ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আবার লকডাউন
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১১:২৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 180

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
আগামীকাল সোমবার থেকে দেশব্যাপী নতুন করে কঠোর লকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে বলে সরকার থেকে ঘোষণা এসেছে। প্রথমে ৭ দিনের কথা বলা হচ্ছে এরপর অবস্থা বুঝে ৭ দিন বৃদ্ধি করা হতে পারে। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেশিরভাগ জেলাতেই লকডাউন
কোথাও কোথাও দুই সপ্তাহ অতিক্রম করেছে। কিছু কিছু অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও খুলনা, রাজশাহী অঞ্চলে পরিস্থিতি বেশ নাজুক। করোনা সংক্রমণ এখন অনেকটাই ঢাকামুখী। সে কারণে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে এক সপ্তাহ আগেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ঢাকা থেকে জেলাগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা। আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু মানুষের আসা যাওয়া কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খোদ ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এটি চলতে থাকলে অচিরেই ঢাকার চিকিৎসাব্যবস্থা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে চিকিৎসক মহল বলে আসছে। ঢাকার বাইরের অনেকগুলো উপজেলায় করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এবারের সংক্রমণের গতি প্রকৃতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বেশ আগে থেকেই নানা ধরনের সতর্কতা জানানো হচ্ছিল। নতুন করে ঢাকায় লকডাউন জারি করা ছাড়া সরকারের বিকল্প কোনো উপায় ছিল না। এরই মধ্যে সংক্রমণের হার যেমন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, তেমনিভাবে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলছে। এ পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মানুষকে ঘরে রাখা, বাইরে চলাচল করতে না দেওয়া, মাস্ক পরা এবং গণহারে টিকাকরণ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে মৃত্যু ও সংক্রমণের ভয়াবহতা রোধ করার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নেই। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য গত এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা হচ্ছে এসব বৈজ্ঞানিক নিয়মকানুন তথা স্বাস্থ্যবিধি বাংলাদেশে কার্যকর হচ্ছে না। টিকা প্রদানের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাজনীতি, বাণিজ্য এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই জায়গায় বাংলাদেশ শুরুতে উদ্যোগ নিতে পারলেও শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি। কবে টিকাপ্রাপ্তি ও জনগণকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে সেটি বাংলাদেশ সরকারের ইচ্ছের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করবে না। সুতরাং করোনা সংক্রমণের এই টিকাকরণের অংশটি কার্যকর হওয়া ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু বাকি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি তথা মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, সামাজিক মেলামেশা বন্ধ রাখা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত না করা ইত্যাদি বিষয়গুলো বাংলাদেশে এক বছর চার মাসে খুব বেশি অভ্যস্ততায় নেওয়া যায়নি। এই অবস্থায় ব্যাপক সংক্রমণ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারতসহ যেসব দেশে এরই মধ্যে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল সেটির মতো ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই নতুন করে আবার লকডাউনের বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
চীনের উহানে প্রথম যখন করোনা সংক্রমণ শুরু হয়। তখন এর প্রতিকারে চীনা সরকার উহান নগরীতে লকডাউন চালু করেছিল। সেই দৃশ্য আমরা গণমাধ্যমে প্রথম দেখে আঁতকে উঠেছিলাম। অনেকে চীনা সরকারকে তখন নিষ্ঠুর এবং বর্বর বলে আখ্যায়িত করেছিল। তবে কার্যকর সেই লকডাউনের কারণে চীনে করোনাভাইরাস খুব বেশি সংক্রমিত হতে পারেনি। যারা দূর থেকে চীনে করোনার সংক্রমণ নিয়ে নির্বিকার কিংবা নানা ধরনের মন্তব্য করছিল, তারা একবারও ভাবতে পারেনি এই ভাইরাস সহসাই তাদেরকেও আক্রমণ করতে যাচ্ছে। পৃথিবীতে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতির ফলে চীনের উহান নগরীর করোনাভাইরাস ভদ্র মানুষদের শরীরে আশ্রয় নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর ও প্রান্তে দৃশ্যের অন্তরালেই ছড়িয়ে পড়েছে। চীন ততদিনে করোনামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে শুরু করেছে। অথচ বাকি বিশ^ করোনা যুদ্ধে বারবার নুয়ে পড়ছে, মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, আবারও ঘুরে ফিরে আক্রান্ত হচ্ছে। করোনার নানা ধরন এখন সারা পৃথিবীতে এক আতঙ্কের নাম। লকডাউন গোটা দুনিয়ায় গত দেড় বছর বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে দেওয়া হচ্ছে, কিছুদিন সংক্রমণ হ্রাস পেলেও আবার নতুন ধরনের করোনা প্রজাতির আক্রমনে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। চীনের উহানে যখন করোনা নিয়ন্ত্রণে লকডাউন দেওয়া হয় তখন চীনে অধ্যয়নরত কিছু বাঙালি শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ উদ্যোগে দেশে নিয়ে আসে। আমাদের এখানে তখন করোনা নিয়ে নানাজনের নানা মত শুনে ভিমরি খাওয়ার অবস্থা! করোনা এদেশে নাকি আসবে নাÑ এমন ভবিষ্যদ্বাণী করার মানুষেরও অভাব ঘটেনি। কুসংস্কারে আচ্ছন্ন এই দেশে তখনই কেউ কেউ করোনা প্রতিরোধে কিসব ফর্মুলা প্রকাশ্য সভায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে বিশ^ জ্ঞানীগুণীর পুরোধা হিসেবে নিজেদের দাবি করছিলেন। এখন অবশ্য তাদের কারও কোনো নাম শোনা যাচ্ছে না। ইতালি হয়ে বাংলাদেশে করোনার আগমন ঘটেছে বলে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন। উড়োজাহাজ ভ্রমণ করে অভিজাত করোনাভাইরাস কোন দেশ থেকে আসা বিদেশি অতিথির মাধ্যমে প্রবেশ করেছে তা কেবল নিবিড় গবেষণার মাধ্যমেই জানা যেতে পারে। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণে মারা যাওয়ার পর ২৬ মার্চ তারিখ থেকে সাধারণ ছুটির নামে প্রায় ২ মাস সবকিছু বন্ধ করে আমাদেরকে লকডাউনই করতে হলো। তখন আমরা কিছুটা বুঝতে পেরেছি করোনা নিয়ে মশকরা করা যায় না, একইভাবে লকডাউনও উপেক্ষা করা যায় না। বিজ্ঞান বলে একটি জ্ঞানের জগত আছে। আমরা বেশিরভাগ মানুষই বিজ্ঞানের জগতে বসবাস করলেও বিজ্ঞানকে অস্বীকার করতে কিংবা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে স্মার্ট বাহাদুর সাজতে খুব একটা বিবেকের চর্চা করি না। কিন্তু সম্রাট বাহাদুর শাহর পরিণতি যে কী হয়েছে সেই ইতিহাস কজনই বা জানে? সরকারি ছুটির নামে দীর্ঘ দুই মাস প্রথমবারের মতো লকডাউনে কাটিয়েও করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু চীনের মতো আমরা দীর্ঘ মেয়াদে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আমাদের বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে জীবনযাপন করা, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলা ইত্যাদি কারণে করোনা সংক্রমণ গত বছর জুন-জুলাই-আগস্টে ঊর্ধ্বমুখী থেকে কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে আবার ঢেউয়ের মতো ফণা তুলে ধেয়ে আসে। বছর শেষে সেটি কিছুটা কমে এলে আমরা নতুন বছরের শুরু থেকে ঘরবন্দি জীবন থেকে বের হয়ে বিয়েশাদি, আনন্দ উৎসব, পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশ সফর, পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ নিয়ে আবার মেতে উঠি। করোনা সংক্রমণ অনেকটা কমে আসায় আমরা করোনাকেই যেন বিদায় জানাতে জমে থাকে সব উৎসব, পালা-পার্বন পালন করতে থাকি। কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা করোনা আবার দাঁত ভেংচিয়ে বা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মার্চ মাসে প্রবল সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বাংলাদেশে হানা দেয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এই দৃশ্য তখন ঘটতে দেখা গেছে।
কিন্তু আমরা সেসবকে উপেক্ষা করেছি। পরিণতিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জায়গায় করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুজনিত কারণে তখন অনেককেই হারাতে হলো। লকডাউন, কঠোর লকডাউন, বিশেষ লকডাউন, বিধিনিষেধ, বিশেষ বিধিনিষেধ ইত্যাদি নামে আমরা মানুষকে ঘরবন্দি করতে চেয়েও গত বছরের মতো সফল হইনি। এ সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বিশ^াসটি গভীরতর হয়েছে তা হচ্ছে, এটি বড়লোকদের বেছে বেছে আক্রমণ করে, গরিবদের নয়। এমনকি করোনা সংক্রমণের সঙ্গে নানা ধরনের অন্ধ বিশ^াস, জাতি-ধর্মগত পরিচয় ইত্যাদি অবৈজ্ঞানিক প্রচার-প্রচারণা
তথাকথিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবিশেষজ্ঞ কথাবার্তায় বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই করোনাকে উপেক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি না মানা, এমনকি টিকা নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ না করতে দেখা গেছে। এ ধরনের একটি বাস্তবতায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যখন ভারতকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছিল তখনও এখানকার বেশিরভাগ মানুষ বাংলাদেশের করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের অনুপ্রবেশ ঘটবে না বলে বিশ^াস করে। সরকারের সব অনুরোধ, বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঈদ উৎসব পালন করতে গ্রামে লাখ লাখ মানুষ ছুটে যায়। এরপরে দেখা গেল বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের ফলে সীমান্ত অঞ্চল বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হলো। কেউ বিধিনিষেধ মেনে কোয়ারেন্টাইনে থাকল, অনেকেই উপেক্ষা করল। ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো করোনাভাইরাসের নতুন ধরনসহ স্থানীয় ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে লাগল। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে লকডাউন, কঠোর লকডাউন, বিধিনিষেধ ইত্যাদির নামে ৭ দিন, ১৪ দিন এমনকি কোথাও কোথাও প্রায় এক মাস ধরে বিধিনিষেধ, লকডাউন চলে আসছে। এরই মধ্যে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ সংক্রমিত হলো, মারাও গেল। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে এখন রোগী সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। সেসব অঞ্চলে এখন আর এটিকে ধনী ও শহুরে মানুষের ভাইরাস বলে অভিহিত করা হচ্ছে না। কিন্তু সর্বত্রই যে এখনও করোনা নিয়ে কুসংস্কার কেটেছে তেমনটিও নয়। গণমাধ্যমে দেড় বছর ধরে করোনা নিয়ে এত বিশেষজ্ঞের কথা এবং আলোচনা শোনার পরও এ সম্পর্কে যে ধরনের সচেতনতা তৈরি হওয়ার ধারণা প্রত্যাশিত ছিল, তেমনটি ঘটেছে বলে দাবি করা যাবে না। এর কারণ হচ্ছে অনেকেই ইলেকট্রনিক মিডিয়ার এসব গুরত্বপূর্ণ আলোচনা মনোযোগ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে শোনেন না, বোঝেন না, বিশ^াসও করেন না। কিন্তু এখন করোনা সেসব বিশ^াস-অবিশ^াসকে বোধহয় ভেঙে দিতে এসেছে।
সোমবার থেকে যে লকডাউন বা শাটডাউনÑ যে নামেই হোক মানুষকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং করোনা সংক্রমণ থেকে দূরে রাখার জন্য সরকার সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেনাবাহিনীকেও নামিয়ে করোনার বিরুদ্ধে অভিযানে নামতে যাচ্ছে। সবারই উচিত হবে করোনা থেকে নিজেকে রক্ষা করা। যারা হতদরিদ্র, খাদ্য সঙ্কটে থাকবেন তাদের খাদ্য সরবরাহ দিয়ে ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে ধনী এবং মানবিকতায় বিশ^াসী মানুষদের হাত প্রশস্ত করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী শহরগুলোতে বাজারে নয়, ঠেলাগাড়িতে করে এলাকায় এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিক্রেতাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা আবশ্যক। এ ছাড়া জরুরি ব্যবস্থা সচল রাখা, পরিষেবার খাত ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনাগুলো যেন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে জনগণকে অভিহিত করার নিয়ম যেন মানুষের কাছে গুরুত্ব পায়। দেশে করোনা জরুরি অবস্থায় মানুষ যেন আতঙ্ক নয়, আস্থার সঙ্গে এই বিপদ মোকাবিলায় অংশ নিতে পারে।

ষ ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]