ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আবারও চামড়ার বাজারে ধস, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে তদারকি জরুরি
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ৮:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 26

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবারও ধস নেমেছে। করোনা মহামারির কারণে এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। করোনা এবারও ঈদ আনন্দকে মøান করে দিয়েছে। তারপরও সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়েছেন অনেকেই। স্বভাবতই এবার কোরবানির সংখ্যা ছিল কম। সেক্ষেত্রে কোরবানির পশুর চামড়ার চাহিদা বেশি হলে এর দাম হওয়া উচিত ছিল বেশি।

 কিন্তু বাস্তবে ঘটছে এর উল্টোটি। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ‘পানির দরে’। ১ লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ১ হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়নি। অথচ তিন-চার বছর আগে ৫০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়াই কেনাবেচা হতো ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। এবার প্রকারভেদে গরুপ্রতি চামড়া ১০০ থেকে ৪০০ এবং ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ৫০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। কোথাও কোথাও ছাগলের চামড়া কেনা হয়েছে মাত্র ৫ টাকায়! 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে। গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকার জন্য প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ এবং ঢাকার বাইরের জন্য ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা। এ ছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দাম গত বছরের নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি। বস্তুত গত বছরও কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ‘পানির দরে’। চামড়ার দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় দেশের অন্যতম এ রফতানি পণ্যটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দেয় হতাশা। উপযুক্ত দাম না পেয়ে অনেকে সেগুলো মাটিতে পুঁতে কিংবা রাস্তায় ফেলে দেন।

চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় মৌসুম কোরবানির ঈদ। এ সময় মোট চামড়ার ৮০ শতাংশ সংগৃহীত হয়ে থাকে। ফলে এ সময়টায় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট চামড়ার দাম নিয়ে কারসাজি শুরু করে। শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাবে কয়েক বছর ধরে ঈদের আগেই কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। তারপরও দেখা যায়, সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারেন না। কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে গত বছরও সৃষ্টি হয়েছিল এমন পরিস্থিতি। আর এরই প্রেক্ষাপটে সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়।
আমরা মনে করি, নির্ধারিত দামে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচার ব্যাপারে চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। চামড়ার মূল্যহ্রাসের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।

চামড়া খাতে আমাদের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বিশ্ববাজারে প্রতিবছর ২২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চামড়াজাত পণ্যের বাণিজ্য হয়। বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বড় বাজার ইতালি। এর পরই রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্পেন ও ফ্রান্স। এর বাইরে জাপান, জার্মানি, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডসেও সীমিত আকারে চামড়া রফতানি হয়। এখন ভারত, নেপাল, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার পাইকারি ক্রেতারাও বাংলাদেশ থেকে চামড়াজাত পণ্য নিচ্ছেন। ফলে ট্যানারি মালিক এবং এ শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা মোটেই কাম্য নয়। এ অবস্থার অবসানে সরকার সঠিক তদারকির পাশাপাশি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]