ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ঈদ অর্থনীতিতে চরম মন্দা
করোনাকাল কেটে গেলেই হবে চাঙ্গা
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ১১:৪৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 81

বাংলাদেশের মানুষের বড় উৎসব ঈদ। অর্থনীতিতে ঈদের গুরুত্ব অনেক। কেননা ঈদকে ঘিরে চাঙ্গা হয়ে ওঠে ব্যবসা-বাণিজ্য। কিন্তু করোনার কারণে এবার ঈদের বাজার মন্দা। একই কারণে গত বছরও প্রায় এমন অবস্থাই ছিল। এবার রোজার ঈদে পোশাকের বাজারে কিছুটা বিকিকিনি হলেও কোরবানির ঈদে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। কোরবানির ঈদে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো পশুর বাজার। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এবার কোরবানি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। শুধু পশুর বাজার নয়, এবার জুয়েলারি ব্যবসায়ী, মিষ্টির দোকান, মসলা ব্যবসায়ী, দা-বঁটি তৈরির কামার থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসায়ই মন্দা। তবে আশার কথা এই যে, এই মহামারির মধ্যে একমাত্র রেমিট্যান্সে চাঙ্গা ভাব রয়েছে। ঈদ ঘিরে প্রবাসীরা গত অর্থবছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা পাঠিয়েছেন। এতে ঈদের আগে রেমিট্যান্সপ্রবাহ আরও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

ঈদ অর্থনীতির আকার নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঠিক গবেষণা নেই। তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সংগঠনটির তথ্য বলছে, স্বাভাবিক সময়ের কোরবানির ঈদে শুধু গরু-ছাগলসহ অন্যান্য পশু বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকার। রোজার ঈদে ৩০ থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হলেও এই ঈদে সেটি  ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ঈদ উপলক্ষে পশু ও পোশাক ছাড়াও  ফার্নিচার, গাড়ি ও আবাসন খাতে বড় লেনদেন হয়। সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এবারের বাস্তবতা বেশ কঠিন। করোনা ব্যবসা-বাণিজ্যকে এলোমেলো করে দিয়েছে। কোরবানির ঈদে বাণিজ্য অর্ধেক কমতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ে যদি ৪০ হাজার কোটি টাকার কোরবানির পশু বিক্রি হয়, এবার সেটি ২০ হাজার কোটি টাকায় নামতে পারে। লকডাউনের কারণে সবকিছুই বন্ধ ছিল। সরকার মাত্র সপ্তাহখানেকের জন্য সবকিছু খুলে দিয়েছে। এই এক সপ্তাহে প্রত্যাশিত বাণিজ্য কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সবকিছু মিলিয়ে  ব্যবসায়ীরা এখন কোনো রকমে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছেন।

আমরা জানি, ঈদকে ঘিরে অর্থনীতির সব খাতেই গতি আসে। চাকরিজীবীরা যে ঈদ বোনাস পান, তার প্রায় পুরোটাই যায় ঈদের বাজারে। প্রবাসীরাও রেমিট্যান্স পাঠান বেশি। এই টাকারও একটি বড় অংশ ঈদের বাজারে আসে। শপিংমল বা মার্কেটগুলোর বাইরে কুটিরশিল্প, তাঁতশিল্প, দেশীয় বুটিক হাউসগুলোতে বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য। তবে এবার মন্দার হাওয়া সব খাতেই। এ জন্য এবারের কোরবানির ঈদে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতিও। একে তো শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত মানুষের হাতে টাকা-পয়সা কমে গেছে, আবার করোনার কারণে নতুন করে অনেক মানুষ বেকার হয়েছেন। অন্যদিকে কঠোর লকডাউনে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ খাতে ব্যয় করছে বেশি। পাশাপাশি অনেকেই কৃচ্ছ্র সাধনে মনোযোগী হয়েছেন। ফলে মুদ্রার প্রচলন গতি কমেছে। তবে রেমিট্যান্সপ্রবাহ যেহেতু চাঙ্গা রয়েছে, সেহেতু করোনাকাল কেটে গেলেই অর্থনীতি যে আবার চাঙ্গা হবে এটা সহজেই অনুমেয়। আমাদের প্রত্যাশা, অচিরেই করোনাকাল কেটে যাবে এবং আগামী বছর আবার চাঙ্গা হবে ঈদ অর্থনীতি।  

/এসএ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]