ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নুসরাতের ফাঁদে সুন্দরী তরুণীদের স্বপ্নভঙ্গ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জুলাই, ২০২১, ৪:২৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 367

ফাহিমা আক্তার বুড়িচং থেকে এসে কুমিল্লা শহরের একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছেন। টিউশনি করে কোনোমতে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন তিনি। নুসরাত যে বিল্ডিংয়ে ভাড়া থাকতেন সেখানেই একটি টিউশনি ছিল তার। 

টিউশনি থেকে ফেরার সময় একদিন সিঁড়িতে দেখা হয় নুসরাতের সঙ্গে। সুন্দর-সুশ্রী ফাহিমা নজরে পড়েন নুসরাতের। এরপর নুসরাত সখ্য গড়ে তোলেন ফাহিমার সঙ্গে। কুমিল্লা শহরে একজন বড় বোন পেয়েছেন ভেবে ফাহিমা নিজের পারিবারিক সমস্যাসহ সব কথা খুলে বলেন। নুসরাত অভয় দিয়ে ফাহিমাকে ছোট বোন সম্বোধন করে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহযোগিতা করতে থাকেন। এতে করে নুসরাতের প্রতি ফাহিমার আন্তরিকতা ও কৃতজ্ঞতা আরও বেড়ে যায়। এভাবে মাস তিনেক যাওয়ার পর নুসরাত বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ফাহিমাকে নিয়ে যান একটি ফ্ল্যাটে। সেখানে নিয়ে ফাহিমার অমতে জোর করে এক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করান নুসরাত। এরপর চলে ব্ল্যাকমেইল। ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ফাহিমাকে বানিয়ে ফেলেন পতিতা।

ফাহিমা এ প্রতিবেদককে জানান, আমার মতো অনেক তরুণীর সুন্দর জীবনের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে নুসরাত। অথচ তাকে দেখে এসব বোঝার উপায় নেই। দেড় বছর আগে আমিও বুঝতে পারিনি তার আসল চরিত্র। পরিচয়ের শুরুতে তাকে নিজের বড় বোনের আসনে রেখেছিলাম। আমি টাকা-পয়সার সঙ্কটে পড়লে সেও খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করত। কিন্তু তার এ অভিনয়ের আড়ালে যে অন্য মতলব ছিল তা কখনও বুঝতে পারিনি।

তিনি বলেন, একদিন বিকালে সে বললÑ চলো আমার খালাতো বোনের বাসায় যাই। এরপর আমাকে বাগিচাগাঁওয়ের একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আরও অনেক মেয়ে ছিল। শুরুতে দেখে মেয়েদের মেস মনে হলেও আমার ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। তখন আমি বেরিয়ে আসতে চাইলে জোর করে একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে একজন অপরিচিত মধ্যবয়সি লোকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। সেদিন সারা রাত আমাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

ফাহিমা বলেন, সকালে নুসরাত আমার রুমে এসে জানায় কালকে বিকাল থেকে সারা রাত যা হয়েছে তার সবকিছু ছবি তুলে ও ভিডিও করে রাখা হয়েছে। এ কথা শোনার পর আমি মনে হচ্ছিল মাথা ঘুরে ওখানেই পড়ে যাব। নুসরাত জানায়, এসব কাউকে জানালে ও তার ডাকে এখানে না এলে সব নেটে ছেড়ে দেবে। নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মানসম্মানের কথা চিন্তা করে নীরব থাকি। আর বিভিন্ন সময় নুসরাতের হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে বলি আমাকে এই নিষিদ্ধ জগৎ থেকে মুক্তি দিতে। কিন্তু নুসরাত বলে, যতদিন সে চাইবে ততদিন আমাকে পতিতাবৃত্তি করতে হবে। না হলে সব ফাঁস করে দেবে। এখন বুঝছি, যে নিজের মায়ের পেটের বোনকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করায় তার কাছ থেকে আমি মুক্তি পাব কী করে!

ফাহিম বলেন, শুধু নুসরাতের কারণে আমি আজ প্রায় দেড় বছর ধরে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনসহ এই নিষিদ্ধ জগতে আছি। অথচ আমি তো কখনও এমন পতিতাবৃত্তির জীবনযাপন চাইনি। আমি চাই সুন্দর সংসার, সুন্দর জীবন। নুসরাতকে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করে ফাহিমা বলেন, নুসরাত শতাধিক মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। তাদেরকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সঠিকভাবে তদন্ত করলে ব্যাংকে চাকরির আড়ালে নুসরাতের দেহব্যবসার তথ্যপ্রমাণ বেরিয়ে আসবে।

এদিকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যার জন্যও বড় বোন নুসরাতকেই দায়ী করছেন প্রতিবেশী, মুনিয়ার স্কুল ও প্রাইভেট শিক্ষক এবং কুমিল্লা শহরের সাধারণ মানুষ। তারা মুনিয়াকে বিপথে ঠেলে দেওয়া ও অবৈধ দেহব্যবসা চালানোর অপরাধে নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

নুসরাতের প্রতিবেশী বেসরকারি একটি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। কুমিল্লার বাগিচাগাঁওয়ের এ বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই বড় বোন নুসরাতের প্রতি বিষোদগার প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুনিয়ার নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিবাহিত ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াসহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সব ঘটনাপ্রবাহের জন্য দায়ী শুধু নুসরাত। নুসরাতকে জানোয়ার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বোন হয়ে নিজের আপন বোনকে এভাবে অন্ধকার জগতে কী উদ্দেশ্যে ঠেলে দিলেন তা তদন্ত করে দেখা দরকার। তাহলে নুসরাতের অনেক কুকীর্তি বেরিয়ে আসবে।

মুনিয়ার স্কুলজীবন নিয়ে কথা হয় তার একজন শিক্ষক মনিরের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। তিনি বলেন, মুনিয়া ছিল আমাদের স্কুলের একটি ফুটন্ত গোলাপ। মুনিয়াকে শুরু থেকে দেখে কখনও মনে হয়নি ও এমনটা হয়ে যাবে। খুবই শান্তশিষ্ট স্বভাবের ছিল মুনিয়া। কিন্তু এ অবস্থা বেশিদিন তার মধ্যে দেখা যায়নি। মুনিয়া যে সময়টা থেকে বোনের বাসায় থাকতে শুরু করেছিল তখন থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে। স্কুলে আসায় অনিয়ম, মাঝেমধ্যে এলেও ক্লাসের পড়া শেষ করতে না পারাসহ তার পাল্টে যাওয়াটা আমাদের চোখে পড়ে। মুনিয়ার এ বিকৃত রূপ ধারণের কারিগর ছিল তার বড় বোন নুসরাত। নুসরাতই মুনিয়ার এ মৃত্যুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। কারণ মুনিয়ার মৃত্যু তো এক দিনে হয়নি। তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন তারই বোন নুসরাত।

/এমএইচ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]