ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ইভ্যালির ভেলকিবাজি
ভোক্তাদের আরও সচেতন হতে হবে
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১১:২৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 85

অনলাইন মার্কেট প্লেস ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। অনেক দিন ধরেই এই প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তাদের সঙ্গে নানাভাবে প্রতারণা করছে, হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ইদানীং এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার মাত্রা যেমন বেড়েছে, তেমনি বিস্তৃত হয়েছে এর ক্ষেত্র। ভুক্তভোগীরা কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে অভিযোগ করছেন ভোক্তা অধিদফতরে। ভোক্তা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ইভ্যালির বিরুদ্ধে ২০ হাজারেরও বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিন ৩৩টির বেশি এবং মাসে এক হাজারের বেশি অভিযোগ করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
প্রতারিত হওয়ার পরও আমাদের দেশের মানুষ সাধারণত ভোক্তা অধিদফতরে অভিযোগ করে না। খুব কম সংখ্যক মানুষ ভোক্তা অধিদফতরের দ্বারস্থ হয়। সেই হিসেবে বলা যায়, ইভ্যালির প্রতারণার যে সংখ্যা ভোক্তা অধিদফতর সূত্রে পাওয়া গেছে, তা একটি প্রতীকী চিত্র মাত্র। বাস্তবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইভ্যালির নিজেদের খুব বেশি পুঁজি নেই। ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে সে টাকায় পণ্য কিনে বিক্রি করছে তারা। তাদের হাতে যদি ৫টি পণ্য থাকে, তাহলে সেগুলোর বিপরীতে ১০০ জনের কাছ থেকে তারা টাকা নেয়। পণ্য দেয় হয়তো দুয়েকজনকে। বাকিদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাউকে দেয়, কাউকে না দিয়ে টাকা ফেরত দেয়। আবার অনেকে টাকা ফেরত না পেয়ে মাসের পর মাস ঘুরছে। ইভ্যালি অনেক বিদেশি পণ্যেরও অর্ডার নেয়। হয়তো ওইসব পণ্যের আমদানির প্রক্রিয়াই শুরু করেনি সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। পণ্য আসতে হয়তো ৫ মাস লাগবে, কিন্তু অর্ডারের সঙ্গে টাকা ঠিকই নিয়ে নেয় ইভ্যালি। এভাবেই চলে আসছে ইভ্যালির প্রতারণা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ক্রেতা ঠকানোর অভিযোগ নিয়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) নেতাদের সঙ্গে গত ২০ জুন বৈঠকে বসে ভোক্তা অধিদফতর। বৈঠকে ইভ্যালিসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ক্রেতা ঠকায়, সে বিষয়ে জানতে চান ই-ক্যাব নেতারা। এ সময় ভোক্তা অধিদফতরের পক্ষ থেকে ইভ্যালির প্রতারণার ১৪ ধাপ সম্পর্কে জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্রেতা ঠকানো বন্ধে ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে ভোক্তা অধিদফতরে তিন দফা সুপারিশও করা হয়। ই-কমার্স সাইটগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমছে ভোক্তা অধিদফতরে। যার মধ্যে সর্বাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে ইভ্যালির বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার একটি বিশেষ ধাপ হলো দুর্বোধ্য ও ভোক্তাস্বার্থবিরোধী শর্ত দেওয়া। শর্তগুলো এত ছোট অক্ষরে ও এত কঠিন ভাষায় লেখা থাকে, যা অনেকেই বুঝতে পারেন না। ভোক্তা অধিদফতরে অভিযোগ দিলে মূলত এসব শর্তের কথা বলেই অধিকাংশ সময় পার পেয়ে যাচ্ছে ইভ্যালি। এতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। এ কারণে অনলাইন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর নজরদারি না থাকার কারণে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আর সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তারা প্রতারণা করছে। কার্যকর কোনো আইন না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। সরকারের উচিত এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে লক্ষ রাখা এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।
তবে আশার কথা এই যে, এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে নীতিমালা সংশোধনের কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে বেশ কঠিন কিছু নিয়ম সংযোজন করার কথা বলা হচ্ছে। এতে করে হয়তো প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। আমরা মনে করি, এ বিষয়ে ভোক্তা অধিদফতরের আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা উচিত। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তারা যদি বারবার অতিলাভের প্রলোভনে পা দেন, তাহলে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এ ধরনের প্রতারণা রোধ করা কঠিন। রূঢ় বাস্তবতাও এই ভোক্তাদের বুঝতে হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]