ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কোথায় যাবেন প্রবাসীরা: ভ্যাকসিন ঢাকায় কেন্দ্র টাঙ্গাইলে!
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১, ১:৪৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 63

প্রবাসীদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া নিয়ে তেলেসমাতি কারবার চলছে দেশে। নিবন্ধনের সময় তাদের জন্য রাজধানীর সাতটি নির্ধারিত কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করা হলেও টিকা প্রত্যাশীকে পাঠানো হচ্ছে তার নিজ জেলার কেন্দ্রে। কিন্তু সেখানেও সমাধান মিলছে না। এ নিয়ে রশি টানাটানি চলছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে। এর জন্য প্রবাসী মন্ত্রণালয় দায় চাপাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর। আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দোষারোপ করছে আইসিটি মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু ভুক্তভোগী প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

এই ভুক্তভোগীদের একজন টাঙ্গাইলের সুজন আহমেদ। এই প্রথমবারের মতো সৌদি যাবেন। কৃষক বাবা বাড়ির দুটি বড় গরু বিক্রি করেছেন। সে টাকায় ছেলের ভিসা করিয়েছেন। পাসপোর্ট ও ভিসা ঠিক থাকলেও বিপত্তি ঘটেছে অন্য জায়গায়। সুজন টিকার জন্য চলতি মাসের ৭ জুলাই রেজিস্ট্রেশন করেন। বিদেশগামী হিসেবে ভ্যাকসিন নিতে তার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র রাজধানীতে। কিন্তু তার নিবন্ধনকার্ডে রাজধানীর কোনো কেন্দ্রের নাম উল্লেখ নেই। তার কেন্দ্র পড়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সুজন সেই কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন তাকে যে টিকা দেওয়া হবে সেটি সেখানে নেই। এ জন্য তাকে ঢাকায় যোগাযোগ করতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্মকর্তার কথামতো ঢাকায় আসেন।

শুধু সুজন নন, তার মতো অনেক প্রবাসী এই সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু সমাধান মিলছে না। প্রবাসী মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যকে আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

সমস্যা সমাধানে প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন সুজন ও তার চাচা এনামুল হক। সেখানে গেলে সংশ্লিষ্টরা তাদের ঢাকার সাতটি কেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলশিক্ষক চাচাকে নিয়ে হাজির হন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। কিন্তু এই হাসপাতালে প্রবাসীদের তখন টিকার কার্যক্রম চলছিল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও সুজনের সমস্যা বিষয়ে কেউ সমাধান দিতে পারেনি। কেউ বলেছেন, প্রবাসী ভবনে যেতে হবে আবার কেউ বলেছেন সুজন আর টিকাই দিতে পারবেন না। সুজনের চাচার প্রশ্ন- তা হলে কি ভাতিজা আর কখনই সৌদি যেতে পারবে না। তার ভাইয়ের গরুর বিক্রির টাকায় ভিসা লাগানো পাসপোর্টটা কি বিফলে যাবে?

স্কুলশিক্ষক এনামুল হক সময়ের আলোকে বলেন, তিনি তার ভাতিজার সমস্যা সমাধানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী মন্ত্রণালয় ও বিএমইটি সব জায়গায় গেছেন। কিন্তু সমাধান মেলেনি। তিনি বলেন, ভুল করল মন্ত্রণালয় আর খেসারত দেব আমরা? তিনি বলেন, আমাদের নিবন্ধনকার্ডে যে সেন্টার উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে ফাইজার বা মডার্নার কোনো টিকাই নেই। এই অবস্থায় আমরা কী করব, কোথায় যাব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঁদপুরের মতলবের এক প্রবাসী বলেন, তিনিও সৌদি যাবেন। রেজিস্ট্রেশনের পর তার কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে তার উপজেলায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার জন্য নির্ধারিত টিকা ওই কেন্দ্রে নেই। পরে ঢাকায় এলেও এখনও কোনো সুরাহা পাননি। এই প্রবাসী বলেন, কবে সমস্যা সমাধান হবে আর কবে টিকা দিতে পারব কে জানে!

বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এমন আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী পাওয়া গেলেও তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের আশঙ্কা, কথা বললে যদি তারা টিকা থেকে বঞ্চিত হন। তবে তাদের এই ভোগান্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনার অনুরোধ করেন তারা।

এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, যাদের এই ধরনের সমস্যা হয়েছে তারা প্রবাসী মন্ত্রণালয় বা আইসিটি বিভাগে যোগাযোগ করবেন। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের (এমআইএস) পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, আমরা প্রবাসীদের টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে পাওয়ার পর তাতে থাকা তথ্যগুলো আইসিটি মন্ত্রণালয়ের হস্তান্তর করি। পরে তারা সেগুলো সুরক্ষা অ্যাপে সংযুক্ত করে। এমন সমস্যায় যারা পড়েছেন তাদের প্রতি পরামর্শ থাকবে তারা যেন আইসিটি বিভাগে যোগাযোগ করেন।

/জেডও/





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]