ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আবাহনীই চ্যাম্পিয়ন
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১১:৩১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 46

ষ ক্রীড়া প্রতিবেদক
কঠিন সমীকরণ, ১২ বলে ৩২ রান। তবে অসম্ভব ছিল না। ১৯তম ওভার থেকে ১৬ রান তোলে অলক কাপালিরা কিন্তু জয়ের কঠিন সমীকরণটা মেলানোর পথেই ছিল। শেষ ওভারে গিয়ে বাধল বিপত্তি, ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ায় অলকই ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের শেষ ভরসা, কিন্তু সঙ্গী মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর ভরসা রাখতে পারেননি তিনি। তাই সুযোগ থাকার পরও প্রথম তিন বল থেকে কোনো রান নিলেন না। সমীকরণটা বনে গেল ৩ বলে ১৬। শহিদুল ইসলামকে ছক্কা হাঁকিয়ে সেটা দুই বলে দশে নামিয়ে আনেন অলক। কিন্তু পরের বলে এই ডানহাতি নিতে পারলেন একটি রানই, আবাহনী শিবিরে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের উল্লাস শুরু সেখানেই। ম্যাচের শেষ বল থেকে কোনো রান নিতে পারেননি মোস্তাফিজ, ফলে ৮ রানের হৃদয়ভাঙা হারই সঙ্গী প্রাইম ব্যাংকের।
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) এবারের আসরের শিরোপার দৌড় থেকে অন্যরা ছিটকে গিয়েছিল আগেই। যে কারণে আবাহনী-প্রাইম ব্যাংক ম্যাচটা বনে গিয়েছিল অলিখিত ফাইনাল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে আবাহনী, সেখানে সাইফউদ্দিনের অবদান ছিল ১৩ বলে ২১। তাড়া করতে নেমে লড়াই জমিয়ে তুললেও সাইফউদ্দিনের দুর্দান্ত বোলিংয়েই (৪/৩৬) প্রাইম ব্যাংক থেমে যায় ১৪২ রানে। আবাহনী মাতে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের উৎসবে। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় গত পাঁচ মৌসুমে এটি তাদের চতুর্থ শিরোপা, সব মিলে ২১তম।
পরিতাপের বিষয় হচ্ছেÑ আবাহনীর এবারের শিরোপা উৎসবও বিতর্কমুক্ত হলো না। দলটির ম্যাচ মানেই আম্পায়ারিং নিয়ে নেতিবাচক প্রশ্ন! আম্পায়াররা যেন একটু বেশিই ভুল সিদ্ধান্ত দেন, অদ্ভুতভাবে সেই ভুলের সুবিধা নিয়মিত পেয়ে যায় আবাহনীই। অলিখিত ফাইনালেও এর ব্যত্যয় ঘটল না। ম্যাচের প্রথম ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমানের বলে নিশ্চিত এলবিডব্লিউ ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু আম্পায়ার তানভির আহমেদ তা দেননি। আবাহনীর পেসার শহিদুলের শেষ ওভারে ‘নো’ বল হতে পারত একটি। কিন্তু স্কয়ার লেগে থাকা আম্পায়ার তানভির বলটিকে ‘জায়েজ’ বানিয়ে দিলেন! বলটা ‘নো’ হলে ম্যাচের চিত্রনাট্য অন্যরকমও হতে পারত।
তবে আবাহনীকে বাগে পেয়েও যেভাবে শিরোপা হাতছাড়া করল প্রাইম ব্যাংক, তাতে আম্পায়ারদের কাঠগড়ায় না তোলাই ভালো। দায়টা আসলে তাদেরই। শনিবার শুরু থেকেই ধুঁকেছে আবাহনী। মোস্তাফিজ-রুবেল-নাহিদুলদের দারুণ বোলিংয়ে ৩১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় খালেদ মাহমুদ সুজনের দল। কিন্তু চাপটা ধরে রাখতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। নাজমুল হোসেন শান্তর ৪৫ আর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনের ৪০ রানের হিসেবি ইনিংসের পর সাইফউদ্দিনের ক্যামিও, তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায় আবাহনী। তবে ১৫১ রানের জয়ের লক্ষ্যটাও কিন্তু প্রাইম ব্যাংকের নাগালের বাইরে ছিল না। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যটাকে নাগালে নিতে পারেনি এনামুল হক বিজয়ের দল।
একপ্রান্ত আগলে রুবেল মিয়া ৪১ রানের ইনিংস খেললেও অপরপ্রান্তে সাইফউদ্দিন আর মেহেদী হাসান রানাকে সামলাতে গলদঘর্ম হচ্ছিলেন রনি তালুকদার, বিজয়, রকিবুল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, নাহিদুল ইসলামরা। ৬৬ রানেই ৫ উইকেট খুইয়ে বসে প্রাইম ব্যাংক। স্রোতের বিপরীতে চলতে চলতে রুবেলও খেই হারান। তার সঙ্গে জুটি গড়ে জয়ের আশা জাগানো নাঈম হাসানও (১৯) ফেরেন সাজঘরে। ৭ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট পতনের পরও প্রাইম ব্যাংক আশা দেখেছিল অলকের ব্যাটে। কিন্তু ৩টি ছক্কা আর দুটো চারে এই ডানহাতির ১৭ বলে ৩৪ রানের হার না মানা ইনিংসটিও জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]