ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা
মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ৫:০৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 49

সড়ক দুর্ঘটনা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় সময় এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলেও ঈদ-পূজা ও বিভিন্ন ছুটিছাঁটায় বেশি ঘটে থাকে। চালকদের অদক্ষতা, অসচেতনতা ও অসাবধানতার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। 

সময়ানুবর্তিতা রক্ষা না করা, বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালানো, মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালানো ইত্যাদি কারণে কেড়ে নেয় অসংখ্য মানুষের প্রাণ। চালকের অসতর্কতা, অনিয়ম ও দায়িত্ববোধের অবহেলাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। চালকের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও যাত্রীদের দায়ও কম নয়! সড়ক হয়ে ওঠে অনিরাপদ। তাই জীবন বাঁচাতে সব শ্রেণিরই সতর্কতা কাম্য। ইসলাম এক্ষেত্রেও মানুষকে সচেতন করেছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রকৃত মুসলিম ওই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (বোখারি : ৯)। চালক যদি তার দায়িত্ব সম্পর্ক সজাগ থাকে, তা হলে আশা করা যায় তার দ্বারা নিরপরাধ কেউ রাস্তায় আঘাতপ্রাপ্ত হবে না ইনশা আল্লাহ।

বাস হোক, ট্রেন হোক বা অন্য যেকোনো যানবাহন হোক, নির্দিষ্ট ট্রাফিক আইন মাথায় রেখে চালানো উচিত। এসব আইন ঠিকমতো মেনে চললে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে। চালক বা যাত্রী সবাইকে মনে রাখতে হবে, নিয়ম মেনে চললেই শান্তি। যানবাহনে চালকের ভূমিকা হতে হবে স্বাভাবিক ও সুনিয়ন্ত্রিত। দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চলাফেরার ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ধীরস্থিরতা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আর তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।’ (বায়হাকি : ২০৭৬৭)। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে।’ (সুরা ফুরকান : ৬৩)

সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চলাচলের পথে বিভিন্ন জিনিস রাখা। বিশেষত অনেক রেললাইনে দেখা যায় ভাসমান দোকান পেতে বসে থাকে বিক্রেতারা। ট্রেন এলে উঠে যায়, চলে যাওয়ার পর পুনরায় সেখানে বসে বেচাকেনা শুরু হয়। আবার কোথাও রেলক্রসিং পারাপারের সময় সিগন্যাল পড়ার পরও গাড়ি পারাপার অব্যাহত রাখে অনেক চালক। এসব কারণেও দেশে রেল দুর্ঘটনা ঘটে। হাদিসে এসেছে, এক দিন এক সাহাবি বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যার দ্বারা আমি উপকৃত হতে পারব।

 তিনি বললেন, ‘মুসলিমদের সড়ক থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূরে সরিয়ে রাখো।’ (মুসলিম : ৬৮৩৯)। রাস্তাঘাট থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে রাখাকে ঈমানের অঙ্গ বলে হাদিসে ঘোষণা রয়েছে। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা রাস্তার হক আদায় করো।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, রাস্তার হক কী ইয়া রাসুলুল্লাহ? তিনি বললেন, ‘দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে রাখা, সালামের উত্তর প্রদান, সৎকর্মে আদেশ ও অসৎকর্মের নিষেধ করা।’ (বোখারি : ২৪৬৫)

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। চালক, যাত্রী, পথচারী ও সড়ক নিরাপত্তার দায়িত্বশীল সবাই নিজেদের দায়িত্বে সজাগ ও সচেতন হলেই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। চালকদের উদাসীনতা, ট্রাফিক আইন না মানা, দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো, ওভারটেক করা। অন্যদিকে পথচারীর মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়া, যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ইত্যাদি কারণেও বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ইসলাম সবসময়ই দায়িত্ব সচেতন হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomo[email protected]