ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কামারশালায় টুংটাং শব্দে টুকটাক আয়
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ১:৫৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 104

‘দা-ছুরি ধারাই, পাডা-বটি-চাকু ধারাই’- ভরদুপুরে হঠাৎই এমন আওয়াজ কানে আসে।’ দা-ছুরি ধারানোর যন্ত্র কাঁধে নিয়ে রাজধানীর মহাখালীর একটি মহল্লায় ঘুরছিলেন সবুর মিয়া। শুক্রবার সকালে বেরিয়ে মাত্র দুটি বঁটি ধার দিতে পেরেছেন। 

করোনার বিধিনিষেধের কারণে এতদিন বাইরে বের হতে পারেননি তেমন। টুকটাক বের হলেও অলিগলিতেই ছিলেন। আয় নেই। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ধারানোর কাজে হণ্যে হয়ে ঘুরছেন। 

ভ্রাম্যমাণ সবুর মিয়ার মতোই আরও মন্দা চলছে রাজধানীর কামারপাড়ায়। দফায় দফায় অতিমারি করোনার ঘেরাটোপে ঘায়েল হয়েছে কামার পল্লী। গেল বছরও কোরবানির ঈদের আগে কামারপট্টিগুলো ছিল সাঁটার-মোড়ানো। এবারও করোনার বিধিনিষেধ কারিগরদের প্রস্তুতিতে বাগড়া দিয়েছে। দুদিন আগে বিধিনিষেধ শিথিল হলে আবারও বসছেন তারা। তবে মন ভালো নেই কামার পল্লীর কারিগরদের। কোরবানি ঈদের দিন কয়েক বাকি থাকলেও দা-ছুরি-বঁটির বাজার এখনও জমে ওঠেনি। সংক্রমণ শঙ্কায় প্রত্যাশা অনুয়ায়ী ক্রেতার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। 

কোরবানির অন্যতম অনুষঙ্গ দা-বঁটি-ছুরি ব্যবসায়ে খানিকটা ব্যস্ততা বাড়লেও নেই ক্রেতার দেখা। লকডাউনের আগে দা-বঁটি-ছুরিসহ নানা যন্ত্রপাতি বিক্রি হতো মানভেদে ৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তাই বেড়েছে পণ্যের দামও। ক্রেতার অভাবে তাই অনলাইন পেজ ও মার্কেটপ্লেসের দিকে নজর বিক্রেতাদের। তবে লাভের অঙ্কে স্বস্তি নেই ব্যবসায়ীদের।

কারওয়ান বাজারের কামার পল্লীতে প্রবেশ করতেই ভেসে আসে টুংটাং হাতুড়ির শব্দ। তপ্ত লোহা পিটিয়ে দা-ছুরি তৈরির কাজ চলছে। তবে আগের মতো ব্যস্ততা নেই। ক্রেতারা তেমন আসছেন না। কাজ অর্ধেকে নেমে এসেছে। 

নীশিত কর্মকার জানান, কোরবানির আগের মাস থেকেই আমাদের ব্যবসা চাঙ্গা হতো। কিন্তু এ বছর আশানুরূপ কাজ নেই। জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে। তাই আগে থেকেই হাতিয়ার তৈরি করতে সাহস পাই না। আগে কয়লা মজুদ করে রাখতে হতো। এবার তা নেই। 

তিনি জানান, দা ও কোপতা বানাতে ৪০০, বড় ছুরি ৬০০, ছোট ছুরি ১৫০ এবং শান দেওয়ার মজুরি প্রকারভেদে ৮০ ও ১২০ টাকা নেওয়া হয়। 

রমজান আলী নামে এক ক্রেতা জানান, কোরবানির আগে কামারশালায় ভিড় থাকে। লকডাউন করোনা সব মিলিয়ে সে তুলনায় ভিড় নেই। বিক্রেতাদের মাঝেও ব্যস্ততা নেই। লকডাউনে মানুষের আয় কমেছে তাই কোরবানি দেওয়ার সংখ্যাটাও এবার কমে যাবে। এ কারণেই ভিড়বাট্টা তেমন নেই। 

কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোতে দেখা যায়, পসরা সাজিয়ে একেকটি বঁটি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০, ছুরি ৬০ থেকে ২০০, চাপাতি ৫০০ থেকে ৬০০ ও মাংস কাটার কুড়াল ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। অল্প ক্রেতা থাকলেও ক্রেতারা বলছেন বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার দা-ছুরি-বঁটির দাম খানিকটা বাড়তি। দীর্ঘদিন ধরে কারওয়ান বাজার থেকে দা-বঁটি কেনেন আজগর মুনশি। 

তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে দা, বঁটি ও ছুরির দাম একটু বেড়েছে। ঈদের আগে এমনিতেও দাম কিছুটা বেড়ে যায়। ঈদের সময় ৫০ টাকার ছুরি বিক্রি হয় ১০০ টাকায়। যেহেতু বছরে একবার ঈদ আসে সে জন্য আমরা তেমন দরকষাকষি করি না। 

আরেক বিক্রেতা মিজান শেখ বলেন, লকডাউনের কারণে আমাদের বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। টুকটাক আয় হচ্ছে। আগের মতো আর ক্রেতা নেই। আগে ঈদের সময় প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মাল বিক্রি করতাম আর এখন সারাদিন দোকান খুলে বসে থাকলেও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয় না। তবে শেষ দিকে হয়তো বেচাকেনা একটু বাড়বে।

কারওয়ান বাজার কামারপট্টিতে ১২টি দোকানে কামাররা দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরি করেন। তাদের তৈরি এসব পণ্য বিক্রি হয় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫৩টি দোকানে। সব মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক লোকের কর্মসংস্থান রাজধানীর এই কামারপট্টিতে। ক্রেতার আনাগোনা না থাকায় হাঁকডাক নেই কামারপট্টিতে। কয়েকজন দোকানিকে দেখা গেল টুলে বসে অলস সময় কাটাতে। 

অন্যদিকে লকডাউনের প্রভাবে বেড়েছে লোহা ও কয়লার দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, কামার পণ্যের দাম না বাড়লেও এই শিল্পের কাঁচামাল লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বছর বছর বেড়েই চলছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর লোহার কেজিতে দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। কয়লার কেজিও ১০ টাকা করে বেড়েছে। অন্যদিকে একই অবস্থা চাটাই ও খাইট্টার বাজারেও। ঈদের দিন গরু জবাইয়ের পর চাটাই ও খাইট্টার কদর বাড়ে সবচেয়ে বেশি। দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতির পাশাপাশি এবার এগুলোর বাজারও মন্দা। মানভেদে কারওয়ান বাজারে খাইট্টা ৩০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর চাটাই পাওয়া যায় ১৫০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। তবে খাইট্টা বিক্রেতাদের আশা- গরু কেনা হয়ে গেলে বিক্রিও বাড়বে।

/এমএইচ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]