ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

অসাধারণ বলতেন, অসাধারণ লিখতেন
কুমার বিশ্বজিৎ
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ১১:৪৫ পিএম আপডেট: ২৫.০৭.২০২১ ১২:১০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 103

আমাদের সিঙ্গার অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ছিলেন ফকির আলমগীর ভাই। উনি আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো পছন্দ করতেন। আমাকে এক দিন উনি বললেন, ‘আমরা তো অনেক চেষ্টা করলাম। কিছুই করতে পারলাম না। এখন তিনটা সংগঠন এক হয়ে সঙ্গীত ঐক্য হয়েছে। ভালো কিছু হবে। এটা যেন পিকনিক সংগঠন না হয়।’ উনার এ কথাটা আমাকে স্পর্শ করেছে। উনার মতো অসাধারণ লেখনী আর কেউ নেই। আমি দেখিনি।

তার লেখার গাঁথুনি ছিল অন্যরকম। অসাধারণ বলতেন, অসাধারণ লিখতেন। গণসঙ্গীত নিয়ে নিজের আইডেনন্টিটি করা, শ্রমজীবী মানুষকে নিয়ে গান করা- এই চেতনাবোধটুকু অনেক। একজন শিল্পী গান করেন। কিন্তু গণমানুষের জন্য গান করার চেতনা, এটা আমি কারোর ভেতর দেখিনি। বাঙালির প্রতিটা আন্দোলন-সংগ্রামে সোচ্চার হয়ে গান গাইতে দেখেছি আলমগীর ভাইকে।

এত পরোপকারী মানুষ ছিলেন। কারও কোনো বিপদ শুনলেই এগিয়ে আসতেন। সত্যি বলতে কি একজন অভিভাবক চলে গেল। এই পেন্ডামিক আমাদের অনেককেই নিয়ে গেল। সঙ্গীত নিয়ে ভাবতেন তারা। বাংলা সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করার যে চেষ্টা ছিল এ ধরনের মানুষ এক দিনে জন্মাবে না। উনি ক্ষণজন্মা। একে একে সবাইকে হারিয়ে ফেলছি। বাংলা সঙ্গীতের প্রতি তার আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ফকির আলমগীর ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। আজ সব চোখে ভাসছে। আমি কুমার বিশ্বজিৎ হওয়ার আগে থেকে ফকির আলমগীর ভাইয়ের সঙ্গে পরিচিত। চট্টগ্রামে আমি যখন রিদম ব্যান্ড করি, তখনই উনার দৃষ্টিতে পড়ি। উনি চট্টগ্রামে গেলে আমাকে নিয়ে স্টেজ শো করতেন। তার সঙ্গে গিটার বাজিয়েছি আমি।

ফিরোজ সাঁই, আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, পিলু মমতাজ, ফকির আলমগীর একসঙ্গে যখন গান করতেন তখন থেকেই গভীর জানাশোনা হয়েছিল। আমরা বিভিন্ন দেশে ঘুরেছি। স্টেজ শো করেছি। বলতে গেলে, আমরা একেবারে পরিবারের মতো ছিলাম। উনার ছেলের বিয়ে থেকে শুরু করে, পরিবারের যেকোনো অনুষ্ঠানে আমি বাদ পড়িনি। আমি প্রথম ইউরোপে গেলাম। কোনো সময় একই হোটেলে উঠেছি, আবার কোনো সময় রুমমেটও হয়েছিলাম।

একবার তিনি লাগেজ থেকে মুড়ি, পেঁয়াজ ও সরিষার তেল বের করলেন। লাগেজের এক পাশ থেকে অনেকগুলো ছবিও বের করলেন। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, এগুলো বাংলাদেশ থেকে কেন আনলেন। তিনি বললেন, ‘একটু পরই বুঝতে পারবি।’ কিছুক্ষণের মধ্যে ভাবী ও ছেলেদের ছবি দিয়ে পুরো রুম সাজিয়ে ফেললেন। বললেন, ‘ছবিগুলো দেখলে মনে হবে ঘরে আছি।’ উনার মতো পরিবারপাগল মানুষ আমি কমই দেখেছি। বিকাল হলেই মুড়িমাখা খাওয়ার জন্য ডাকতেন। বিমানে ওঠা থেকে শুরু করে হোটেল পর্যন্ত উনি আমার সঙ্গেই থাকতেন। এমনকি বিমানে আমার পাশের আসনেই বসতেন।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফকির আলমগীর   গণসঙ্গীত  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]