ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সপরিবারে মানবপাচার সিন্ডিকেট; তিন নারীসহ গ্রেফতার ৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১, ১২:৩৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 50

কাজের জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহীদের টার্গেট করত এজেন্টরা। কম খরচে ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে ফাঁদ পাতা হতো। ৭-৮ লাখ টাকায় ইউরোপে যাওয়ার চুক্তি হতো। তাদের আশ্বাসে রাজি হয়ে পাসপোর্ট ও এককালীন ৪-৫ লাখ টাকাও জমা দিত বিদেশগামীরা। বাকি টাকা গন্তব্যে পৌঁছে পরিশোধ করা যাবে এমন ভরসাও দেওয়া হতো। লিবিয়া থেকে নৌপথে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ইউরোপে পাচার করা হতো। স্ত্রী, বোন ও পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই পাচার সিন্ডিকেটটি। মানবপাচারের আন্তর্জাতিক চক্রের বাংলাদেশি এজেন্ট ‘রুবেল সিন্ডিকেটে’র প্রধান সমন্বয়ক ‘ইউরো আশিক’সহ সাত সদস্যকে গ্রেফতারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারে র্যাব। গত দুবছরে এই পদ্ধতিতে ৮০ বাংলাদেশিকে ইউরোপে পাচার করেছে চক্রটি। গ্রেফতার সাতজন ও তাদের আত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। গতকাল রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম  শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেফতাররা হলোÑ আশিক ওরফে ইউরো আশিক (২৫), আজিজুল হক (৩৫), মিজানুর রহমান মিজান (৪৩), নাজমুল হুদা (৩১), সীমা আক্তার (২৩), হেলেনা বেগম (৪২) ও পলি আক্তার। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৭টি পাসপোর্ট, ১৪টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, দুটি এটিএম কার্ড, ১৫টি বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা জমাদানের বই, দুটি হিসাব নথি, দুটি এনআইডি, ১০টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৫৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাত ১টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৮ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ী থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

খন্দকার মঈন বলেন, কেরানীগঞ্জের আশিক এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে মধ্যপ্রাচ্যে যায়। লিবিয়ায় দুবছর অবস্থানের সময় মানবপাচার সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে কেরানীগঞ্জে থেকে মানবপাচার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয়। দুবাইয়ে থাকা তার মামা রুবেলের মাধ্যমে গড়ে তোলে ‘রুবেল সিন্ডিকেট’। এই রুবেলের মাধ্যমে অনলাইন ভিসা, বাংলাদেশি সংগ্রহ ও নৌপথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দুবাইয়ে মানবপাচার করত আশিক। ইউরোপে মানবপাচারের কারণে তার নাম ইউরো আশিক হয়ে যায়।

কমান্ডার মঈন আরও বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইউরোপে মানবপাচার করে আসছে। পাচার সিন্ডিকেটে ২০-২৫ জন সদস্য রয়েছে। চক্রটির মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজস্ব এজেন্ট রয়েছে। আশিক প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে মানবপাচারের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করত। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিখোঁজ ও নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে চক্রটি পাচার করেছে।

র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তিন ধাপে এই সিন্ডিকেটটি মানবপাচারের কাজ করে আসছে। প্রথম ধাপে প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষদের কম খরচে ইউরোপে নেওয়ার আশ্বাস দিত। দ্বিতীয় ধাপে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় প্রেরণ করা হতো। মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে ভিকটিমদের নিয়ে ৭-৮ দিন অবস্থানের পর লিবিয়ার বেনগাজিতে ভিকটিমদের পাঠানোর জন্য এজেন্টরা ‘মারাকাপা’ নামে একটি ডকুমেন্ট দুবাইয়ে পাঠাত। তৃতীয় ধাপে লিবিয়া থেকে ইউরোপ পাঠানো হতো। ভিকটিমদের ত্রিপলিতে কয়েকদিন আটকে রেখে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধির দ্বারা আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। এরপর কোনো এক দিন ভোরে কয়েকটি নৌযান লিবিয়া হয়ে তিউনিসিয়া উপকূলীয় চ্যানেল ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাত্রা করত।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রুবেল ২০১২-১৭ সাল পর্যন্ত লিবিয়ায় অবস্থানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। বর্তমানে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে মানবপাচারের ব্যাপারে রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় সে দুবাইয়ে অবস্থান করে সিন্ডিকেটটি পরিচালনা করছে। রুবেল বাংলাদেশে তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে মূল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এ চক্রের কেন্দ্রে রয়েছে রুবেলের স্ত্রী সীমা, রুবেলের ভাগিনা গ্রেফতার আশিক, দুই বোন হেলেনা ও পলি। গ্রেফতারকৃতরা পাসপোর্ট সংগ্রহ ও অর্থ লেনদেনে বিশেষ ভূমিকা পালন করত। রুবেলের স্ত্রী সীমার অ্যাকাউন্টে দেড় কোটি টাকা ও টালি খাতার তথ্য অনুযায়ী আরও ১ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তার বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আছে বলে জানা গেছে। রুবেলের বোন হেলেনার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া চেক বইয়ের তথ্য অনুযায়ী কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে র্যাব। এ ছাড়াও অন্যদের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার তথ্য পাওয়া গেছে।

/এমএইচ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]