ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি
চেক পেলেও টাকা মেলেনি
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ৫:১১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 76

রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারকে সম্প্রতি ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লাখ করে টাকা দিয়েছে মালিকপক্ষ; কিন্তু সেই টাকা এখনও তুলতে পারেননি তারা। আবার কেউ চেক পেলেও নিহতের পাওনা বেতন, বোনাস ও ওভারটাইমের কোনোটিই পাননি। হাতে টাকা না পাওয়ায় পরিবারগুলো ঈদ বাজারও করতে পারছে না। ফলে তাদের এবারের ঈদ কাটবে নিরানন্দভাবে। 

নাজমুলের বেতনটাও পায়নি পরিবার : কারখানার চতুর্থ তলায় চাকরি করতেন নিহত নাজমুল ইসলাম (১৮)। দশম শ্রেণিতে উঠলেও লকডাউনের কারণে বাড়িতে বসে থাকতে চাননি। রূপগঞ্জে সেজান জুসের কারখানায় ১ মাস ১০ দিন চাকরিও করেছেন। তার মাসিক বেতন ছিল ৫ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু নাজমুলের মৃত্যুর পর তার পরিবারকে বেতনটুকু পর্যন্ত দেয়নি কর্তৃপক্ষ। যদিও কারখানার মালিকের দেওয়া ২ লাখ টাকার একটি চেক পেয়েছে তার পরিবার। তবে সেই চেকের টাকা তুলতে পারেনি। নিহত নাজমুলের বড় ভাই মোবারক হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ছোট ভাইটা এক মাসেরও বেশি সময় চাকরি করল; কিন্তু মালিক বেতনটাও দিল না। 

বোনের লাশ এখনও পাই নাই, কিসের ঈদ : সেজান জুসের কারখানার চতুর্থ তলায় চাকরি করতেন নিহত মাহমুদা। বড় ভাই সুমন ও বোন মাহমুদার আয়েই চলত সংসার। কিন্তু মাহমুদা এখন নেই। ফলে সামনে কী হবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন ভাই সুমন। পুড়ে মারা যাওয়া বোনের লাশটি এখনও হাতে পাননি ভাই সুমন। তবে লাশ পেতে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দিয়েছেন। সুমন সময়ের আলোকে বলেন, এবার আবার ঈদ কী? বোনের লাশটা কবে পামু সেই অপেক্ষায় আছি। 

কেঁদে রাত কাটে কম্পা রানীর মায়ের : পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে মৌলভীবাজার সদরের কম্পা রানী। বাড়তি আয়ের জন্য মেয়েকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন বাবা কোরবা চন্দ্র বর্মণ। চাকরিতে যোগদানের মাত্র ৮ দিনের মাথায় পুড়ে লাশ হতে হয়েছে কম্পাকে। কম্পার বাবা জানান, তার মেয়ের মৃত্যুতে সংসারে শোকের সাগর বাইছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী। আদরের মেয়েকে হারিয়ে প্রতিদিন কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছেন তিনি। প্রতি রাতে ঘুমান না, সারাক্ষণই কাঁদেন। কোরবা বর্মণ সময়ের আলোকে বলেন, সরকারে যা কইব আমরা রাজি; কিন্তু মাইয়ার লাশটা চাই। 

এবার মাকে ছাড়াই ওদের ঈদ : বগুড়ার সারিয়াকান্দির নাজমা আক্তার। সেজান জুসের কারখানায় ৫ বছর করেছেন। ঘটনার আগের রাতে গ্রামে থাকা মা কল্পনাকে ফোন করেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন তার ৭ বছরের ছেলে নয়নের ঈদের নতুন কাপড় কিছু লাগবে কি না। আর কথা হয়নি। এবার মাকে ছাড়াই ঈদ করবে তার রেখে যাওয়া ছেলে নয়ন। একই অবস্থা নিহত আমেনার রেখে যাওয়া ৪ বছরের সন্তান রাফিরও। বাবার সঙ্গেই কাটবে তার এবারের ঈদ; কিন্তু মাকে পাবে না সে। আমেনার দেবর সজীব জানালেন, তারা তার ভাবীর মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকার চেক পেয়েছেন; কিন্তু আর কিছুই পাননি।

/এমএইচ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]