ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

যেকোনো মূল্যে করোনার ছোবল রুখতে হবে
আর কে চৌধুরী
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ১১:৩৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 59

জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছুই নয়- এ কথাটি আমরা ভুলে গেছি। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গতির মধ্যেই ঈদুল আজহা উপলক্ষে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। সব ধরনের গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি ও শপিংমল, হাটবাজার ইত্যাদি খোলা রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা থাকলেও কেউ তা মানছে না। এমতাবস্থায় সংক্রমণের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ফেরিতে বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির। দেশে দৈনিক দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে করোনায়। নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যাও কমছে না। মানুষের দায়িত্বহীনতার কারণে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটতে পারে। সবার সুবিধার্থে সরকার লকডাউন শর্তসাপেক্ষে শিথিল করার পর মানুষ যেভাবে বেপরোয়া চলাচল করছে, তাতে ঝুঁকি বাড়বে নিঃসন্দেহে।

দীর্ঘদিন ধরে করোনার সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে এর প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো দেশের প্রায় সবাই কমবেশি জানেন কিন্তু অনেকেরই এসব মানার ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যাপক অনীহা। এই প্রবণতা আত্মঘাতীর শামিল। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেক ভয়ঙ্কররূপে এসেছে। সংক্রমণ এখন আর গণ্ডিবদ্ধ নয়। সচেতনতা-সতর্কতায় এ থেকে উত্তরণ সম্ভব। আগে সংক্রমণ শহরাঞ্চলে থাকলেও এখন তা গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ঙ্করভাবে। গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যবিধির ব্যত্যয় ঘটছে তুলনামূলক বেশি। তাই এবার সংক্রমণের গতিরোধ করা অপেক্ষাকৃত বেশি কঠিন হবে- জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই আশঙ্কা অমূলক নয় বলেই মনে করি।

গণপরিবহন যাতে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলে এবং মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ অনুসরণ করে, এ জন্য প্রশাসনের কঠোর অবস্থান কাম্য। দায় যার যার কিন্তু দায়িত্ব সবার। পর্যবেক্ষক-বিশেষজ্ঞরা যেসব সুপারিশ পরামর্শ সরকারের কাছে ইতঃপূর্বে পেশ করেছেন এবং নীতিনির্ধারকরা এর পরিপ্রেক্ষিতে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে যথেষ্ট ঘাটতি থেকে যায়। লকডাউন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা গেছে সমন্বয়হীনতা ও বিভ্রান্তি। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ আগামী দুই-তিন দিন আরও বাড়বে বলেই আমাদের অনুমান।

ঈদের পর ফেরার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে, ঈদের দুদিন পরই আবার কঠোর বিধিনিষেধ থাকায়, এ শঙ্কা অমূলক নয় যে, ঈদের পরদিনই বাড়ি থেকে ফিরতে মানুষের ব্যাপক চাপ থাকবে। এ জন্য সে সময় অতিরিক্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা যায় কি না, প্রশাসন তা ভাবতে পারে। তবে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যাতে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল করে, এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই হবে। সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক নজরদারি রাখার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে মানুষকেও সচেতন-সতর্ক হতে হবে।

সরকারের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে গত ঈদে মানুষের ঘরে ফেরা ও ঈদ-উত্তর কর্মস্থলে ফিরে আসায় চরম বিশৃঙ্খলার কারণে আমরা বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করে এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মহল দায়িত্ব পালনে অধিকতর তৎপর হোক। ঘরে ফেরা মানুষ যাতে এলাকায় গিয়ে সচেতনতার অভাবের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি যাতে বাড়িয়ে না তোলে তাও নিশ্চিত করা জরুরি। উৎসব উদযাপনে সবাইকে থাকতে হবে সচেতন। অতীতের মতো বিশৃঙ্খলার বিবিধ রূপ আমরা দেখতে চাই না। সবাইকে মনে রাখতে হবে, কোনো কারণেই যাতে সামষ্টিক কল্যাণের অতি জরুরি বিষয় হুমকির মুখে না পড়ে।

এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাই শুধু বাড়ছে না, সংক্রমণের ধরনও দ্রুত পাল্টাচ্ছে। কিছুদিন আগেও দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বেশি ছিল। এখন সংক্রমণ ও মৃত্যু- দুটিই ঢাকায় বেশি। সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে। দেশে এখন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সিরা। মৃত্যু এখনও ষাটোর্ধ্ব বয়সিদের মধ্যেই বেশি। কিন্তু গত দুই মাসে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের মৃত্যুহারও অনেক বেড়েছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার অনেক বেশি। নবজাতক থেকে শুরু করে চার বছর বয়সি শিশুরাও উদ্বেগজনক হারে আক্রান্ত হচ্ছে। তারপরও মানুষের মধ্যে সচেতনতা কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা খুবই কম। এসব কারণে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, করোনার অতিমারি অচিরেই আরও লাগামহীন হয়ে পড়তে পারে।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এমন পরিস্থিতির কারণে মানুষও অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছে। আবার জীবন-জীবিকার কারণেও অনেকে বেপরোয়া আচরণ করছে। ফল খারাপই হচ্ছে। নবজাতক বা অতি ছোট শিশুরা ঘরের বাইরে একা যেতেই পারে না। বয়স্করা ঘরের বাইরে কমই যায়। অথচ পরিবারের বেপরোয়া অন্য সদস্যদের দ্বারা তারাও বেশি করে আক্রান্ত হচ্ছে। মারাও যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারপরও মানুষের মধ্যে এই বেপরোয়া ভাব ক্রমেই বাড়বে। অর্থনৈতিক কারণেও মানুষ আরও বেপরোয়া হবে। এখন করোনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে, দ্রুত বেশিরভাগ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে। টিকা সংগ্রহের জোর চেষ্টা চলছে। টিকা প্রদানেরও গতি বাড়ছে। গত দুই দিন দৈনিক দুই লাখের কাছাকাছি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা দৈনিক কমপক্ষে পাঁচ লাখে নিয়ে যেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামনে কোরবানির ঈদ। রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। ফেরিগুলোতে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। বড় যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহনেও যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা। একই অবস্থা দেখা যাবে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময়ও। এরই মধ্যে সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। রাজধানীতে সেসব হাটে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, কিন্তু তার প্রায় কিছুই মানা হচ্ছে না। রাজধানীর বাইরের অবস্থা আরও খারাপ। হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব, হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলো তো মানাই হয় না, মানুষ মাস্ক পর্যন্ত পরে না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে এ ব্যাপারে আরও তৎপর হতে হবে। বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, মার্কেট, শপিং মল- সর্বত্র নজরদারি বাড়াতে হবে। সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনকে হাট-বাজারে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। যেকোনো মূল্যে অতিমারির ভয়ঙ্কর ছোবল আমাদের রুখতেই হবে।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ; সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক

/এসএ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]