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 276

এনামুল হক খান  সভাপতি, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতিকরোনাকালে বিশে^র অনেক দেশে স্বর্ণ ব্যবসা ভালো যাচ্ছে। কারণ অনেকেই স্বর্ণ কেনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মনে করছেন। বাংলাদেশে এই করোনাকালে স্বর্ণের ব্যবসা কেমন চলছে? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে শনিবার বায়তুল মোকাররমের জুয়েলারি সমিতির সভাপতি এনামুল হক খানের মুখোমুখি হই। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে জানান, ব্যবসা মোটামুটি ভালোই যাচ্ছে। কারণ অনেকে বিদেশে ভ্রমণে যান। ভ্রমণ শেষে তারা কিছু স্বর্ণ কেনেন। কিন্তু করোনার কারণে এখন অনেকেই বিদেশ যাচ্ছেন না। কিংবা বলা যায়, বিদেশ যেতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে দেশ থেকে স্বর্ণ কিনছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম প্রসঙ্গে এনামুল হক খান জানান, বিদেশের তুলনায় বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেশ কিছুটা বেশি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ভ্যাট। বাংলাদেশে ভ্যাটের সমস্যা রয়েছে। ভারতে ভ্যাট ৩ শতাংশ। আর বাংলাদেশে ৫ শতাংশ। তবে দুবাই ও সিঙ্গাপুরে ভ্যাট ৫ শতাংশ থাকলেও, বিমানবন্দর থেকে ভ্যাট ফেরত পাওয়া যায়। দামের কথা বলতে গিয়ে তিনি অকপটে বলেন, ভারতে স্বর্ণের জন্য বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়। আর সে দেশে উৎপাদন ব্যয়ও কম। সে দেশে স্বর্ণের জন্য ঋণসহায়তা দেওয়া হয়। আর সহজশর্তে। যে কারণে এখন তা স্বর্ণশিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সুযোগ-সুবিধা সে দেশের তুলনায় কম বলে মনে হয়।
স্বর্ণ নীতিমালা প্রসঙ্গে এনামুল হক খানের সোটাসাপ্টা কথা হচ্ছে, এ দেশে অনেক ভালো ভালো নীতিমালা হয়। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এই নীতিমালাকে ভালোভাবে লালন-পালন করতে হলে সময়ে সময়ে হালনাগাদ করতে হয়। সেই ২০১৮ সালের তৈরি স্বর্ণ নীতিমালাকে যুগোপযোগী করতে হবে। তবেই এ দেশে স্বর্ণ প্রকৃতপক্ষে একটি শিল্পখাত হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
কথা প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানালেন, স্বর্ণ আমদানির জন্য ১৯টি ডিলার রয়েছে। কিন্তু এদের অনেকের সক্ষমতার অভাব রয়েছে। পরিষ্কার করে বলা যায়, ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন এখনও আমদানি করার যোগ্যতা অর্জন করেনি। ডিলার দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অবৈধভাবে দেশে স্বর্ণ আসে, এ প্রসঙ্গে জুয়েলারি সমিতির সভাপতি ও একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী হিসেবে তার বক্তব্য হচ্ছে, কথাটি আংশিক সত্য। তবে আমাদের দেশে অবৈধভাবে যারা স্বর্ণ আনে তাদের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আর এই অবৈধভাবে যে স্বর্ণ আসে তার বাজারমূল্য বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ অবৈধভাবে আসা স্বর্ণের বাজার হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকার।
দেশে প্রতিদিন কী পরিমাণ স্বর্ণ আসে? এ প্রশ্নের উত্তরে এনামুল হক খান জানান, প্রতিদিন বাংলাদেশে ৮ হাজার ভরি স্বর্ণ প্রবেশ করে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বললেন, আপনারা হয়তো জানেন এটি এমন একটি পণ্য যা মানুষের হাতবদল হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা স্বর্ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিলাম করে এই স্বর্ণ বিক্রি করে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বলে, এখানে অনেক মামলা রয়েছে। এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্র্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব নয়। আমাদের পক্ষ থেকে অনেকবার বলেছি, এই স্বর্ণ দ্রুত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার জন্য। কথায় কথায় চলে এলো স্বর্ণ তামা হওয়ার গল্প। নিলামের সময় সমিতির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। জব্দ করা স্বর্ণ যদি বিক্রি করে দেওয়া হয় তা হলে বাজারে কিন্তু অনেক পরিমাণে স্বর্ণ চলে আসে।
বাজেটে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির পক্ষ থেকে অনেক সুপারিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না বলে আফসোস প্রকাশ করেন ইনামুল হক খান। প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ভ্যাট দিতে হয় দুবার। একবার ডিলার পর্যায়ে, আবার খুচরো পর্যায়ে। আমরা বারবার বলেছি, দুটোর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড খুব একটা আমলে নেয় না। তবে আমাদের অনুরোধ থাকবে দুটোর মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়টি।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক দেওয়া হয় গুণিজনদের। এসব স্বর্ণপদকে অনেক সময় ভেজাল পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি বলেন, কোনোদিন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা কোনো ভেজাল দেন না। দরপত্র আহ্বান না করে প্রকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এ কাজটি দেওয়া উচিত। তা হলে কোনোদিন এই ভেজালের অভিযোগ উঠবে না। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে ১৮ হাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে গুণাগুণ বিচার করে এসব রাষ্ট্রীয় পদকের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। আর গুণাগুণ বিচারের দায়িত্ব জুয়েলারি সমিতিকে দিলে অনেক ভালো হয়।
সম্প্রতি সরকার স্বর্ণ পরিশোধনাগার স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি পদ্ধতি অবলম্বন করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে এনামুল হক খান জানান, এটি সম্ভাবনা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী। আমি মনে করি, ব্যবসা জগতে নতুন একটি বিষয় যুক্ত হলো। যারা এ ব্যাপারে আবেদন করবে তাদের আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। তবে এই সম্ভাবনার শিল্পের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কথা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা যদি ২০১৮ সালের স্বর্ণ নীতিমালার মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আরও সংশোধন, পরিমার্জন করি তা হলে আমাদের স্বর্ণ শিল্প আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারব। কথা শেষ করার আগে তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দেন ডিলার দেওয়ার বিষয়টি। এখনও ভেনাস জুয়েলার্সের মতো স্বর্ণ ব্যবসায়ী ডিলারশিপ পাননি। এসব সক্ষমতা অর্জনের প্রতিষ্ঠান যদি ডিলারশিপ পায় তা হলে স্বর্ণের বাজার আরও শুদ্ধতায় সম্প্রসারণ হতো।






http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com