ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

‘মুনিয়াকে খারাপ হতে বাধ্য করেন নুসরাত’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ১১:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 146

নুসরাত জাহান তানিয়া আপন বোন মোসারাত জাহান মুনিয়াকে টাকার বিনিময়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিসহ বিভিন্ন লোকের সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছিলেন। মা-বাবাহারা এতিম মুনিয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলত এ পতিতাবৃত্তি। নুসরাতের কথামতো কাজ না করলে মুনিয়ার ওপর নেমে আসত অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। এভাবে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখা ফুটফুটে মুনিয়ার ভেতরে থাকা সুন্দর মনের মানুষকে বোন নুসরাত মেরে ফেলে গড়ে তুলেছেন অন্ধকার জগতের এক ভোগের বস্তু হিসেবে।
দেশজুড়ে আলোচিত মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে বড় বোন নুসরাত ও মুনিয়ার প্রতিবেশী, মুনিয়ার স্কুল ও প্রাইভেট শিক্ষক, কুমিল্লা শহরের সাধারণ মানুষ, মুনিয়ার স্কুলের বান্ধবী ও নুসরাত সবসময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করেন এমন অন্তত ১২ জনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

সবাই একটা বিষয়ই মনে করেন, ফুটফুটে মুনিয়ার অকালে চলে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র তার বড় বোন নুসরাত দায়ী। তারা মুনিয়াকে জোর করে বিপথে ঠেলে দেওয়া ও আত্মহত্যা করতে বাধ্য করার অপরাধে নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।

মুনিয়ার কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের ঘনিষ্ট বান্ধবী সামিহা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, মুনিয়া আর আমি ক্লাস নাইনে একসঙ্গে পড়তাম। পুরো ক্লাসে সবার চাইতে আমাদের দুজনের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। পরিচয়ের শুরুর দিকে মুনিয়াকে দেখতাম অন্য সবার মতো স্বাভাবিক। কয়েক মাস যাওয়ার পর তাকে অচেনা মনে হতে লাগল। সে আমাদের অন্য সহপাঠীদের থেকে দূরে দূরে থাকে। কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইত না। খুবই চিন্তিত থাকত সে।

তিনি বলেন, একদিন মুনিয়াকে একা ডেকে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করতেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। আর বলে, আমার কপাল খারাপ। অল্প বয়সে মা-বাবাকে হারিয়ে আমি বড় বিপদে পড়ে গেলাম। আমি কোথায় যাব, কই থাকব? বোনের বাসায় থাকতে আমার ভালো লাগে না। বোনের আচার-আচরণ আমার ভালো লাগে না। বোন কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে।

মুনিয়ার এই কথাগুলো স্মরণ করে বান্ধবী সামিহা বলেন, সেদিন বুঝতে পারিনি, মুনিয়া কেন এসব বলছে। তাই মুনিয়া না যেতে চাইলেও বুঝিয়ে অনেক দিন জোর করে স্কুল শেষে বোনের বাসায় দিয়ে এসেছিলাম। এখন বুঝতে পারছি মুনিয়া কেন বোনের বাসায় যেতে চাইত না। কেন বলত বোনের আচার-আচরণ তার ভালো লাগে না। বোন হয়ে বোনের এত বড় ক্ষতি কীভাবে করলেন নুসরাত! এ জন্য নুসরাতকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

মুনিয়ার শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, মুনিয়া ছিল আমাদের স্কুলের একটি ফুটন্ত গোলাপ। তাকে শুরু থেকে দেখে কখনও মনে হয়নি ও এমনটা হয়ে যাবে। খুবই শান্তশিষ্ট স্বভাবের ছিল মুনিয়া। কিন্তু এ অবস্থা বেশি দিন তার মধ্যে দেখা যায়নি। মুনিয়া যে সময়টা থেকে বোনের বাসায় থাকতে শুরু করেছিল, তখন থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে। স্কুলে আসায় অনিয়ম, মাঝেমধ্যে এলেও ক্লাসের পড়া শেষ করতে না পারাসহ তার পাল্টে যাওয়াটা আমাদের চোখে পড়ে। সুতরাং মুনিয়ার এ বিকৃত রূপ ধারণের কারিগর ছিলেন তার বড় বোন নুসরাত। নুসরাতই মুনিয়ার এ মৃত্যুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। কারণ মুনিয়ার মত্যু তো এক দিনে হয়নি। তার ভেতরের ভালো মানুষটা অনেক আগেই মেরে ফেলেছিলেন নুসরাত।

মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে নুসরাতের প্রতিবেশী বেসরকারি একটি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। কুমিল্লার বাগিচাগাঁওয়ের এ বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই বড় বোন নুসরাতের প্রতি বিষোদগার প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, মুনিয়া নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিবাহিত ছেলের সঙ্গে চলে যেতে বাধ্য করাসহ সকল ঘটনাপ্রবাহের জন্য দায়ী শুধুমাত্র নুসরাত। নুসরাতকে জানোয়ার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বোন হয়ে নিজের আপন বোনকে এভাবে অন্ধকার জগতে কী উদ্দেশ্যে ঠেলে দিলেন তা তদন্ত করে দেখা দরকার। তাহলে নুসরাতের অনেক কুকীর্তি বেরিয়ে আসবে।

মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সদাই করেন কুমিল্লা নিউমার্কেটের নিচে অবস্থিত একটি দোকান থেকে। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ওই দোকানে যান নুসরাত। ওই দোকানি বলেন, ওনার খরচ দেখে এতদিন আমি ভেবেছিলাম উনি অনেক বিত্তশালী। কিন্তু ওনার বোন মারা যাওয়ার পর যা জানতে পেরেছি, তা আমার ধারণার সঙ্গে মিলছে না।

তিনি বলেন, এখন আমাদের কাছে পরিষ্কার ছোট বোন মুনিয়া ছিল তার টাকার ব্যাংক। মুনিয়াকে তিনি এ জন্যই ছোটবেলা থেকে খারাপ পথে ঠেলে দিয়ে নিজে বিলাসী জীবনযাপন করেছেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা টাউন হল মাঠ, রানীর বাজার, বাগিচাগাঁওয়ের অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে মন্তব্য জানতে চায় এ প্রতিবেদক। সবাই বলেছেন, মুনিয়া কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন সেটা জানতে নুসরাতকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

প্রসঙ্গত, ১৯ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কুমিল্লার তরুণী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, নুসরাতের নানা চাপের কারণেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন মুনিয়া।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]