ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বড় গরুর দাম কম, ছোট গরুর চাহিদা বেশি
শিহাবুল ইসলাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১, ৪:২০ এএম আপডেট: ২০.০৭.২০২১ ১০:৪৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 84

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে নেই স্বাস্থ্যবিধি। ইজারাদাররাও ভঙ্গ করেছেন এ সংক্রান্ত নির্দেশনাবলি। সিটি করপোরেশনের সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন তারা। কিন্তু কোনো শর্ত মানেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে গাবতলী হাট কর্তৃপক্ষকে।

অন্যদিকে হাটে ছোট-মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ও দাম বেশি। বড় গরুর ক্রেতা ও দাম কম। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বড় গরু নিয়ে আসা বেপারিরা। 

শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের। সোমবার রাজধানীর গাবতলী হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, মোটামুটি বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বেশি বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা দামের গরু। এসব গরুর আনুমানিক ওজন ১২০ কেজি থেকে শুরু করে ৩০০ কেজির মধ্যে।

এদিন দুপুরে গাবতলী হাট পরিদর্শনে আসেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসে দেখেন হাটে কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই। সিটি করপোরেশনের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধির কোনো নিয়ম মানছেন ইজারাদাররা। এতে ক্ষুব্ধ হন মেয়র। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেন এবং একটি হাসিল ঘর বন্ধ করে দেন। এরপর উপস্থিত দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজ ও পার্সিয়া সুলতানা প্রিয়াঙ্কা হাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ হওয়ার পর হাসিল ঘর খুলে দেওয়া হয়।

এ সময় মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার সার্বিক অবস্থা মোটেই ভালো লাগেনি। আমরা জানি, হাটে মানুষ ও গরু আসবে। ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সবাইকে অনুরোধ করব মাস্ক পরবেন। কোরবানি দিতে এসে, নিজেরা কোরবানি হয়ে যাবেন না! এ বছরই ডিএসসিসি ৯টি হাটে ৯টি অ্যান্টিজেন টেস্ট বুথ বসানো হয়েছে। আজকে (সোমবার) এই হাটে সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনজনের মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে। এরপরও ইজারাদাররা উদাসীন। এটা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো হাটে হতে পারে না। আমরা অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আরও কঠোর ব্যবস্থা নেব। রোজার ঈদের আগে আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় উত্তরার একটি শপিংমল বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখানেও সেই ব্যবস্থা নিতে পারি।’

এই হাটে গত ১৫ তারিখে কুষ্টিয়া থেকে একটি গরু নিয়ে এসেছেন মোছা. রিনা খাতুন। সোমবার বিকাল পর্যন্তও সেটি বিক্রি করতে পারেননি। তিনি সময়ের আলোকে জানান, দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে গরুটির পা ফুলে গেছে। শরীর দুর্বল হয়ে এসেছে। পাঁচ দিন পার হয়ে গেছে, তবু নিজ হাতে লালন-পালন করা গরুটি বিক্রি করতে পারেননি। ফিজিয়ান ক্রস জাতের ষাঁড় গরুটির ওজন ১ হাজার ১০০ কেজির বেশি। নয়-সাড়ে নয় লাখ টাকা হলেই বিক্রি করে দেবেন। সাড়ে তিন বছর বয়সি গরুটিকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার খাবার খাইয়েছেন। 
হাট ঘুরে দেখা যায়, বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। একই সঙ্গে সেগুলোর দামও সামান্য বেশি। 

ধানমন্ডি থেকে আসা কাজী মো. মোহসিন সময়ের আলোকে বলেন, ‘বড় গরুর দাম কম, ছোট গরুর দাম বেশি। আমাদের বাজেট কম। ১ লাখ টাকার মধ্যে গরু কিনতে চাই। ৮-১০ লাখ টাকা দামের গরু কেনার সামর্থ্য নেই আমাদের। তাই ছোট গরু কিনব।’

দুটি গরু নিয়ে ঝিনাইদহ থেকে এসেছেন জামাল শেখ। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘বাজার ভালো না। আমার একটি গরুটির ওজন ১৬-১৭ মণ হবে। এটার দাম বাড়িতে বলেছিল ৪ লাখ টাকা। এখানে বলছে দুই থেকে পৌনে ৩ লাখ টাকা। এই দামে তো আর বিক্রি করা যায় না।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]