ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

স্মার্টফোন যুগের শিশুরা বেড়ে উঠুক আদর্শ সংসারে
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১১:২৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 138

রূপম চক্রবর্ত্তী
স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের প্রতিদিনের কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সারা দিন আমরা যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কেনাকাটা পর্যন্ত মোবাইলের মাধ্যমে সেরে নিচ্ছি। অনেক সময় দেখা গেছে শিশু একদিকে পড়ছে অন্যদিকে মা-বাবা মোবাইলে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে চ্যাট নিয়ে ব্যস্ত। একটা সময় ছিল ছোট ছোট ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হতো। যাতে সে মানুষের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে পারে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। তা না হলে আমরা বিশ^ায়নের এই যুগে আমরা পিছিয়ে পড়ব। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সঙ্গে থাকব আবার পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার যেন সুন্দর হয় তথা আদর্শ পরিবার হয় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের শিশুদের জন্য আদর্শ সংসার লাগবে। সংসার শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। যেখানে রয়েছে হাসি, কান্না, আনন্দ, বেদনার, প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির বিচিত্র সমাহার। পরিবারের সবার মধ্যে সুসম্পর্ক, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ থাকলেই সুন্দর সংসার রচিত হয়। পরিবারের সবাই নিজ নিজ জায়গায় থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। একটি পরিবারের কথা বলার চেষ্টা করি। পরিবার আর সংসারের কথা বলতে গিয়ে ভালো দিকগুলোর পাশাপাশি কিছু খারাপ দিক প্রায় সময় চোখে পড়ে। অসংখ্য মেয়ে যৌতুকলোভীদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের অত্যাচারের সম্মুখীন হচ্ছেন।
আমরা প্রায়ই দেখি, যে মেয়েটি সংসার করার জন্য স্বামীর বাড়িতে গিয়েছেন সেই মেয়েটি শ^শুর বাড়ির অর্থলোভীদের অত্যাচার সইতে না পেরে এক বছরের মাথায় বাপের বাড়িতে চলে এসেছেন। গরিব এবং বয়সে অনেক ছোট একটি মেয়ে সমাজের পরিচিত এক মানুষের বাসায় বুয়ার কাজ নিয়েছিল। গৃহকর্ত্রীর অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে সে মারা গেছে। আদরের ছোট ছেলেটি প্রতিনিয়ত বিকৃত মানসিকতার কিছু মানুষ দ্বারা নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য সংবাদ প্রতিনিয়ত আমাদের খবরের কাগজগুলোতে প্রকাশিত হচ্ছে। কেন যেন মনে হচ্ছে আমরা আমাদের নৈতিকতা বিসর্জন দিতে বসেছি। আজকে আমাদের মানবিক হওয়া প্রয়োজন। আসুন লেখাপড়া শেখার পাশাপাশি আমরা আত্মসচেতন হয়ে উঠি। আমাদের বুঝতে হবে একটি সংসারে স্বামী-স্ত্রী থাকবে, পাশাপাশি ছেলেমেয়ে, শ^শুর শাশুড়ি, দেবর, ননদ থাকবে। কাজের বুয়া থাকবে। সংসারের মূল কর্তা ব্যক্তির যেমন অনেক দায়িত্ব থাকে তেমন অন্য সদস্যদেরও অনেক কর্তব্য থাকবে।
সংসার এমন একটা ক্ষেত্র যেটা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা আমাদের বেশিরভাগ মানুষের নেই। যারা সংসার শুরু করেননি তারা সংসার শুরু করতে চান। আবার অনেক সময় দেখা যায় যারা শুরু করে ফেলেছেন তাদের অনেকে পালিয়ে বেড়াতে চান। বহু বিচিত্রতা নিয়েই সংসার পরিচালিত হয়। সংসারে বিভিন্ন সময় অনেক কিছুই পরিকল্পনা মতো করা যায় না। আমাদের যদি চেষ্টা থাকে আমরা সংসারকে একটা আনন্দের জায়গায় পরিণত করতে পারি। কিন্তু অনেক সময় নিজ নিজ উদ্যোগের অভাবে এই প্রাপ্তি থেকে নিজেদের বঞ্চিত করছি। যাদের সংসারে স্বামী আর স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক থাকে তাদের সংসারের সুখ আছে বলে আমার মনে হয়।
ঘরে যখন ছেলের জন্য কোনো মেয়েকে নতুন বৌ হিসেবে আনা হয় তখন আমরা বেশ কিছু পরিবারে দেখি এই নতুন বৌকে নিয়ে অদ্ভুত রকম মন্তব্য করতে। যে মেয়েটি বিয়ের আগে মা-বাবার আদরের মেয়ে হিসেবে ছিল, লেখাপড়ার জন্য যে মেয়েটি রান্না করার সময় পায়নি সে মেয়েটি যখন শ^শুর বাড়িতে যায় তখন তাকে আদর, ভালোবাসা আর মমতা দিয়ে বিভিন্ন কাজ শিখিয়ে দেওয়া শ^শুর বাড়ির লোকদের দায়িত্ব। নতুন বৌ ঘরে আসার পর তার দোষত্রুটি লিপিবদ্ধ করা শ^শুরবাড়ির লোকদের একটি বড় কাজ হয়ে যায়। স্বামী, শাশুড়ি, ভাসুর, দেবর আর ননদেরা প্রায়ই বলে, আমাদের নতুন বৌ বাপের বাড়ি থেকে কিছু শিখে আসেনি। আর যদি স্বামীর মা-বাবার টাকা পয়সা বেশি থাকে তাহলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখি ছেলের বৌয়ের ওপর নির্যাতনের পরিমাণ বেশি থাকে। কাউকে ভালোবাসা না দিলে আমরা তার থেকে ভালোবাসার আশা করতে পারি না।  যেমন অনেক নতুন বৌ স্বামীর পরিবারে আসার সঙ্গে সঙ্গে কাউকে মেনে নিতে পারে না। স্বামীকে উদ্বুদ্ধ করে যেন তাদের দুজনের জন্য নতুন একটি বাসা নেওয়া হয়। কারণ তার সঙ্গে শ^শুর বাড়ির কারও সঙ্গে মিল হচ্ছে না। আসলে আমাদের সবাইকে সবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পরিবারের একে অপরের সঙ্গে ভালো ব্যবহার, আদর, স্নেহ মমতার মাধ্যমে অনেক সুন্দর একটি পরিবার সৃষ্টি করা যায়। একটি সুন্দর সংসার রচনা করা যায়।
আমাদের প্রিয় কিছু শব্দের মধ্যে একটি ভালোবাসা। ভালোবাসা শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা প্রয়োগ করি। অতি আপনজনদের মধ্যে আমরা ভালোবাসা বিনিময় করি। ভালোবাসা আছে বলেই যুগ যুগ ধরে মানুষ তার প্রিয়জনদের আঁকড়ে ধরে থাকার চেষ্টা করেন। ভালোবাসা আছে বলেই স্বামী আর স্ত্রী যুগ যুগ ধরে একে অপরকে নিয়ে বেঁচে থাকেন। ছেলেমেয়ের প্রতি মা-বাবার ভালোবাসা অতুলনীয়। যে সন্তানগুলোকে পরম মমতায় মা-বাবা বড় করে তোলেন সে সন্তানগুলো যখন মা-বাবাকে ত্যাগ করে চলে যায় তখন সংসারে অশান্তি নেমে আসবে।
সংসারে থাকব। ভালোবাসব আমার মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান এবং আত্মীয় পরিজনকে যাদের নিয়েই আমাদের পরিবার, আমাদের সংসার। ভালোবাসব আমার চারপাশের অনাহারী মানুষগুলোকে। ভালোবাসব আগামীর শিশুগুলোকে যাদের মাঝে লুকায়িত আছে আগামীর ভবিষ্যৎ। ভালোবাসব আমার প্রিয় মানুষগুলোকে যাদের মধ্যে লুকায়িত আছে হারানো দিনের স্মৃতি। ভালোবাসব সৃষ্টির সব কিছুকে কেননা এই ভালোবাসা আমাদের আত্মাকে চিরসবুজ জীবনীশক্তিতে সমৃদ্ধ করবে। বহুদিন ধরেই একটা প্রবাদ শুনে আসছিÑ ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে, গুণবান স্বামী থাকে যদি তাহার সনে।’ একটি সংসারের শ্রীবৃদ্ধির জন্য একজন স্ত্রীর ভূমিকা যেমন আছে তেমন স্বামীরও আছে। একটি সংসারে স্বামী আর স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে সেই সংসারের সন্তানগুলো শ্রদ্ধাবান হয়। সংসারে শ্রদ্ধাবান ছেলেমেয়ে না আসলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা যাবে।
বিশৃঙ্খল সমাজে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হবে। মানুষের মধ্যে হানাহানি সৃষ্টি হবে। কেউ কাউকে শ্রদ্ধা করবে না। তাই সুন্দর সংসার নির্মাণের বিকল্প কিছু হতে পারে না। বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য চলুন আমরা একটি সুন্দর সংসার তৈরি করি। সুন্দর সংসারে যে ছেলেমেয়ে জন্ম নেবে তারা নিশ্চয়ই মানবিকবোধ সম্পন্ন হবে। মানুষকে শ্রদ্ধা করবে। দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে। সব রকমের অন্যায় অবিচারকে তারা ঘৃণা করবে। আগামী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এই স্মার্টফোন যুগে সুন্দর সংসার সৃষ্টি করে আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষার আলোকে গড়ে তুলি।

ষ প্রাবন্ধিক




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]