ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ইউরোপে মানবপাচারে ২০ ব্যক্তি জড়িত
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১, ১২:৫১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 107

সম্প্রতি ইউরোপে পাচারের ঘটনায় একটি চক্রকে গ্রেফতার করতে গিয়ে আরও ২০ জনের সন্ধান মিলেছে। গত এক বছরে চক্রটির কবলে পড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন লোক ইউরোপে পাচারের শিকার হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ১৮টি জেলাকে মানবপাচারের রেড জোন ঘোষণা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব জেলা থেকে ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর ব্যক্তিদের সংগ্রহ করে ভ্রমণ ভিসায় পাঠিয়ে তাদের পাচার করা হয়েছে।


র‌্যাব বলছে, গত কয়েক বছরে পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩০০ চক্রের সন্ধান পেয়েছে তারা। চক্রগুলোর অনেকে গ্রেফতারও হয়েছে; কিন্তু এখন তারা ভিন্ন কৌশলে পাচার করছে। আগে দেশীয় রুট ও এজেন্সি ব্যবহার করলেও এখন সবটাই করা হচ্ছে বিদেশে বসে।

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগ ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১২ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫ হাজার ১৩৭টি। এসব ঘটনায় পুরুষ ৫ হাজার ৬০১, নারী ১ হাজার ৭৯১ ও শিশু ৯২৩ জন পাচারের শিকার হয়েছে। এসব মামলায় পাচারের সঙ্গে জড়িত ১০ হাজার ৯২৮ জনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইউরোপে মানবপাচার চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এই চক্রটির প্রধান হলো রুবেল। সে বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছে। তার সঙ্গে রয়েছে তার ভাগিনা নাজমুল ও আশিক। আছে তার স্ত্রীও। নাজমুলের কাজ হলো সারা রদেশ থেকে লোকজন সংগ্রহ করা। পুরো দেশের দেখভাল করত এই নাজমুল। আশিক সংগৃহীত লোকজনের পাসপোর্ট করানো এবং টিকেট ক্রয় ও ভিসা তৈরির কাজগুলো করত। তবে সবটাই দেখভাল করে রুবেল।

র‌্যাব জানিয়েছে, রুবেল ২০১২ সালে দুবাইয়ে থাকার সুবাধে সেখানকার একটি চক্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে দূতাবাসের তালিকায় নাম আসে তার। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পাসপোর্ট করার পর ট্যুরিস্ট ভিসায় নেওয়ার জন্য সব কাগজপত্র দুবাই থেকে প্রসেস করার কাজটি করত মূলত রুবেল। তার অধীনে আরও ২০ জন কাজ করে। রুবেল মূলত এই সদস্যদের মাসিক বেতনে রেখেছে।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন সময়ের আলোকে বলেন, বর্তমানে দেশের মাদারীপুর, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, বি-বাড়িয়া, হবিগঞ্জ- এই ছয় জেলার মানুষ বেশি পাচারের শিকার হচ্ছে। তারা সেসব দেশে গিয়ে দালালদের হাতে জিম্মি হচ্ছে। পরে তাদের আটকে রেখে পরিবারকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। তিনি জানান, সম্প্রতি এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে দুবাই নিয়ে ইউরোপে পাচারের ঘটনা। এই রুবেলের সঙ্গে আশিক ও নাজমুল নামে আরও দুজন রয়েছে। তবে পুরো গ্রুপটিকে ধরার চেষ্টা চলছে।

রেড জোন ঘোষিত ১৮ জেলার মধ্যে সিলেট, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা অন্যতম।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর থেকে সাতটি দেশে লোকজন যাওয়ার স্বপ্নে বেশি পাচার হচ্ছে। আর দেশগুলো হলো- লিবিয়া, তিউনিসিয়ান, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও আলজেরিয়া। এসব দেশে বাংলাদেশের লোকজনকে ট্যুরিস্ট ভিসায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে প্রথমে ভারত ও পাকিস্তানে নিয়ে পরে তাদের সেসব দেশে পাচার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে প্রায় ৮০০-এর বেশি মানুষ শুধু সাগরপথে ইউরোপের স্বপ্নে লাশ হয়েছে। এসব পাচারের জন্য প্রথমে তাদের ট্যুরিস্ট ভিসায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দুবাইয়ে। তারপর সেখানে কিছুদিন রেখে অন্য দেশে পাচার করা হয়। শাহজালাল বিমানবন্দর ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) তথ্য বলছে, গত দেড় বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ শুধু দুবাইয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা গেছে। এর মধ্যে ফিরেছে মাত্র প্রায় ২২ হাজার। এত মানুষ গেলেও তারা কেন ফেরেনি তার কোনো কারণ খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ায় বারবার একই ঘটনা ঘটে চলেছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা সময়ের আলোকে বলেন, মানবপাচারের ক্ষেত্রে একটি বড় অংশই কোনো ধরনের বৈধপথে বৈধ কাগজপত্র ব্যবহার না করে দেশ ত্যাগ করছে। ফলে বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিভিন্ন সময় এমন ঘটনায় অনেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলাগুলো পুলিশের মানবপাচার প্রতিরোধ সেল থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। এসব ব্যাপারে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকেও জোরাল ভূমিকা রাখতে হবে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]