ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মোহাম্মদপুরের জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা মামুনুল গংয়ের দখলমুক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১, ১:৪৮ এএম আপডেট: ২০.০৭.২০২১ ৫:৪০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 72

জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসাকে মাওলানা মামুনুল হক গংয়ের হাত থেকে দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করার পর এদিনই এর দেখভালের দায়িত্ব ওয়াকফ এস্টেটকে বুঝিয়ে দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আওয়াল। এর ফলে মাদ্রাসার কর্তৃত্ব হারালেন নারায়ণগঞ্জে রিসোর্টকাণ্ডে বিতর্কিত হেফাজত নেতা মামুনুল হক ও তার বড় ভাই মাহফুজুল হক। দায়িত্ব পাওয়ার পর বিকালে জরুরি সভায় বসে মাদ্রাসার নতুন কমিটি। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীরা ছবি ও ভিডিও করতে গেলে তাদেরও বাধা দেয় মাদ্রাসার ছাত্ররা। মাদ্রাসার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

এদিকে অভিযান চালানোর খবর পেয়ে সোমবার সকালেই অনুসারীদের নিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন মাহফুজুল হক। পরে বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসাটি ‘অবৈধ দখলমুক্ত’ করতে যায় ঢাকা জেলা প্রশাসন। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাদ্রাসার ভেতরে ঢোকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দখলমুক্ত করার পর সেটি ওয়াকফ এস্টেটের লোকজনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মাদ্রাসাটিতে অভিযানের সময় কক্ষগুলোতে তালা ঝোলানো ছিল। পরে সেগুলো ভেঙে ফেলে প্রশাসনের লোকজন। এরপর তার দায়দায়িত্ব বুঝে দেন তারা।
 
সোমবার বিকাল ৪টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল আওয়াল। তিনি বলেন, যে মাদ্রাসাটির সামনে আমরা দাঁড়িয়ে আছি সেটি একটি মসজিদ ও ওয়াকফ এস্টেট। এই ওয়াকফ এস্টেটে আগে বিভিন্ন ইস্যু ছিল। কোর্টে বিভিন্ন মামলা চলমান ছিল। মামলা চলমান থাকায় একটি পক্ষ এটার দখলে ছিল। মাদ্রাসাটির জন্য ওয়াকফ প্রশাসনের গড়ে দেওয়া নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আবদুল রহিমকে। যেহেতু ওয়াকফ এস্টেট প্রশাসন কমিটি গঠন করেছে, তাই আমরা সেই কমিটির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি। ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, মাদ্রাসাটির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এটি নির্বাচিত বৈধ কমিটির কাছে হস্তান্তরের জন্য চলতি মাসে আমরা ওয়াকফ প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে এসেছি।

সকালেই নিজের অনুসারী শিক্ষক-ছাত্রদের নিয়ে মাদ্রাসাটি ছেড়ে চলে যান মুহতামিম মাহফুজুল হক। যাওয়ার সময় তিনি মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা দিয়ে যান। মাদ্রাসার চাবি সরকার স্বীকৃত ইসলামি শিক্ষা বোর্ড আল হাইআতুল উলয়ার (বেফাক) চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান মাহফুজুল হক।

যেভাবে মাদ্রাসাটি মাহফুজুল-মামুনুল পরিবারের দখলে : দেশের প্রসিদ্ধ কওমি মাদ্রাসাগুলোর একটি মোহাম্মদপুরের জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসা ওয়াকফ প্রশাসনে নিবন্ধিত। মামুনুল ও মাহফুজুলের বাবা আজিজুল হক মোহাম্মদপুরের জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর অধ্যক্ষ হয়েই জড়িয়ে পড়েন অনিয়মে। অনিয়ম করার অভিযোগে ১৯৯৯ সালে তিনি এ প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত হন। ওয়াকফ সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা এই মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে নিয়ন্ত্রণে নেন হেফাজত নেতা মাহফুজুল হক, মামুনুল হকের পরিবার। সেই সময় থেকে মাদ্রাসাটির পরিচালনার দায়িত্ব ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যায় ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটি। আদালতের রায় ও ওয়াকফ প্রশাসনের আদেশ থাকার পরও অদৃশ্য কারণে ব্যর্থ হন তারা। 

আদালতে মামলার মধ্যেই ২০০৩ সালে ওয়াকফ প্রশাসন থেকে নিবন্ধন পেয়ে ২০০৬ সালে ২১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করে আজিজুল-মামুনুল-মাহফুজুল গংদের দ্বারা মাদ্রাসার বিতাড়িত কমিটি। এ কমিটির সভাপতি আহমদ ফজলুর রহমান জমির বৈধ কাগজের ভিত্তিতে আজিজুল হকের অবৈধ কমিটিকে উচ্ছেদ করে তাদের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে ওয়াকফ প্রশাসনে আবেদন করেন।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে মাদ্রাসার অবৈধ কমিটিকে উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয় ওয়াকফ প্রশাসন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে দুবার জেলা প্রশাসন থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলেও তারা উচ্ছেদের কোনো পদক্ষেপ নেননি। ওয়াকফ কমিশনের এই আদেশের বিরুদ্ধেও উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছিলেন আজিজুল হক, তবে সেটিও খারিজ হয়।

এর মধ্যে ২০১২ সালের আগস্টে আজিজুল হক মারা যান। তবে তার মৃত্যুর পর ছেলেদের নিয়ন্ত্রণেই চলছিল মাদ্রাসাটি। সম্প্রতি হেফাজেতের তাণ্ডব ও মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসাকে দখলমুক্ত করে ওয়াকফ এস্টেটকে বুঝিয়ে দিল জেলা প্রশাসন। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]