ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৬ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গরু ব্যবসায়ীদের হাসি কান্নার নেপথ্যে
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১, ১১:৫৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 88

প্রতিবছর কোরবানির ঈদে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এবারের কোরবানির ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে খামারিরা প্রতিবছর পশুর দাম বাড়িয়ে দেয়। এমনকি পর্যাপ্ত পশু থাকার পরেও তারা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে ক্রেতাদের ভোগান্তিতে ফেলেন।

অন্যদিকে পশু বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতারা দাম অনেক কম বলায় বিক্রি কমেছে। একটু বেশি লাভের আশায় অনেক খামারিরা শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে হাটে পশু রেখেছিল এবার। কিন্তু শেষ দিনে এসে যথাযথ দামে পশু বিক্রি করতে না পারায় অনেকে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হাট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বছর রাজধানীর হাটগুলোয় অনেক পশু এসেছিল। তবে করোনার কারণে মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। অন্যবারের তুলনায় এবার ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম। যে কারণে অনেক হাটে পশু অবিক্রীত থেকে গেছে। আশানুরূপ দর পায়নি খামারিরা।

গাবতলী পশুর হাটের ইজারাদারের ম্যানেজার মো. আবুল হাশেম সময়ের আলোকে বলেন, এ বছর হাটে অনেক পশু এসেছিল। কিন্তু ক্রেতা কম থাকায় শেষ পর্যন্ত অনেক পশু থেকে গেছে। তবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত অনেক পশু বিক্রি হয়েছে। পশু কম বিক্রি হওয়ার কারণ হিসাবে তিনি করোনার কথা উল্লেখ করেন। আবুল হাশেম বলেন, এ বছর করোনার কারণে অনেকেই কোরবানি দিতে পারেনি।

হাটে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ে তিনি বলেন, হাটে যারা পশু নিয়ে আসে তাারা প্রান্তিক চাষি। তারা সিন্ডিকেট করতে পারে না। কারণ এখানে সবাই সবার অপরিচিত। তবে বেপারিদের কোনো যোগসূত্র থাকলে থাকতেও পারে। তবে তাতে খুব লাভ দেখছি না। কারণ ক্রেতারাও বেপারিদের চেয়ে চাষিদের কাছ থেকে গরু কিনতে বেশি আগ্রহ দেখায়। তিনি জানান, গত বছর সন্ধ্যার পর হাটে কোনো পশু ছিল না। গরুর সঙ্কট ছিল। অনেক ক্রেতা পশু না কিনেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু এবার অনেক গরু ফিরিয়ে নিতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এ বছর ক্রেতা ছিল না।

আশুলিয়ার খামারি ইমরান হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, আমি ৯টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে গিয়েছিলাম। প্রথম দুদিন যেই দাম বলেছিল ক্রেতারা, তাতে বিক্রি করলে মোটামুটি লাভ হতো। একটু বেশি লাভের আশায় ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু শেষদিকে এসে দাম পড়ে যায়। তিনি বলেন, এবার বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি ছিল। চারটি গরু ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। দুটি গরু দেড় লাখ টাকা বিক্রি করলেও কোনো লাভ হয়নি। একটি গরুর পেছনে অনেক খরচ। তাই কেনা দামেই ছেড়ে দিতে হয়েছে। বাকি তিনটি বিক্রি করতে পারিনি। এ বছর করোনার কারণে ক্রেতাও কম ছিল, যুক্ত করেন খামারি ইমরান হোসেন।

মিরপুর-১-এর বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকার ভেতরের বড় হাটগুলোয় গরুর দাম শুরুতে চড়া ছিল। বাধ্য হয়ে অনেকেই এলাকার হাট থেকে গরু কিনেছে। হাট শুরুর পরের দিন গাবতলীতে যে গরুর দাম ১ লাখ হাঁকিয়েছে, সেই একই ওজনের গরু মিরপুর হাট থেকে ঈদের আগের দিন রাতে ৭৫ হাজার টাকায় কিনেছি। বেশি লাভের আশায় যে সব খামারিরা গরু ধরে রেখেছিল, মূলত তারাই ধরা খেয়েছে।’

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]