ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছিলেন নুসরাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১, ১:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 88

গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন আলোচিত নুসরাত জাহান তানিয়া। এবার অন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের সুনামও ডোবাতে যাচ্ছেন তিনি। এই ব্যাংকের কুমিল্লার চকবাজার শাখায় মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরির আড়ালে নানা অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। টার্গেট করে বড় বড় গ্রাহকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করছেন। আর উঠতি বয়সি কিশোরী এবং তরুণীদের প্রলোভন দেখিয়ে দেহব্যবসা এবং মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আলোচিত নুসরাত। ফলে চাকরি ক্ষেত্রে তিনি ঘসেটি বেগমের ভূমিকায় অবতীর্ণ। এমনকি এই নুসরাতের প্রচণ্ড চাপের কারণে তার ছোট বোন মোসারাত জাহান মুনিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নুসরাতের নানা অপকর্ম কুমিল্লার মানুষের কাছে নতুন নয়। আগের ব্যাংকে চাকরিকালে এক সহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন নুসরাত। কিছুদিন পর এসব বিষয় জানাজানি হলে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ব্যাংকের ম্যানেজার নুসরাতকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। তখন নুসরাত ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যাংকের ম্যানেজার ও ওই সহকর্মীর নামে ধর্ষণের মামলা করতে থানায় যান। কিন্তু নুসরাতের ছলচাতুরী বুঝতে পেরে মামলাটি গ্রহণ করেনি থানা। এরপরও থেমে থাকেননি নুসরাত। থানায় ব্যর্থ হয়ে আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নুসরাত সাজানো এ মামলা পরিচালনায় নিয়োগ করেছিলেন কুমিল্লার একজন আইনজীবীকে। পরে ব্যাংকের ম্যানেজার এবং ওই সহকর্মীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আপস মীমাংসা করেন নুসরাত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, নুসরাতের কেলেঙ্কারির শেষ নেই। অফিসের ক্লায়েন্ট আর সহকর্মী কেউ তার অপকর্ম থেকে রেহাই পাননি। অনেকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। আর দুবর্লতার সুযোগ নিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করেন। গোপনে ধারণ করা ফুটেজ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নুসরাত। এ বিষয়ে ব্যাংকে একাধিক অভিযোগ জমা হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকার একজন গ্রাহককে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন নুসরাত। শুধু এই নুসরাতের কারণে ব্যাংকের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছিল।

নুসরাতের সাবেক চাকরিস্থলের একজন কর্মকর্তা জানান, নুসরাত মার্কেটিংয়ে চাকরির আড়ালে মূলত বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করতেন। এটি জানাজানি হলে আমাদের ব্যাংক থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। এখন শুনেছি আরেকটি ব্যাংকে কাজ করেন তিনি। সেখানেও তিনি একই কাজ করে বেড়াচ্ছেন। সাকল্যে ২৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরির আড়ালে তিনি মূলত ব্যাংকের ক্লায়েন্টসহ অন্যদের সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে দেহব্যবসা পরিচালনা করছেন। নুসরাতের এসব কুকীর্তির খবর সবাই জানে।

জানা গেছে, নুসরাত জাহান তানিয়া নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সুন্দরী মেয়েদের টাকার লোভ দেখিয়ে দৈহিক ব্যবসায় নিয়ে আসেন। প্রথমে নিজেই সম্পর্ক সৃষ্টি করে পরে ব্যাংকের ক্লায়েন্টসহ সেসব ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন মেয়েকে পাঠান তিনি। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা।

কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান জানান, নুসরাত তার কলেজপড়ুয়া আত্মীয়কে ব্যাংকের ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ আছে বলে বাগিচাগাঁওয়ের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে ওই মেয়েকে টাকার লোভ দেখিয়ে অচেনা এক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। এরপর থেকেই ওই মেয়েকে এ কাজে একাধিক পুরুষের প্রয়োজনে নিয়মিত ব্যবহার করছেন নুসরাত।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]