ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কোরবানির চামড়া নিয়ে চতুর্মুখী শঙ্কা
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১, ১১:১১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 31

আগামীকাল সারা দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এবারের ঈদে কোরবানির জন্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী প্রায় দশ দিন পশুর চামড়া নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় সারা দেশে। এবারের কোরবানি ঈদেও চামড়া নিয়ে চতুর্মুখী শঙ্কা রয়েছে। এ জন্য সরকারও আগে থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঈদপরবর্তী পশুর চামড়া বাণিজ্য কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছে।

চামড়া খাতের ব্যবসায়ী, ট্যানারি মালিক এবং সরকারের বিভিন্ন দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদে কোরবানির চামড়া নিয়ে মূলত প্রধান চারটি বিষয়ে বেশি শঙ্কা থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে চামড়ার মূল্য নিয়ে নৈরাজ্য, ট্যানারি মালিকদের কাছে মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনা, লবণের সঙ্কট এবং গরমের সময় হওয়ায় চমড়া নষ্ট হওয়ার শঙ্কা। বিষয়গুলো নিয়ে যাতে বেশি সমস্যায় না পড়তে হয় সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার আগে থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং মাঠ পর্যায়ে কমিটি করে দিয়েছে।

সরকার এবার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। গতবছর যা ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। একই চামড়া ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; গত বছর যা ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা; গত বছর যা ছিল ১৩ থেকে ১৫ টাকা। পাশাপাশি প্রতি বর্গফুট বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ থেকে ১৪ টাকা, গত বছর যা ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা। সবক্ষেত্রেই দাম বাড়ানো হয়েছে।

সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দেয় ঈদের দিন থেকে দেখা যায় সে দামে চামড়া বিক্রি হয় না। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে অনেক কম মূল্যে চামড়া কেনা হয়। এতে গরিব মানুষরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়। কারণ চামড়া বিক্রির টাকার পুরোটাই দেওয়া হয় গরিবদের। গতবছর দেখা গেছে, একেকটি গরুর চামড়া মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনেছেন মৌসুমি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ এলাকায় ছাগলের চামড়া বিক্রিই হয়নি। এরপর আবার সেই চামড়া আড়তে নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বড় বিপদে পড়েছিলেন। প্রতিটি গরুর চামড়া ১০০ টাকা, এমনকি ছাগলের চামড়া ১০ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়েছিল অনেককে। রাগে-দুঃখে কেউ কেউ সড়কের ওপর চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে যান। 

আসন্ন কোরবানি ঈদ নিয়ে চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঈদেও এমন পরিস্থিতির শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বরং এবার সেই আশঙ্কা আরও বেশি রয়ে গেছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। যদিও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রফতানির বাজার কিছুটা ভালো। ইউরোপ মার্কেট খুলেছে। বিক্রি ধীরে ধীরে বাড়ছে। 

ট্যানারি মালিকরা অবশ্য বলছেন, চলতি মৌসুমে করোনার কারণে চাহিদা না থাকায় ট্যানারিগুলোতে এখনও ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার চামড়া জমে রয়েছে। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, প্রচুর চামড়া আমাদের গুদামে রয়ে গেছে। ২০১৯ সাল থেকে করোনার কারণে চায়নায় একই সময়ে একশ কন্টেইনারের বেশি অর্ডার বাতিল হয়েছিল। 

এদিকে যারা আড়তে কাঁচা চামড়া কেনেন, তাদের সংগঠনের অভিযোগ ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে। ওই সংগঠনের ভাষ্য, বাড়তি চামড়া মজুদের অজুহাতে তারা বাজারে বিপর্যয় তৈরি করছেন। তা ছাড়া ট্যানারির মালিকদের কাছে মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের পাওনা রয়েছে প্রায় ১১০ কোটি টাকা। এ টাকা এখনও শোধ করেননি ট্যানারি মালিকরা।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, ট্যানারি মালিকরা ২০ হাজার মজুদ থাকলে বলে ৮০ হাজার আছে। কারণ কেউ তো দেখতে যায় না। এরা এসব বলে চামড়া কেনার টাকা আটকে রাখেন। তাদের কাছে এখনও ১১০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। 

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহায় সম্ভাব্য কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭২ লাখ ৫৬ হাজার।

/এমএইচ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]