ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বিশ্বব্যাপী বন্যার কারণ কী?
শাহেরীন আরাফাত
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ৮:৫৪ পিএম আপডেট: ২৫.০৭.২০২১ ২:১৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 177

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফিলিপাইন, ভারত, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এরমধ্যে চীন আর ইউরোপে বন্যার প্রকোপ নজিরবিহীন। সামনে অপেক্ষা করছে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বিরূপ পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে গ্রিন হাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধিজনিত জলবায়ু পরিবর্তন। তাদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে বৃষ্টিপাত। যার কারণে বেড়েছে বন্যার ভয়াবহতা।

এক হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীন। দেশটির হেনান প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যায় অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশও সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়।  জার্মানি ও বেলজিয়ামে বন্যায় প্রাণ হারান দুই শতাধিক মানুষ। জার্মানির ক্ষেত্রে এটি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

এ ছাড়া বন্যার প্রকোপ রয়েছে ফিলিপাইনে। মৌসুমি ঝড়বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে বন্যা। এদিকে ভারতের মহারাষ্ট্রে কয়েকদিনের টানা বর্ষণের কারণে বন্যায় অন্তত ১৩৮ জন মারা গেছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের অন্তত ৫৪টি গ্রামে। তুরস্কেও বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।  রিজে ও আর্তভিন প্রদেশে সড়ক-মহাসড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর মুনাফালোভী উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে। ফলে হিমালয়ের হিমবাহ ও গ্রিনল্যান্ডের বরফের আচ্ছাদন দ্রুততার সঙ্গে কমছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হিমবাহের বরফ গলার তীব্রতা বাড়লে আমাদের মতো নিম্নভূমির ভূখণ্ডের জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র সমতল বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি ও দাবদাহ আরও বাড়বে। ফলে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিপদাপন্ন হয়ে উঠবে, যার কিছু কিছু এরই মধ্যে দৃশ্যমান। অন্যদিকে সুপেয় পানির অভাবে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য রোগের প্রকোপ তীব্রতর হবে, বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই সতর্ক করছেন মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তাপ প্রবাহ আরও বেশি আকারে দেখা দেবে। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইড্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক হান্নাহ ক্লোক বলেন, ‘ইউরোপজুড়ে বন্যার কারণে যে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, সেই ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব ছিল। উত্তর গোলার্ধের অন্যান্য অংশও এখন রেকর্ড পরিমাণ তাপ প্রবাহ এবং দাবানলে আক্রান্ত। এটি আমাদের জন্য একটি হুঁশিয়ার বার্তা, এক উত্তপ্ত বিশ্বে আমাদের আবহাওয়া কেমন হতে পারে।’

সিঙ্গাপুরের সোশ্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিজ্ঞানী কোহ তিয়েহ ইয়ং জানান, কোনো এলাকা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কতটা আক্রান্ত তা বুঝার জন্য নদী পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বোঝাপড়াটা জরুরি। এটি নগর-গ্রাম সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, বন্যা দুটি কারনে হয়ে থাকে- এক. স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ও জোরালো বৃষ্টিপাত এবং দুই. বৃষ্টির পানি ধরে রাখার প্রর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা। চীন বা ইউরোপে যে বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে পানি সরে যাওয়ার ব্যবস্থা নেই, এমনটি ছিল না; কিন্তু টানা বৃষ্টিপাত ও এর মাত্রা এতো বেশি ছিল যে, সেখানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। আর সেটি জলবায়ু পরিবর্তনেরই বহিঃপ্রকাশ।

এ প্রসঙ্গে হার্ভার্ডের জন এফ কেনেডি স্কুলের পরিবেশ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক জন পি হোলড্রেন বলেন, ‘এগুলো যে ঘটবে তা জলবায়ু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কয়েক দশক আগে থেকেই ধারণা করা হয়েছিল। তবে আগে যে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনেক দ্রুত দেখা দিচ্ছে।’

চীনের ঝেংঝও বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ঝও কুইটিং বলেন, ‘আমরা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, এটিকে মনে করতে পারেন একটি স্পঞ্জের ওপর এক মগ পানি ফেলা হলো। তা সে শুষে নিতে পারে; কিন্তু যদি এখানে পুরো একটা বালতি পানি ফেলা হয়, তাহলে কি সে ওই পানি শুষে নিতে পারবে। এখানে এতো বেশি বৃষ্টি হয়েছে যে, ওই পানি ধরে রাখা সম্ভব ছিল না।’

/এসএ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]