ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বাণিজ্য সম্প্রসারণে বেনাপোল পেট্রাপোলে প্রথম রেলপথ সংস্কার
প্রকাশ: রোববার, ২৭ জুন, ২০২১, ১১:৩৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 46

ষ বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
বেনাপোল বন্দরের রেলপথে আমদানি বাণিজ্যের চাহিদা বাড়ায় অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু করেছে রেল বিভাগ। বেনাপোল রেলস্টেশন থেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর পর্যন্ত রেল সড়কে চলছে সংস্কার ও ডাবল রেললাইন স্থাপনের কাজ। রেলপথে আমদানির চাহিদা বাড়লেও ব্রিটিশ আমলের সঙ্কীর্ণ আর জরাজীর্ণ রেলপথে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেলের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কন্টেইনার টার্মিনাল স্থাপন হলে ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য যেমন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে তেমনি বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমবে।
জানা যায়, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ১২টি বন্দর দিয়ে রেল ও স্থলপথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে একমাত্র বেনাপোল বন্দর দিয়েই স্থল এবং রেলপথে আমদানি বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত হয়। ফলে এ বন্দরের গুরুত্ব অন্যান্য বন্দরের চাইতে বেশি। সড়কপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও ব্রিটিশ আমলে স্থাপন হয় এ রেলপথ। দেশভাগের পর বন্ধ হয়ে যায় রেলের কার্যক্রম। পরবর্তীতে ২০০০ সালে পুরনো অবকাঠামোতেই আবার শুরু হয় রেলে আমদানি। তবে ফ্লাইঅ্যাশ আর জিপসাম জাতীয় পণ্য আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বাণিজ্য। গত বছর করোনার শুরুতে সংক্রমণ রোধে ভারত সরকার স্থলপথে বেনাপোল বন্দর দিয়ে তিন মাস আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রাখে। এতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়। সরকারও বিপুল পরিমাণে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি শুরু হয়। কিন্তু ব্রিটিশ আমলের জরাজীর্ণ-সঙ্কীর্ণ রেলপথে নানান প্রতিবন্ধকতায় চাহিদামতো পণ্য আমদানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছিল। একটি কার্গো রেল বন্দরে প্রবেশ করলে জায়গার অভাবে আর একটি কার্গো রেল ভারত থেকে প্রবেশ করতে পারত না। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীরা সরকারের বিভিন্ন মহলে চাপ প্রয়োগ করলে অবশেষে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রেলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শুরু হয়। আগামী তিন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
বন্দরবাসী শাহিনুর রহমান ও সোহাগ হোসেন জানান, ব্রিটিশ আমলের রেললাইনে বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহনে অনেকটা ঝুঁকি ছিল। রেল সংস্কার হচ্ছে এতে এলাকাবাসী খুশি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া রেলপথে নিরাপদ যাতায়াতে রেল ক্রসিং নির্মাণ দরকার।
যশোর রেল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অলিউল হক জানান, প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোল রেলস্টেশন থেকে শুরু করে পেট্রাপোল বন্দর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পর্যন্ত পুরনো ব্রডগেজ রেললাইন সংস্কার ও বেনাপোল বন্দরের দুইপাশে পণ্যবাহী কার্গো রেল দাঁড়ানোর জন্য দুটি অতিরিক্ত রেললাইন স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এসব উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হবে।
বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, জরাজীর্ণ রেলপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় সরকার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যাপ্ত ইয়ার্ড না থাকায় একটি কার্গো রেল বন্দরে প্রবেশ করলে আর একটি ভারত থেকে ঢুকতে পারত না। এতে সময়মতো পণ্য পরিবহন ব্যাহত হতো। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে এ পথে বাণিজ্য যেমন বাড়বে তেমনি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। যানবাহন চলাচল ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রেল ক্রসিংয়ের আবেদন জানানো হয়েছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের গত এক মাসে (মে) বেনাপোল বন্দরের রেলপথে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৪৩ হাজার ৭৬৮ মে. টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এ সময় আমদানি পণ্যের শুল্ক কর বাদে শুধু রেলের ভাড়া বাবদই সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]