ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মোহাম্মদ আলির প্রতি বর্ণবাদের প্রায়শ্চিত্ত
নাজমুল হক তপন
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ১:২৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 430

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ মোহাম্মদ আলি। অলিম্পিক স্বর্ণ জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে প্রথম আলো ছড়ান এই কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা। ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিকে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই লাইট হেভিওয়েট প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ জিতে হইচই ফেলে দেন এই কিংবদন্তি। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের শহরে ফিরেই পড়লেন বিপাকে। শিকার হন চরম বর্ণবাদের।

নিজের শহরে এক অখ্যাত রেস্টুরেন্টে তাকে খাবার সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানাল হোটেল কর্তৃপক্ষ। আলি (ওই সময় ক্যাসিয়াস ক্লে) অলিম্পিক মেডেল দেখান, নিজের নাম বলেন। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এখানে নিগারদের খাবার দেওয়া হয় না। চরম অপদস্ত করে রেস্টুরেস্ট থেকে আলিকে বের করে দেওয়া হয় রাস্তায়। ক্ষোভে-দুঃখে অলিম্পিক স্বর্ণ পদক ওহিও নদীতে ফেলে দেন সর্বকালের সেরা এই ক্রীড়াবিদ।

অলিম্পিকের বিশালত্বের ছোঁয়ায় অনেক অপরাধই ক্ষয়ে যেতে শুরু করল ধীরে ধীরে। মোহাম্মদ আলির প্রতি এই ঘৃণ্য বর্ণবাদের প্রায়শ্চিত্ত হলো অলিম্পিকের শতবর্ষপূর্তি আয়োজনে, ১৯৯৬-এর আটলান্টা গেমসে। 

অলিম্পিকের শতবর্ষপূর্তি আয়োজনে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন মোহাম্মদ আলি। মশাল কে জ্বালাবেন, গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থখ্যাত অলিম্পিকে এটিকে দেখা হয় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে। অলিম্পিকের শতবর্ষপূর্তি আয়োজনে অলিম্পিক মশাল তুলে দেওয়া হলো গ্রেট আলির হাতে। যে আমেরিকায় নিজের শহরে চরমভাবে অপমানিত হয়েছিলেন সেই দেশেই সবচেয়ে গৌরবের আয়োজনে, মশাল প্রজ্বালনকারীর সম্মান দেওয়া হলো মোহাম্মদ আলিকে। এখানেই শেষ নয়। অলিম্পিক স্বর্ণপদক ফিরিয়ে দেওয়া হলো তাকে। এই ঘটনার তিন যুগ আগে চরম হেনস্থার শিকার হয়ে ওহিও নদীতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন স্বর্ণপদক। সেই স্বর্ণপদকের রেপ্লিকা তুলে দেওয়া হলো কিংবদন্তির হাতে। 

শুধু গায়ের রঙ কালো বলে, একজন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নকেও খোদ নিজের শহরেই চরমভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়, বর্ণবাদের শিকার হতে হয়, এই ঘটনা টিনেজার আলির জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। প্রবলভাবে আলোড়িত হন মোহাম্মদ আলি। কালো মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন সর্বকালের সেরা এই ক্রীড়াবিদ।

১৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রোম অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতেন আলি। একে তো টিনেজার। তারপর অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন। আলি তখন হাওয়ায় ভাসছেন। তার আত্মজৈবনিক ‘দ্য গ্রেটেস্ট  গ্রন্থে এর বিশদ বর্ণনা আছে। এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, রোম অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতার পর ফিরে আসি নিজের শহর লুইসভিলে। তখর আমি এক মুহূর্তের জন্যও পদকটা হাতছাড়া করতাম না। গলায় ঝুলিয়ে রাখতাম। এমনকি ঘুমানোর সময়ও। পিঠে ভর দিয়ে ঘুমাতাম যেন পদকটি কোথাও না লাগে।

আনন্দে আত্মহারা আলি চরম ধাক্কা খেলেন কয়েকদিন পরই। ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ বইয়ের ভাষায়, নিজের শহর লুইসভিলে একটা রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করার জন্য প্রবেশ করলাম। আমি পদক পরিহিত ছিলাম। খাবারের অর্ডার দিলাম। তারা আমাকে জানাল, এখানে নিগারদের খাবার দেওয়া হয় না। নিজের পরিচয় দিলাম। কিন্তু তারা আমাকে একরকম রাস্তায় ছুড়ে ফেলল।

বয়স অল্প। এত বড় অর্জনের পরও নিজের শহরেই এই ব্যবহার, এটা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ল এই কিংবদন্তির পক্ষে। করণীয় ঠিক করে ফেললেন আলি, আমাকে ওরা রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। আমি তখন ওহিও নদীর কাছে গেলাম। আর অলিম্পিক স্বর্ণপদক ছুড়ে ফেলে দিলাম নদীতে। 

মোহাম্মদ আলি কেন অন্য সবার থেকে আলাদা, সেটা দিনকে দিনই স্পষ্ট হতে থাকল। ১৯৬৭ সালের ২৮ এপ্রিল তারিখটি বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। মার্কিন সামরিক প্যানেলের সামনে, ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানালেন আলি। বললেন, নিজের দেশ থেকে ১০ হাজার মাইল দূরে গিয়ে আমি কেন বোমা আর গুলি চালাতে যাব? আর তাদের সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। এরপর পড়লেন রাষ্ট্রীয় রোষানলে। কেড়ে নেওয়া হলো তার বক্সিং লাইলেন্স। কিন্তু কোনো চাপের কাছেই নতিস্বীকার করেননি মোহাম্মদ আলি। অলিম্পিক শতবর্ষপূর্তির মশাল হাতে মানায় যে শুধু একজনকেই। 

/টিএম/






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]