ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সদরঘাট টু মিরপুর, রিকশাভাড়া দেড় হাজার!
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ৪:০২ এএম আপডেট: ২৪.০৭.২০২১ ৫:৪৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 253

বরিশাল থেকে সকালে সদরঘাটে নেমেছেন মোছা. লিজা। মিরপুরের একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন। লকডাউনে গ্রামের বাড়িতে আটকে যেতে পারেন এই আশঙ্কায় শুক্রবার ঢাকায় ফিরেছেন। কিন্তু রাজধানীর মাটিতে পা রেখেই ভোগান্তিতে পড়েন। 

সদরঘাট টার্মিনাল থেকে মিরপুর যাওয়ার জন্য একটি রিকশা ডাকেন। মিরপুরের ভাড়া কত দিতে হবে জিজ্ঞাসা করতেই রিকশাওয়ালার সাফ কথা আপা দেড় হাজার দিয়েন। ভাড়া শুনেই চটে যান আসমা। এবার ক্ষোভ নিয়েই বলেন, এটা ভাড়া নাকি ডাকাতি? রিকশাচালকের জবাব, কমই তো চাইছি। বাধ্য হয়ে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত ৭০০ টাকায় একটি ভ্যান ঠিক করেন। পরে সেটিতে চেপে স্বামীসহ রওনা হন।

ভোর ৬টায় আমিনবাজারে বাস থেকে নেমেছেন রফিক সরকার। সঙ্গে আছেন পরিবারের অন্য সদস্যরাও। যাবেন মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় রিকশাওয়ালাকে ডেকে ভাড়া জিজ্ঞাসা করতেই সাফ জবাব, স্যার ৪০০ টাকা লাগবে। শেষমেষ স্ত্রী ও ছোট দুই সন্তানের কথা ভেবে বাধ্য হয়েই রিকশায় ওঠেন।

শুক্রবার শুধু আসমা ও রফিকই নন, তাদের মতো ঢাকায় ফেরা হাজারো মানুষকে ভাড়ার ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছতে গুনতে হয়েছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়ায় গন্তব্যে ছুটেছেন তারা। সব মিলিয়ে দিনভর রিকশা ভাড়ায় ছিল এক প্রকার নৈরাজ্য। বাস ও অটোরিকশা বন্ধ থাকায় এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রিকশাচালকরা বেশি ভাড়া হাঁকিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভোগান্তির শিকার অধিকাংশ যাত্রী।

শুধু দূরত্বে নয়, দুয়েক মাইল যেতেও রাজধানীর অলিগলিতে বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদের। লকডাউনের অজুুহাতে এই ভাড়া হাঁকিয়েছেন রিকশাচালকরা। আমিনবাজার ও সাভার ছাড়াও রাজধানীর বছিলা, সদরঘাট, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মৎস্য ভবন মোড়, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব ও বাংলামোটর ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে কোনো বাস ও অটোরিকশা চলেনি। মোড়ে মোড়ে কিছু রিকশা দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা বেশি ভাড়া ছাড়া গন্তব্যে যায়নি। রিকশাওয়ালাদের দাবি, লকডাউনে তারা ঝুঁকি নিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন। জরিমানা হলে ভাড়ার পুরো টাকা চলে যায়। এসব কারণে বেশি করে ভাড়া আদায় করেছেন তারা। শুক্রবার উত্তরাঞ্চল থেকে কুমিল্লা হয়ে আসা অধিকাংশ বাসের যাত্রীকে সাভার এবং শনির আখড়ার মুখে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। শত শত মানুষ স্ত্রী, ছোট বাচ্চা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। অনেকে রিকশা ভাড়া করলেও তাদের বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে। হাতে ও মাথায় ব্যাগ নিয়ে গন্তব্যে রওনা হন অধিকাংশ মানুষ। কঠোর বিধিনিষেধে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

বরিশাল থেকে আসা রুবেল নামের এক যাত্রী বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি গিয়েছিলাম। ঢাকায় ফেরা জরুরি, তাই রাতে লঞ্চে উঠে ভোরে নামলাম। রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। তাই হেঁটেই কল্যাণপুরের বাসার দিকে যাচ্ছি। বগুড়া থেকে আসা মেহেদী বলেন, আজ (শুক্রবার) থেকে কোনো গাড়ি চলবে না, সেটা জেনেই এসেছি। কিন্তু নেমে যে এত ভোগান্তিতে পড়ব ভাবতেও পারিনি।

শুক্রবার রাজধানীর সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য তেমন চোখে পড়েনি। দুয়েকটি গাড়ি চললেও সেগুলোর অধিকাংশই জরুরি সেবায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সেই সংখ্যাও ছিল খুব কম। সকাল থেকে র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে সেনাসদস্যরা কাউকে দেখলেই দাঁড়িয়ে থাকার কারণ, গন্তব্য কোথায় এবং কেন ঘর থেকে বের হয়েছেন জানতে চেয়েছে। ফলে এসব ঝামেলা এড়াতে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়নি।

/টিএম/



















সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]