ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কঙ্গোর জনপদে অদ্ভুত বাহন ‘চুকুডু’
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১, ৪:১২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 86

কাঠের বডি, কাঠের চাকা, উঁচু হ্যান্ডেল, বসার কোনো সিট বা জায়গা নেই, ইঞ্জিনবিহীন ‘কঙ্কালসার’ দুই চাকার বাহনটির নাম ‘চুকুডু’। কাঠের সোজা দণ্ডকে বডি হিসেবে ব্যবহার করে বানানো হয়েছে চুকুডু। নামটি যেমন অদ্ভুত, তেমনি গাড়িটির ধরন বা ব্যবহারের বৈশিষ্ট্যও অন্যরকম। চলাচলে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর গোমাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাহাড়ি রাস্তাগুলোতে মালামাল বহনে অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই চুকুডু।

চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রায় দুসপ্তাহ কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানকালে চুকুডুর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। অবাক বিষয় হলো, সোজা কাঠের ‘চৌকাঠ’ বা বর্গাকৃতির বডির ওপরেই বিশেষ কায়দায় স্থানীয় কঙ্গোলিজরা সর্বোচ্চ ৮০০ কেজি বা ২০ মণ পর্যন্ত মালামাল বহন করে থাকে। সমতল বা উঁচুপথে ঠেলাঠেলির মাধ্যমে চলাচল করানো হয়। আর পাহাড়ের ঢালুপথে মালামালবোঝাই চুকুডু হড় হড় করে ব্যাপক গতিতে নামতে থাকে। দেখলেই যেন ভয় লাগে। এই বুঝি কোথাও ধাক্কা খেল, কিংবা খাদের নিচে যেন পড়ে গেল- এমন শঙ্কা জাগে বারবার। কেননা কোনো ব্রেক, গিয়ার বা দ্রুত থামানোর মতো কোনো ব্যবস্থায় নেই এই গাড়িতে। এতসব ঝুঁকি সত্ত্বেও দীর্ঘকাল ধরে কঙ্গোর একশ্রেণির পরিশ্রমী মানুষ জীবিকার তাগিদে চুকুডু দিয়ে মালামাল বহন করে চলেছে। এই বাহন চলাচলের সময় ব্যাপকহারে ঘটছে দুর্ঘটনাও।

সরেজমিন দেখা গেছে, কঙ্গোর উত্তরাঞ্চলের পাহাড়বেষ্টিত গোমা শহর এলাকায় চুকুডুর ব্যবহার অনেক বেশি। এমনকি বাহনটি সেখানে এতটাই ব্যবহৃত হয় যে, গোমা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ‘চুকুডু চত্বর’ বানানো হয়েছে। সেখানে স্বর্ণালি রঙে চালকসহ চুকুডুর ‘ম্যুরাল’ নির্মাণ করা হয়েছে। এ সময় গোমার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো বা চলাচলরত অবস্থায় অনেক চুকুডু দেখা গেছে। প্রতিটি চুকুডু একজন বা দুজন মিলে পরিচালনা করে থাকে। কেননা পাহাড়ের উঁচুপথে ঠেলতেও একজন লাগে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ চুকুডুর ব্যবহার এড়িয়ে আধুনিক যানবাহন ব্যবহার ও স্বল্পপরিশ্রমে ভালো উপার্জনের ব্যবস্থা গড়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন কঙ্গোতে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা। গোমায় নিয়োজিত ব্যানইঞ্জিনিয়ার-১১ কন্টিনজেন্টের শান্তিরক্ষীরা কঙ্গোর ওই এলাকার একশ্রেণির বেকার যুবককে ওয়ার্কশপের কাজসহ নানা ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করছেন। ফলে দেখা গেছে- কঙ্গোর গোমা ও ইতুরি প্রদেশের বুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ব্যবহার করে আধুনিক তিন চাকার গাড়ি তৈরি করা হয়েছে, যা দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের ভটভটি বা নসিমনের মতো।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে সর্বপ্রথম কঙ্গোর নর্থ কিভো প্রদেশের একটি এলাকায় স্থানীয় একজন মিস্ত্রি ‘চুকুডু’ বাহন আবিষ্কার করেন। ২০০৮ সালে কঙ্গোর গোমাসহ স্থানীয় কিছু বাজারে প্রায় ১০০ মার্কিন ডলারে কেনাবেচা হয় চুকুডু। ধীরে ধীরে পাহাড়ি জনপদে বাড়তে থাকে চুকুডুর ব্যবহার। তবে যুগের আধুনিকায়নের সঙ্গে চুকুডুর কোনো আধুনিকায়ন হয়নি। রয়ে গেছে সেই প্রবল ঝুঁকি। তাই স্থানীয়দের নিরাপদ বাহন ব্যবহার বা চলাচলসহ নানা কারিগরি বিষয়ে দক্ষ করতে সিভিল মিলিটারি কো-অপারেশন (সিমিক) প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]