ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

যাত্রীর ভিড় নেই কাউন্টারগুলোয়
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জুলাই, ২০২১, ৩:৩৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 142

দুদিন পরে ঈদ অথচ রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো অনেকটাই ফাঁকা। দুই দিন আগেও ঘরমুখো মানুষের যে ভিড় ছিল তা এখন নেই। স্বাভাবিক সময়ের মতো যাত্রীদের ডেকে ডেকে গাড়িতে তুলছেন পরিবহন শ্রমিকরা। কোনো কোনো কাউন্টারে অলস সময় পার করছেন টিকেট বিক্রেতারা। কিছু গাড়ি ছেড়ে গেছে অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে। শনিবার রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা গেছ। 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ছুটি কম থাকায় এবং করোনা মহামারির কারণে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নেই, যে কারণে এবার অনেকেই বাড়িতে যেতে আগ্রহী নন। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ সময়ের আলোকে বলেন, একজন পরিবহন মালিক হিসাবে আমি হতাশ। সব জায়গাতেই যাত্রী কম। কারণ হচ্ছে একদিকে বাড়তি ভাড়া অন্যদিকে ঈদের পরে ছুটি কম। এ ছাড়া অনেক মানুষ আগেই চলে গেছে। 

শনিবার দুপুরে রাজধানীর অন্যতম বাস টার্মিনাল গাবতলীতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যাত্রীদের যতটা চাপ ছিল সে তুলনায় শনিবার কাউন্টারগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। থেকে থেকে দুয়েকজন যাত্রীর দেখা মিলছে। টিকেট বিক্রেতারা অনেকেই ঘুমিয়ে সময় কাটিয়েছেন। কেউ আবার গল্প করে, আড্ডা দিয়ে সময় কাটান। অন্যদিকে যানজটের কারণে বন্ধ রয়েছে আগাম টিকেট বিক্রি।

ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে সুপারভাইজর মো. রুবেল সময়ের আলোকে বলেন, গত দুই দিনের তুলনায় যাত্রী অনেক কম। বাড়তি ভাড়ার কারণে অনেকেই যেতে চায় না। তবে ১৯ তারিখ গার্মেন্টস ছুটি হলে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে। সকাল ৬টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ৬ থেকে ৭টি গাড়ি বিভিন্ন রুটে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে। এখন যাত্রী নেই, রাতে যাত্রী থাকলে একটি গাড়ি ছাড়া হবে। তবে সড়কে ভয়াবহ জ্যাম থাকার কারণে আগাম টিকেট বিক্রি বন্ধ রয়েছে। অনেক গাড়ি জ্যামের কারণে ঘাটের ওপারে আটকে আছে। গাড়ি পেলে টিকেট বিক্রি করব। না হয় যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।

ঈগল পরিবহনের সুপারভাইজর সুব্রত সাহা গোপি সময়ের আলোকে বলেন, সড়কে অনেক জ্যাম। আমি গাড়ি নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পোনে সাতটায় খুলনা থেকে রওয়ানা দিয়েছিলাম আর আজকে (শনিবার) দুপুর একটায় এসে গাবতলীতে এসেছি। ফেরিতে উঠতে সময় লেগেছে ১২ ঘণ্টা। ওপারে (দৌলতদিয়া ঘাট) দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার জুড়ে জ্যাম। পুরো সড়কজুড়ে শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস আর গরুর গাড়ি, আজকে জ্যাম আরও বাড়বে। 

পরিবার নিয়ে বরিশাল যাচ্ছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সফিক ও তার পরিবার। তিনি বলেন, ‘৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া দিয়ে বাড়ি যাচ্ছি পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে। কিন্তু বেশি ভাড়া দিলেও নির্ধারিত সময়ে গাড়ি আসছে না। এ কারণে অপেক্ষা করছি কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে ফেরিতে জ্যাম কখন গাড়ি আসবে তার কোনো ঠিক নেই।’ 

দ্রুতি পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের হাতে এখন গাড়ি আছে কিন্তু যাত্রী নেই তাই গাড়ি ছাড়ছি না। তা ছাড়া ফেরিতে প্রচুর জ্যাম যে কারণে আগাম টিকেট বিক্রি বন্ধ রয়েছে। যাত্রী পেলে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনার উদ্দেশ্যে একটি গাড়ি ছেড়ে যাবে।’ জাকের পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার কবির মোল্লা বলেন, এখন পর্যন্ত আলফাডাঙ্গার উদ্দেশ্যে একটি গাড়ি ছেড়ে গেছে। চারটায় আরেকটি গাড়ি ছাড়ার কথা রয়েছে কিন্তু যাত্রী নেই এখন পর্যন্ত ৫ জন যাত্রী হয়েছে। 

অন্যদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ ছিল কম। আগে যারা টিকেট কাটেননি, তারা কাউন্টারে এসে টিকেট কাটছেন। তবে অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, সরকারি নির্দেশনার বাইরে গিয়ে বাসভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট রুটে আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা, এখন সেখানে নেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। 

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের দিগন্ত পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সময়ের আলোকে বলেন, ‘যাত্রীদের অভিযোগ সত্যি নয়। কারও কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয় না। আমাদের বাসগুলো সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া নিয়ে চলাচল করছে।’

সায়েদাবাদ সিলেটগামী ইউনিক পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার বলেন, নরমাল সময়েও এর চেয়ে বেশি যাত্রী হয়। প্রথম দুদিন যে চাপ ছিল এখন তা নেই। অন্যদিকে কিছু যাত্রী দেখা গেছে মহাখালী টার্মিনালে, সকাল থেকে বেশ কিছু গাড়ি ছেড়ে গেছে এই টার্মিনাল থেকে। রেলপথে যাত্রীর সংখ্যা কম দেখা গেলেও নৌপথে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

ভিড় নেই ট্রেনেও : অন্যদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে চিরচেনা ভিড় নেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে। অনলাইনে টিকেট বিক্রি করায় কাউন্টারগুলোয় নেই টিকেটপ্রত্যাশীদের কোনো লাইন। শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতে ট্রেনগুলোর আসন সংখ্যার অর্ধেক টিকেট ইস্যু করায় স্টেশনে যাত্রীদের কোনো চাপ নেই। লকডাউন শিথিল হওয়ার পর গত বুধবার সকাল থেকে শুধু অনলাইন ও অ্যাপের মাধ্যমে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে রেলওয়ে। ফলে যাত্রীদের কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। শনিবার স্টেশনে দেখা গেল কাউন্টারগুলো ফাঁকা। 

শুরুতে দুই দিন টিকেটের জন্য কেউ কেউ এলেও এখন আর সেই ভিড় নেই। রেলস্টেশনে দেখা গেছে, মানুষের ভিড় এড়াতে মাইকিং করছে রেলকর্মীরা। মাস্ক ছাড়া কাউকেই স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মানুষকে জটলা বাঁধতে দেওয়া হচ্ছে না।

/এমএইচ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]