ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৬ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

পথে পথে ভোগান্তি মানুষের
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ৬:০১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 61

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে শুক্রবার থেকে ফের কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকেই কর্মস্থলের উদ্দেশে ছুটতে থাকেন পেশাজীবীরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন পরিবার-পরিজনও। কিন্তু সড়ক ও নৌপথে যানবাহনের সংখ্যা একেবারেই কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন এসব মানুষ।

বিশেষ করে শুক্রবার সকালে লকডাউন শুরু হওয়ায় এদিন কর্মস্থলমুখী মানুষের ভোগান্তি বাড়ে কয়েকগুণ। স্বাস্থ্যবিধিও ছিল উপেক্ষিত। লঞ্চ যাত্রীদের মধ্যে এ প্রবণতা লক্ষ করা গেছে বেশি। তবে লকডাউন বাস্তবায়নে কড়া নজরদারিও ছিল কোথাও কোথাও। চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি করেছে প্রশাসন। সময়ের আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

চাঁদপুর : করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে চাপ ছিল যাত্রীদের। একদিকে চাঁদপুর থেকে কর্মস্থলে যেমন ফিরেছে মানুষ, তেমনি ঢাকায় আটকে পড়া ঈদে ঘরমুখো মানুষও লঞ্চে করে বাড়ি ফেরে। তাই প্রত্যেকটি লঞ্চে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী নিয়ে ঘাট ছাড়ে এবং ঘাটে ভেড়ে লঞ্চগুলো।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে মালিক প্রতিনিধি বিল্পব সরকার বলেন, সকাল ৬টা থেকে যাত্রীরা ঘাটে আসতে শুরু করে। যাত্রী অনুযায়ী লঞ্চ কম ছিল। এ কারণে সব লঞ্চেই যাত্রীদের চাপ দেখা যায়। শুধু যে চাঁদপুর থেকে মানুষ ঢাকা যাচ্ছে তা নয়, ঢাকা থেকেও অনেক যাত্রী চাঁদপুরে আসছেন।

চাঁদপুর নৌ থানার ওসি মো. মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। লঞ্চঘাটের ভেতর এবং বাইরে আমাদের নৌপুলিশের সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপপরিচালক কায়সারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বলেন, বিধিনিষেধ মেয়াদ না থাকায় অনেকে ছুটে চলেছেন। এখন কোনো লঞ্চের সিডিউল নেই। যাত্রী পরিপূর্ণ হলেই ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে লঞ্চগুলো। শৃঙ্খলায় আমাদের সঙ্গে নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড কাজ করছে। ২৩ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হবে। তাই আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত চাঁদপুর থেকে সব রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ বন্ধ থাকবে।

পটুয়াখালী : ঈদের ছুটির শেষ দিন বৃহস্পতিবারই রাজধানী ঢাকায় ফিরতে পটুয়াখালী লঞ্চ টামির্নালে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে জড়ো হন কয়েক হাজার যাত্রী। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় সাতটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। সকাল থেকে টার্মিনালে যাত্রীদের চাপ কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে যাত্রীদের ভিড়। সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মানায় উদাসীনতা ছিল যাত্রীদের। প্রশাসনের চাপে মাস্ক পড়ে লঞ্চে উঠলেও ভেতরের চিত্র ছিল পুরোপুরি উল্টো। ডেকে ঠাসাঠাসি করে বসা এবং অধিকাংশ যাত্রীই মাস্ক ব্যবহারেরও প্রয়োজন মনে করেনি।

ঢাকাগামী যাত্রী আবদুল খালেক জানান, লঞ্চের ভেতর বেশিরভাগ যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি মানেনি বললেই চলে। তদারকির কেউ ছিল না। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যেমন উদাসীন ছিল, তেমনি যাত্রীরাও মানেনি স্বাস্থ্যবিধি। এভাবেই যে যার ইচ্ছামতো ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, যাত্রীর চাপ বেশি হওয়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত তিনটি লঞ্চসহ মোট সাতটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি কিছুটা কম। তিনি আরও জানান, যাত্রীরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চে যাতায়াত করে সেজন্য নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো লঞ্চ যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে এবং মাস্ক ছাড়া না উঠতে পারে সেজন্য তদারক করা হচ্ছে। ঘাট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ : লকডাউনের প্রথম দিন নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া, ২নং রেলগেট, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো সড়কের পঞ্চবটি পাগলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোড, কাঁচপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেকপোস্টগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি। এ কারণে সকাল থেকে রাস্তায় সীমিত সংখ্যক মানুষকে চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রয়োজনে বের হয়েও চেকপোস্টগুলোতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় সবাইকে। বাইরে বের হওয়ার কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জবাবদিহি করতে ব্যর্থ হলে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মামলা ও জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। লকডাউন পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারের টহল অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ গণহারে বাইরে বের না হওয়ায় নগরী অনেকটাই ফাঁকা।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহসড়কে বন্ধ ছিল সব ধরনের গণপরিবহন। মহাসড়কে সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত এবং কাঁচপুর থেকে পাঁচরুখি পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ ছয়টি চেকপোস্ট বসিয়ে গণপরিবহন নারায়ণগঞ্জ অংশ দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ রোধ করে। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করে।

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, দুটি মহাসড়ক দিয়ে যাতে কোনো অবস্থাতেই গণপরিবহন বা জরুরি কারণ ছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করতে না পারে সেজন্য ছয়টি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও জেরা করা হয়। কেউ জরুরি কারণ দেখাতে না পারলে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিনা কারণে কেউ ঘুরতে বের হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, নগরীতে শতভাগ লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য পুলিশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিনা কারণে কেউ গাড়ি নিয়ে বের হলেই দেওয়া হয় মামলা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]