ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কঙ্গোর বাঁকেবাঁকে বাংলার আভা
আলমগীর হোসেন, কঙ্গো থেকে ফিরে
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ৯:৩৪ এএম আপডেট: ১৯.০৭.২০২১ ৫:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 154

‘বড় ভাই কী খবর? ও বড় ভাই কেমন আছেন? খবর ভালো?’- এমন কথাগুলো শুনলে স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে বাংলাদেশি কেউ কুশল বিনিময় করছেন। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার মাইল দূরে আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর গোমা শহরের পাশের মুনিগি এলাকায় গেলে স্থানীয় সাধারণ শিশু-কিশোরদের মুখে স্পষ্ট বাংলায় এভাবে কথা বলতে শোনা যায়।

সরেজমিন গত ৯ জুলাই পাহাড়বেষ্টিত ওই এলাকায় গেলে মুনিগির একেবারে পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলারত অবস্থায়ও নিজেদের মধ্যে থেকে থেকে বাংলায় নানা কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় গোমায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যানইঞ্জিনিয়ার-১১ কন্টিনজেন্টের জিপ গাড়িতে এলাকা পরিদর্শনকালে বিভিন্ন মহল্লাতেই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দেখলেই স্থানীয় শিশু-কিশোররা বাংলা ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করছিল। এ ছাড়া ৭ জুলাই কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া এলাকায় গেলে সেখানেও স্থানীয় অনেককে বাংলায় কথা বলতে শোনা যায়। তার আগে ২ জুলাই গোমা শহরের ব্যানএমপি কন্টিনজেন্টের ক্যাম্পে গেলে সেখানে একদল স্থানীয় কিশোর-যুবককে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতসহ বাংলা জনপ্রিয় নানা গান গাইতেও শোনা গেছে।

গত ৭ জুলাই বুনিয়ায় গিয়ে একটি সবজি বাগানের পাশে দাঁড়ালে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের দেখে ‘কী খবর? কেমন আছেন?’- বলতে শোনা যায় স্থানীয় কয়েক যুবককে। এ সময় বুনিয়ার স্থানীয় যুবক ‘লারা’ বাংলায় গান গাইতে শুরু করেন। ‘বন্ধুরে কই পাবো সখি গো...’ বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় গানটি কঙ্গোর স্থানীয় যুবক লারার কণ্ঠেও অসাধারণ লাগছিল। সেখানে উপস্থিত স্থানীয় যুবক হাসান কাসিম এ সময় স্পষ্টভাবে বাংলায় বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা আমাদের সঙ্গে আপনজনের মতো মিলেমিশে থাকেন। সে কারণে আমরাও বাংলাদেশকে ভালোবাসি। ভালো লাগার কারণেই বাংলায় আমরা কথা বলি। অবশ্য আমরা নিজ বাড়িতে সবার সঙ্গে ‘সহেলি’ (স্থানীয়) ভাষায় কথা বলি।’ এদিকে ৮ জুলাই রাতে গোমায় নিয়োজিত ব্যানইঞ্জিনিয়ার কন্টিনজেন্টের ক্যাম্পে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেও বাংলায় কয়েকটি গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পী আলতামাস টাইগার।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যক্রম পরিদর্শনে যাওয়া ওই মিডিয়া টিমের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ‘এত দূরে এসে স্থানীয় কিশোর-যুবকদের মুখে যখন বাংলা কথা শুনছি তখন অন্যরকম এক ভালো লাগা ছুঁয়ে যায়। পথে-ঘাটে বের হলে অনেকেই পেছন থেকে বাংলায় নানা কথা বলে সম্বোধন করছে। এটা রীতিমতো অবাক হওয়ার মতো বিষয়।’ ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীদের উদ্যোগের ফলে কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকায় এভাবে বাংলা শোনা যাচ্ছে। এটা আমাদের শান্তিরক্ষীদের আন্তরিকতা ও দূরদর্শিতার ফল।’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বহুজাতিক (বিভিন্ন দেশের) বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা কঙ্গোর নর্দান সেক্টর কমান্ডার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা অন্যান্য দেশের বাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি মানবিক, আন্তরিক ও পেশাদার। এ কারণে স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে সখ্যও ভালো। একসঙ্গে মেলামেশার ফলে কঙ্গোর স্থানীয় অনেক কিশোর-যুবকের মধ্যে বাংলার প্রতি বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে। এমন অনেকেই আছে যাদের বাংলা ভাষায় কথোপকথন শুনলে কোনোভাবেই মনে হবে না তারা বাংলাদেশি নয়।’ মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের ম্যান্ডেটের বাইরেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সিমিক (সিভিল মিলিটারি কো-অপারেশন) প্রোগ্রামের আওতায় নানা ধরনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। তারই অন্যতম একটি বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রসার ঘটানোর কার্যক্রম।’

/এসএ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]