ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

জুলাইয়ের ২৩ দিনে শনাক্ত ১০৯৮ ডেঙ্গু রোগী
ঢাকায় এক দিনে ৮৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১, ১০:৪৬ পিএম আপডেট: ২৪.০৭.২০২১ ২:০৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 113

মহামারি করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই দেশে নতুন আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত কমপক্ষে আরও ৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের সবাই ঢাকার বাসিন্দা। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট আক্রান্তের ১ হাজার ৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন চলতি মাসে, যা গত জুন মাসের চেয়ে প্রায় ৪ গুণ বেশি। কন্ট্রোল রুম জানায়, ২২ জুলাই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শনাক্ত হন ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী, এর আগের দিন ২১ জুলাই শনাক্ত হন ১৩ জন এবং ২০ জুলাই শনাক্ত হন ৬৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৯০ জন রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই আছে ৩৮৭ জন, আর বাকি ৩ জন অন্য বিভাগে। এই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ৭৭ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে তিনজন, মে মাসে ৪৩ জন, জুনে ২৭২ জন আর জুলাইয়ের ২৩ তারিখ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৮ জন।

দেশে করোনা মহামারির উচ্চ সংক্রমণের সময় ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ দুই ভাইরাসবাহিত রোগের জন্য জনজীবন বিপর্যস্ত। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। করোনা ও ডেঙ্গু রোগের লক্ষণে কিছু কিছু মিল থাকলেও অমিল অনেক। করোনার ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হতে পারে, যেটা ডেঙ্গুতে দেখা যায় না। ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে চার-পাঁচ দিন পরে শরীরে লাল র‍্যাশ উঠতে পারে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে ডেঙ্গু ‘শক সিন্ড্রোম’, যাতে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়কের ওপর এখনও পড়ে আছে কোরবানির পশুর বর্জ্য। রাস্তার দুই পাশে কোরবানির পশু কাটার চাটাই, রক্ত ও মলমূত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলি-গলিতেও একই চিত্র দেখা গেছে। এই এলাকায় ঈদের তৃতীয় দিনেও কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। বর্জ্যরে স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পশুর মলমূত্র রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। খুব ধীরগতিতে চলছে করপোরেশনের বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ। এসব বর্জ্যে ডেঙ্গুসহ কিউল্যাক্স মশার বংশ বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। সিটি করপোরেশনের অবহেলা আর অদক্ষতার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু করণীয় রয়েছে। বাসাবাড়িতে রাখা ফুলের টব বা অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি তিন দিনের মধ্যে ফেলে দিতে হবে। যারা বাসা ছেড়ে তিন দিনের বেশি সময়ের জন্য বাইরে যাচ্ছেন, কমোডের প্যান ঢেকে রাখতে হবে, পানির যেকোনো পাত্র পানিশূন্য করে উল্টিয়ে রাখতে হবে। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা উত্তম।

তিনি বলেন, আমরা করোনা মহামারির মধ্যে রয়েছি। এই সময় জ্বর হওয়া মানেই যে সেটি করোনা হয়েছে, বিষয়টি তা নয়। ডেঙ্গুর সন্দেহের বিষয়টিও ভাবতে হবে। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাস মূল মৌসুম। কয়েক দিনের থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি এডিস মশার বংশবিস্তারে প্রভাব ফেলছে। করোনা আর ডেঙ্গুর উপসর্গ কাছাকাছি হওয়ায় জ্বর হলে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]