ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

উপহারের ঘরে প্রথম ঈদ উদযাপন
গোলাম রব্বানী, হিলি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১, ১১:০৩ পিএম আপডেট: ২১.০৭.২০২১ ১১:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 140

রাস্তার পাশে কিংবা অন্যের জায়গায় পরনির্ভর হয়ে যাদের ছিলো বসবাস। এখন তাদের ঘর হয়েছে। উপহারের ঘরে, নতুন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ২০ জুন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ উপজেলায় ১৪৫ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘর পেয়ে আনন্দিত এসব পরিবার। এর সঙ্গে ঈদের আনন্দ যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

জানা গেছে, উপজেলার খট্টামাধবপাড়া, বোয়ালদাড় ও আলিহাট ইউনিয়নে ১৪৫ জন পরিবারকে জমিসহ পাকা ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘরে লেগেছে বিদ্যুৎ সংযোগ, চলছে রঙিন টেলিভিশন, ঘুরছে ফ্যান, নিশ্চিত হয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও টয়লেটের। এরই মধ্যে তাদের ঘরে শুরু হয়ে গেছে ঈদ আনন্দ।

এমন এক নতুন জীবনের সন্ধান দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উপকারভোগীরা। তারা নিজেরাই নিজেদের জীবন সাজানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপহারের ঘর পাওয়া সহিদা বিবি বলেন, আগে মানুষের বাসায় থাকতাম। অনেক কষ্ট হতো। এখন সরকার যে বাড়ি দিয়েছে তা অনেক সুন্দর। আমার বাড়ি বলতে পারছি। এই  প্রথম মনে হচ্ছে ঈদ। প্রথম নিজ বাড়িতে ছেলেমেয়েকে নিয়ে ঈদ করছি।

আলিহাট ইউনিয়নে ঘর পাওয়া মোস্তফা হোসেন বলেন, আগে ছিলাম আমি পরের জায়গায়। যার কারণে মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। সরকার থাকার ঘর দিয়েছে। নিজস্ব ঠিকানা পেয়েছি। নানা ধরনের সহায়তা পাচ্ছি। পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করছি। বাড়িতে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি লালন-পালন করছে স্ত্রী। ভালোভাবে সংসার চলছে। আগে কখনও ঈদ মনে হয়নি। এবারই প্রথম উপহারের ঘরে এতো সুন্দর ঈদ উদযাপন করছি। 

বোয়ালদাড় ইউনিয়নে ঘর পাওয়া আরেজা বেগম বলেন, আগে তো থাকার জায়গাই ছিল না, কিসের আবার ঈদ। এখন বাড়িতে হাঁস-মুরগি, কবুতর লালন-পালন করি, সবজি চাষ করছি। এসব থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে নিজেরা চলছি, বিক্রিও করতে পারছি। ছেলেমেয়েকে নিয়ে ভালোভাবেই চলছে নতুন সংসার। শেখের বেটির কাছে কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখুক। তিনি বেঁচে থাকলে গরিব মানুষ ও দেশের অনেক উপকার হবে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর যে অঙ্গীকার ছিল, একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, সেটি বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন শুধু আশ্রয়কেন্দ্রিক ছিল না, সেটি ছিল অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ঘটানো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাঠ প্রশাসন সেই কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই উপজেলার তিন ইউনিয়নে ১৪৫ ঘর উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা সেই ঘরে বসবাস করছেন।

ইউএনও আরও বলেন, এতো দিন এই পরিবারগুলোর ঈদ আনন্দ বলে কিছুই ছিল না। নতুন ঘরে গিয়ে তারা প্রথম ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। চেষ্টা করছি, তাদের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে। আশা করছি, সামনের ঈদগুলো নিজেরাই রঙিন করে তুলতে সক্ষম হবেন তারা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]